প্রচ্ছদ জাতীয় ফুটেজে শনাক্ত হলো হামলাকারী ও ইন্ধনদাতারা

ফুটেজে শনাক্ত হলো হামলাকারী ও ইন্ধনদাতারা

রাজধানীর শাহবাগ থানার ভেতরে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (ডুজা) অন্তত ১০ সাংবাদিক হামলার শিকার হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার রাত আটটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় রোববার (২৬ এপ্রিল) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির পক্ষ থেকে ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে হামলাকারীদের শনাক্ত করা হয়।

হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও শাস্তিসহ তিন দফা দাবি জানিয়েছে সমিতি। ডুজার পক্ষ থেকে জানানো হয়, বৃহস্পতিবারের এই হামলার আগের দিন বুধবারও বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি হলে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা কয়েকজন সাংবাদিককে হেনস্তা ও হুমকি দিয়েছিলেন।

সমিতির দেয়া তথ্যমতে, বৃহস্পতিবারের ওই হামলায় আহত হন ডুজার সভাপতি মানজুর হোছাঈন মাহি (কালের কণ্ঠ), সাধারণ সম্পাদক লিটন ইসলাম (আগামীর সময়), নাইমুর রহমান ইমন (ডেইলি অবজারভার), খালিদ হাসান (দেশ রূপান্তর), সামশুদৌজা নবাব (ঢাকা ট্রিবিউন), মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেন সিফাত (ঢাকা মেইল), হারুন ইসলাম (নয়া দিগন্ত), সৌরভ ইসলাম (রাইজিংবিডি ডটকম) এবং আসাদুজ্জামান খানসহ (মানবজমিন) অন্তত ১০ সাংবাদিক।

এদিকে, সংগৃহীত এবং মূলধারার গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জড়িত বেশ কয়েকজন হামলাকারী ও ইন্ধনদাতাকে শনাক্ত করা হয়েছে। ফুটেজে দেখা যায়, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী এবং বিজয় একাত্তর হলের আবাসিক ছাত্র সাজ্জাদ হোসেন মাটিতে পড়ে থাকা সাংবাদিকদের লাথি মারছেন। তিনি ২০২৫ সালের ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে বিজয় একাত্তর হলে ছাত্রদল সমর্থিত সহ-সভাপতি প্রার্থী ছিলেন। একইভাবে মাটিতে পড়ে থাকা সাংবাদিকদের লাথি ও চড় মারতে দেখা যায় ইনস্টিটিউট অব লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজির লেদার ইন্সটিউটের (২০২২-২৩ সেশন) শিক্ষার্থী ও শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের আবাসিক ছাত্র সানিন সৈয়দকে। তিনি ওই হলে ছাত্রদল সমর্থিত কার্যকরী সদস্য প্রার্থী ছিলেন।

হামলার অন্য ফুটেজগুলোতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ২০১৫-১৬ সেশনের শিক্ষার্থী জুবায়ের আহমেদ এবং বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ও ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০১২-১৩ সেশনের শিক্ষার্থী সৈকত মোর্শেদকে সাংবাদিকদের ধাক্কা দেওয়া ও আঘাত করতে দেখা যায়। এছাড়া ইংলিশ ফর স্পিকারস অফ আদার ল্যাঙ্গুয়েজেস (ইসল)-এর ২০২৫-২৬ সেশনের শিক্ষার্থী আশ শামসকেও একাধিক ফুটেজে ভিড়ের মধ্যে ঢুকে সাংবাদিকদের আঘাত করতে দেখা গেছে।

হামলার সময় আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে ও সাংবাদিকদের দিকে তেড়ে যেতে দেখা গেছে আরো কয়েকজনকে। এর মধ্যে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ও ফিন্যান্স বিভাগের (২০১১-১২ সেশন) শিক্ষার্থী আমান উল্লাহ, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের (২০২১-২২ সেশন) জোহিন ফেরদৌস জামি, বিজয় একাত্তর হল ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংস্কৃত বিভাগের (২০২২-২৩ সেশন) সাঈদ হাসান সাদ, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল ছাত্রদলের সদস্য সচিব ও ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের (২০২২-২৩ সেশন) জুনায়েদ আবরার এবং মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের (২০২০-২১ সেশন) শিক্ষার্থী রিজভী আলম। এদের মধ্যে জোহিন ফেরদৌস জামিকে হামলার পর একজন আক্রান্ত সাংবাদিককে জাপটে ধরে রাখতেও দেখা যায়। এছাড়া আমান উল্লাহ হামলার সময় জুবায়েরের পাশে থাকলেও তাকে আঘাত করতে দেখা যায়নি। অন্যদিকে জুনায়েদ আবরারকে হামলার শুরুতে তেড়ে যেতে দেখা যায়। এই শনাক্তকৃতদের বাইরে আরো ৪ জনকে হামলা করতে দেখা যায়, যারা ছাত্রদলের কর্মী হলেও তাদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের অভিযোগ, হামলায় অংশ না নিলেও বেশ কয়েকজন উসকানি দিয়ে এই হামলার সূচনা করেন। জানা গেছে, হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবুজার গিফারি ইফাত নেতাকর্মীদের উসকে দিয়ে হামলার সূত্রপাত করেন। এছাড়া অন্যান্য ইন্ধনদাতাদের মধ্যে ছিলেন মুহসীন হল ছাত্রদলের সদস্য সচিব মনসুর রাফী, সূর্যসেন হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক মনোয়ার হোসেন প্রান্ত, ঢাবি ছাত্রদলের সাবেক স্কুল বিষয়ক সম্পাদক সফি ওবায়দুর রহমান সামিথ এবং ছাত্রদল কর্মী মোমিতুর রহমান পিয়াল ও কারিব চৌধুরী।