
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার রেললাইন এলাকার একটি পরিত্যক্ত ভবনের তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে হোসাইন নামে ১১ বছর বয়সী শিশুর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় রহস্য উদঘাটনের কথা জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ বলছে, ‘জেল খাটলে কেমন লাগে, কেমন অভিজ্ঞতা হয়’- এই কৌতূহল ৬ শিশু ও কিশোর মিলে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সী ওই ঘটনায় নিহত ভিকটিমের পরিচয় শনাক্ত ও ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনের দাবি করেন। এর আগে ২৪ এপ্রিল বিকেলে ফতুল্লার রেললাইন এলাকার একটি পরিত্যক্ত ভবনের তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে অজ্ঞাত পরিচয় এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পরে জানা যায় শিশুটির নাম হোসাইন। বয়স ১১ বছর। গত ১৮ এপ্রিল বাসা থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ ছিল হোসাইন।
শিশু হোসাইন হত্যা মামলার তদন্তে নেমে হত্যার পেছনে চাঞ্চল্যকর এক কারণ খুঁজে পেয়েছে বলে জানান পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান।
পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকা ছয়জন শিশু ও কিশোর কেবল ‘জেল খাটার অভিজ্ঞতা’ পাওয়ার কৌতূহল থেকে শিশু হোসাইনকে হত্যা করে। জড়িত ৬ জনের মধ্যে ৫ জনকে ইতোমধ্যেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছয়জনের বয়স ১৪ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে। এজন্য নাম প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনায় জড়িতদের একজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, গত ১৮ এপ্রিল ফতুল্লার শিয়াচর এলাকার ফুল বিক্রেতা সুমনের ছেলে হোসাইন নিখোঁজ হয়। ছয় দিন পর গত শুক্রবার শিশুটির মরদেহ ফতুল্লা রেল লাইন এলাকার একটি পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।
নিখোঁজের দিন সকালে শিশুটি ওই পরিত্যক্ত বাড়ির সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় অভিযুক্তরা তাকে গাঁজা সেবনের প্রলোভন দেখিয়ে ভেতরে নিয়ে যায়। পরে সেখানে ছয়জন মিলে হোসাইনকে হত্যা করে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তরা সবাই মাদকাসক্ত। তারা জেল খাটলে কেমন লাগে, কেমন অভিজ্ঞতা হয় এই কৌতূহল থেকে কাউকে হত্যার পরিকল্পনা করে। ওই দিনই দুর্ভাগ্যবশত শিশু হোসাইন ওই পথ দিয়ে যাচ্ছিলো। পুরনো কোনো দ্বন্দ্ব না থাকার পরও শিশুটিকে অভিযুক্তরা চাকু দিয়ে বেশ কয়েকবার আঘাত করে হত্যা করে। হত্যার পর মরদেহটি সেখানে ফেলেই পালিয়ে যায়। তবে, মরদেহের বিষয়ে খোঁজ রাখতে আরেক কিশোরকে ওই হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি জানানো হয়। মরদেহটি উদ্ধারের পর তদন্তে নামে পুলিশ প্রথমে ওই কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর ১৮ বছর বয়সী ওই কিশোর পুলিশকে হত্যার কারণ সম্পর্কে পুরো ঘটনা খুলে বলে।
পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সী বলেন, কিশোরের দেওয়া তথ্যে পুলিশ গত রোববার দুইজনকে বরিশাল থেকে এবং বাকিদের ফতুল্লার বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। তাদের স্থায়ী বাড়ি বিভিন্ন জেলায় হলেও পরিবারের সঙ্গে ফতুল্লা এলাকায় ভাড়া থাকে। অভিযুক্তদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরিত্যক্ত ভবনটির একপাশে ময়লার স্তূপ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাকুটিও উদ্ধার করেছে পুলিশ।













































