
রাজধানীতে মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির বিরুদ্ধে ট্রাফিক পুলিশের অভিযান ও মামলা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। অনেক নাগরিকের অভিযোগ, সড়কের বড় সমস্যাগুলো অমীমাংসিত রেখেই তুলনামূলক সহজ টার্গেট হিসেবে বাইকার ও প্রাইভেট কার চালকদের বিরুদ্ধে বেশি অভিযান চালানো হচ্ছে।
ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগের ৩০ মার্চের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিভিন্ন বিভাগে মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মামলা হয়েছে। ট্রাফিক-গুলশান বিভাগে ২৭২টি মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে মামলা হলেও বাসের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে ৪০টি। মিরপুর বিভাগে ১০৫টি মোটরসাইকেল ও ১৬টি বাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। একইভাবে উত্তরা বিভাগে ১০৮টি মোটরসাইকেলের বিপরীতে বাসের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে ৩৫টি।
এই পরিসংখ্যান সামনে এনে সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—সড়কে প্রকৃত বিশৃঙ্খলার উৎসগুলো কি যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে?
নাগরিকদের মতে, রাজধানীর যানজট ও বিশৃঙ্খলার অন্যতম বড় কারণ যত্রতত্র বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করানো। অনেক সময় ট্রাফিক পুলিশের সামনেই রাস্তার মাঝখানে দীর্ঘ সময় বাস দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। পাশাপাশি ফুটপাত দখল, অবৈধ পার্কিং ও অনিয়ন্ত্রিত অটোরিকশার চলাচলও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে।
বিশেষ করে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা গেছে। অনেকেই অভিযোগ করছেন, অধিকাংশ অটোরিকশার কোনো বৈধ লাইসেন্স বা নিবন্ধন নেই। চালকদের বড় একটি অংশের নেই প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ বা ড্রাইভিং অভিজ্ঞতা। ফলে তারা ইচ্ছামতো লেন পরিবর্তন, হঠাৎ ইউটার্ন, উল্টো পথে চলাচল এবং যত্রতত্র থামানোর মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করছেন।
একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, `রাস্তার সবচেয়ে বেপরোয়া যান এখন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। না আছে নিয়ম, না আছে নিয়ন্ত্রণ।’
আরেকজন মন্তব্য করেন, `একদিকে বিদ্যুতের সংকট, অন্যদিকে হাজার হাজার অবৈধ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা প্রতিদিন চার্জ হচ্ছে। এতে বিদ্যুতেরও অপচয় হচ্ছে।’
সামাজিক মাধ্যমে অনেকে দাবি করছেন, প্রতিদিনই রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় অটোরিকশা সংশ্লিষ্ট ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। অদক্ষ চালনা, অতিরিক্ত গতি এবং ট্রাফিক আইন না মানার প্রবণতার কারণে পথচারী ও অন্যান্য যানবাহনের চালকরাও ঝুঁকিতে পড়ছেন।
তবে সড়ক নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, শুধু একটি নির্দিষ্ট যানবাহনকে লক্ষ্য করে অভিযান চালালে কাঙ্ক্ষিত শৃঙ্খলা ফিরবে না। ব্যক্তিগত গাড়ি, মোটরসাইকেল, বাস, ট্রাক, সিএনজি ও অটোরিকশাসহ সব ধরনের যানবাহনের ক্ষেত্রেই সমানভাবে আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে গণপরিবহনের অনিয়ম, অবৈধ অটোরিকশা, ফুটপাত দখল এবং যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর জোর দিচ্ছেন তারা।
নগরবাসীর প্রত্যাশা, সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় যেন দৃশ্যমান ও নিরপেক্ষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়, যাতে সাধারণ মানুষ নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক নগর পরিবহন ব্যবস্থা পায়।













































