
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে বিএনপি ও সাবেক ছাত্রদল নেতা ফরহাদ হোসেনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার ভান্নারা এলাকার হোপলোন কারখানা এলাকায় এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, কারখানার ঝুট উত্তোলনের ‘ডিউ’ (অনুমতি) নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। মঙ্গলবার সাবেক উপজেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হারুন অর রশিদ ঝুট বের করতে গেলে ফরহাদ হোসেন বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে এগিয়ে আসেন। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়ে তা দ্রুত সংঘর্ষে রূপ নেয়।
অভিযোগ রয়েছে, উত্তেজনার মধ্যে হারুন ও তার সহযোগীরা ফরহাদ হোসেনের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালান। এতে ফরহাদ গুরুতরভাবে আহত হন। পরে ফরহাদ সমর্থিত লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে হারুনের গাড়িতে ভাঙচুর চালায়। এসময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও হামলার ঘটনা ঘটে, এতে অন্তত ১০ জন আহত হন।
আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় ফরহাদ হোসেনকে উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্য আহতদেরও স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ফরহাদ পক্ষের অভিযোগ, হারুন অর রশিদের নামে পূর্বে যে ‘ডিউ’ (অর্ডার) ইস্যু করা হয়েছিল, তার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। পরবর্তীতে দলীয়ভাবে মৌখিক নির্দেশে ফরহাদকে ঝুট উত্তোলনের দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু হারুন জোরপূর্বক মালামাল বের করতে গেলে বাধা দেওয়ায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
হারুন অর রশিদ দাবি করেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিয়ম মেনে উক্ত কারখানা থেকে ঝুট সংগ্রহ করে আসছেন। মঙ্গলবার ঝুট নিতে গেলে ফরহাদ ও তার লোকজন বাধা দিয়ে তার কর্মীদের মারধর এবং গাড়ি ভাঙচুর করে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে গাজীপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ব্যারিস্টার চৌধুরী ইশরাক আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, ‘আপনাদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি। ঘটনাটি খুবই নিন্দনীয় কাজ। বিএনপি এসব কখনোই প্রশ্রয় দেবে না। এর তদন্ত হওয়া উচিত।
কালিয়াকৈর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঝুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে এবং এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনা বিরাজ করলেও বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখেছে বলে জানান তিনি।











































