প্রচ্ছদ জাতীয় মনিরা শারমিনের এমপি হওয়া অনিশ্চিত?

মনিরা শারমিনের এমপি হওয়া অনিশ্চিত?

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল (২২ এপ্রিল) মঙ্গলবার। এদিন জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তবে বড় ধরনের আইনি জটিলতায় পড়েছেন এনসিপি নেত্রী মনিরা শারমিন।

জানা গেছে, সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগের তিন বছর পূর্ণ না হতেই মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ায় এনসিপি নেত্রী মনিরা শারমিনের প্রার্থিতা বাতিলের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ফলে একটি আসন হাতছাড়া হতে পারে ১১ দলীয় জোটের।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) ১২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রজাতন্ত্রের বা সংবিধিবদ্ধ সরকারি কোনো চাকরি থেকে পদত্যাগ বা অবসরের তিন বছর পার না হলে কেউ সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন না। এই নিয়ম সংরক্ষিত নারী আসনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন কর্মকর্তারা।

এক্ষেত্রে জামায়াত জোটের প্রার্থী ও এনসিপি যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন রাষ্ট্রায়ত্ত কৃষি ব্যাংক থেকে পদত্যাগ করেছেন মাত্র চার মাস আগে (ডিসেম্বর ২০২৫)। অথচ আইনি বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী এই সময়সীমা হতে হবে ৩৬ মাস বা তিন বছর।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ে জামায়াত জোট ১৩টি আসনের বিপরীতে ১৩ জন প্রার্থীর তালিকা দিয়েছিল। যদি একজনের প্রার্থিতা বাতিল হয়, তবে ওই আসনটি সবার জন্য ‘উন্মুক্ত’ হয়ে যাবে। আর এতে লাভবান হবে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি। যেহেতু বর্তমানে সংসদে বিএনপি জোটের আসনসংখ্যা বেশি।

ফলে আসনটি উন্মুক্ত হলে এবং নতুন তফসিলে ভোট হলে বিএনপি জোটের আসনসংখ্যা ৩৬ থেকে বেড়ে ৩৭ হতে পারে। আর এতে জামায়াত জোটের আসন ১৩টি থেকে কমে ১২টিতে নামতে পারে।

আইনি জটিলতা নিয়ে জোট সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, ‘মনোনয়নপত্র বাতিল হবে না বলেই আমরা বিশ্বাস করি।’

মনিরা শারমিন দাবি করেন, কৃষি ব্যাংক একটি বিশেষায়িত ব্যাংক এবং তার পদটি রাষ্ট্রের কোনো লাভজনক পদ ছিল না। এটি সরাসরি নির্বাচন নয়, বরং দল কর্তৃক মনোনয়ন, তাই আইনের এই জায়গাটি অত গুরুত্ব দেওয়া হয় না।