প্রচ্ছদ অপরাধ ও বিচার একই পরিবারের ৪ জনকে গলা কেটে হত্যা, নেপথ্যে যে কারণ

একই পরিবারের ৪ জনকে গলা কেটে হত্যা, নেপথ্যে যে কারণ

নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলায় একই পরিবারের চারজনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনাটি ডাকাতি নয়, বরং জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের বাবা, দুই বোন ও এক ভাগনেসহ মোট চারজনকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। তারা হলেন- নিহত হাবিবুর রহমানের বাবা নমির উদ্দিন (৭০), বোন ডালিমা ও হালিমা এবং ভাগনে সবুজ রানা (২৫)।

পুলিশ সুপার জানান, ঘটনাস্থল পর্যবেক্ষণ করে এটিকে পেশাদার ডাকাত দলের কাজ বলে মনে হচ্ছে না। তিনি বলেন, নিহত গৃহবধূর কানে এখনো সোনার গহনা অক্ষত রয়েছে। যদি ডাকাতির উদ্দেশ্য হতো, তবে এগুলো দুর্বৃত্তরা নিয়ে যেত। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহ বা জমিজমা সংক্রান্ত কোনো পুরনো শত্রুতার জেরে এই নৃশংসতা চালানো হয়েছে।

এর আগে সোমবার (২০ এপ্রিল) মধ্যরাতে উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামে একই পরিবারের চারজনকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। নিহতরা হলেন- উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের নমির উদ্দিনের ছেলে হাবিবুর রহমান (৩২), তার স্ত্রী পপি সুলতানা (২৫), ছেলে পারভেজ (৯) এবং তিন বছরের মেয়ে সাদিয়া আক্তার।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাতের কোনো এক সময় বাড়ির ভেতরেই পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। ফজরের নামাজের পর দরজা খোলা দেখে প্রতিবেশীরা ভেতরে ঢুকলে তাদের মরদেহ দেখতে পান। পরে থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে হাবিবুর রহমানের বোন শিরিনার সঙ্গে পারিবারিক দ্বন্দ্ব চলছিল। এ নিয়ে আগেও তাদের হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ঘটনায় নিহত পপি সুলতানার বাবা মোয়াজ্জেম হোসেন অভিযোগ করেন, তার মেয়ের ননদ শিরিনা ও তার ছেলে সবুজ রানা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। এর আগেও তারা তার মেয়ে ও জামাইকে হত্যার চেষ্টা করেছে বলে দাবি করেন তিনি।