
ভারত ও চীন থেকে মানুষ শুধু যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দিতে আসে—এমন দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এই মন্তব্যকে অযৌক্তিক ও রুচিহীন বলে কঠোর সমালোচনা করেছে ভারত।
বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল ট্রাম্পের বক্তব্যের জবাব দেন। তিনি বলেন, এই মন্তব্য তথ্যভিত্তিক নয়, অনুপযুক্ত এবং শালীনতার সীমা লঙ্ঘন করে।
এর আগে সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প ভারতকে “নিকৃষ্ট স্থান” হিসেবে উল্লেখ করেন এবং ভারতীয় অভিবাসীদের নিয়েও নেতিবাচক মন্তব্য করেন, যা ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।
জয়সওয়াল আরও বলেন, এ ধরনের বক্তব্য ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে না। দুই দেশের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরে পারস্পরিক সম্মান ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে।
এদিকে মার্কিন কংগ্রেস সদস্য অ্যামি বেরা, যিনি ভারতীয় অভিবাসী পরিবারের সন্তান, ট্রাম্পের মন্তব্যকে অপমানজনক ও অজ্ঞতাপূর্ণ বলে অভিহিত করেছেন।
এছাড়া হিন্দু আমেরিকান ফাউন্ডেশন মন্তব্যটিকে ঘৃণামূলক ও বর্ণবাদী বলে নিন্দা জানিয়েছে।
এই বিতর্কিত মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আগামী মাসে ভারত সফরে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। সফরের উদ্দেশ্য দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক টানাপোড়েন কমানো।
ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতি এবং ভিসা ইস্যু নিয়ে আগে থেকেই কিছুটা উত্তেজনা ছিল। বিশেষ করে প্রযুক্তিখাতে কর্মরত ভারতীয়দের ভিসা ও বাণিজ্য শুল্ক নিয়ে দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে।
এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ মার্কিন রেডিয়ো উপস্থাপক মাইকেল স্যাভেজের একটি বক্তব্য শেয়ার করেন। সেখানে স্যাভেজ আমেরিকায় জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের নীতির সমালোচনা করতে গিয়ে ভারত ও চীন-সহ একাধিক দেশকে ‘পৃথিবীর নরক’ বলে উল্লেখ করেন।
স্যাভেজ তার বক্তব্যে দাবি করেন, আমেরিকায় জন্মালে একজন শিশু নাগরিকত্ব পেয়ে যায়। পরে সেই নাগরিকত্বের সুযোগ নিয়ে পরিবারের অন্য সদস্যদেরও বিদেশ থেকে আমেরিকায় নিয়ে আসা হয়। তার কথায়, ‘এখানে জন্ম নেওয়া একটি শিশু সঙ্গে সঙ্গে নাগরিক হয়ে যায়, আর তারপর তারা চীন, ভারত বা পৃথিবীর অন্য কোনো তথাকথিত নরক থেকে তাদের পুরো পরিবারকে নিয়ে আসে।’
সূত্র: এএফপি













































