প্রচ্ছদ জাতীয় আ.লীগ নেতাকে চেয়ারম্যান পদ থেকে অব্যাহতি

আ.লীগ নেতাকে চেয়ারম্যান পদ থেকে অব্যাহতি

দীর্ঘদিন ইউনিয়ন পরিষদের মাসিক সভা ও দাপ্তরিক কার্যক্রমে অনুপস্থিত থাকায় নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার ৪ মাঘান-সিয়াধার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবু বকর সিদ্দিককে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

আবু বকর সিদ্দিক মোহনগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি।

তার স্থলে পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান-১ মো. নজরুল ইসলাম মাসুদকে ইউনিয়ন পরিষদের আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে।

সোমবার (১৮ মে) স্থানীয় সরকার বিভাগের নেত্রকোনা উপপরিচালক মো. আরিফুল ইসলাম সরদার স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

মঙ্গলবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মোহনগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা খাতুন।

অফিস আদেশে বলা হয়, চেয়ারম্যান আবু বকর সিদ্দিক দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়ন পরিষদের মাসিক সভাসহ বিভিন্ন দাপ্তরিক কার্যক্রমে অনুপস্থিত থাকায় পরিষদের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছিল। ফলে সাধারণ সেবাগ্রহীতারা প্রত্যাশিত নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন।

এ অবস্থায় ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক ও নাগরিক সেবা কার্যক্রম সচল রাখতে প্যানেল চেয়ারম্যান-১ এর কাছে পরিষদের আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা অর্পণের সুপারিশ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। পরে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর ৩৩ ধারা এবং ১০১ ও ১০২ ধারা প্রয়োগপূর্বক স্থানীয় সরকার ইউপি-১ শাখার ১৯ আগস্ট ২০২৪ সালের ৬৮৪ নম্বর পরিপত্রের আলোকে প্যানেল চেয়ারম্যান-১ মো. নজরুল ইসলাম মাসুদকে সাময়িকভাবে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়।

এদিকে চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি ওই ইউনিয়ন পরিষদের ৯টি ওয়ার্ডের সব সদস্য, চেয়ারম্যান আবু বকর সিদ্দিকের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, স্বেচ্ছাচারিতা, হয়রানি এবং সদস্যদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ তোলেন।

অভিযোগে সদস্যরা উল্লেখ করেন, চেয়ারম্যান পরিষদের সদস্যদের মতামত ছাড়াই এককভাবে বাজেট ও বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতেন। ইউনিয়ন পরিষদের ট্যাক্স, জন্ম নিবন্ধন ফিসহ বিভিন্ন খাতের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও আনা হয় তার বিরুদ্ধে। এছাড়া প্রকল্প দেওয়ার কথা বলে ইউপি সদস্যদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া এবং পরে হয়রানি করার অভিযোগও রয়েছে। দুই নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আল আমিনের কাছ থেকে দুটি প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, পরিষদের কাজে পরামর্শ চাইলে চেয়ারম্যান সদস্যদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করতেন এবং কোনো ধরনের সহযোগিতা করতেন না। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে ইউনিয়ন পরিষদের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে তার বহাল থাকা কাম্য নয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করেন সদস্যরা।

এ বিষয়ে জানতে আবু বকর সিদ্দিকের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।