
যশোরের শার্শায় পুলিশ সদস্যকে পেটানো মামলার প্রধান আসামি উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামাল মিন্টুকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে মবের শিকার হয়েছে পুলিশ। মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে তার অনুসারী ও এলাকাবাসীকে জড়ো করে মিন্টুকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (৫ জুন) বিকেলে শার্শা উপজেলার শ্যামলাগাছি গ্রামে ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে অভিযুক্ত বিএনপি নেতার দাবি, ওয়ারেন্ট ছাড়াই পুলিশ জোরপূর্বক তাকে তুলে নেয়ার চেষ্টা করে। এ সময় এলাকাবাসী পুলিশকে বাঁধা দিয়েছে।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে শার্শা থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের যৌথ টিম শ্যামলাগাছি গ্রামে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামাল মিন্টুকে তার বাড়ির সামনে থেকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় মিন্টুর সমর্থকরা গ্রামের একাধিক মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে এলাকাবাসীকে প্রতিরোধের আহ্বান জানায়। মাইকের ঘোষণা শুনে কয়েকশত নারী-পুরুষ সেখানে জড়ো হয়ে পুলিশ সদস্যদের ঘিরে ফেলে। এ সময় মব সৃষ্টি করে আসামি মোস্তফা কামাল মিন্টুকে ছিনিয়ে নেয় এলাকাবাসী। একপর্যায়ে পুলিশ ফিরে যেতে বাধ্য হয়। এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী জানায়, গ্রামের মসজিদের মাইকে মিন্টুকে পুলিশ ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তুলে নিয়ে যাচ্ছ বলে ঘোষণা দেয়া হয়। তাকে মুক্ত করতে গ্রামবাসীকে এগিয়ে আসারও আহ্বান জানানো হয়। এমন ঘোষণা শুনে কয়েক শত নারী-পুরুষ সেখানে জড়ো হয়ে পুলিশকে ঘিরে ফেলে। গ্রেপ্তার করলেও জনরোষে মিন্টু রেখেই চলে যায় পুলিশের টিম।
জানা গেছে, স্থানীয় শ্যামলাগাছি গ্রামের মশিয়ার রহমানের ছেলে মামুন হাসান জুয়েল বর্তমানে টুরিস্ট পুলিশের হেডকোয়ার্টারে নায়েক পদে কর্মরত। ঈদের ছুটিতে গ্রামের বেড়াতে এসে গত ২৯ মে হামলার শিকার হন। পূর্ব শত্রুতার জেরে সন্ত্রাসীরা তাকে মোটরসাইকেল থেকে নামিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। এ ঘটনায় তার ছোটভাই মেহেদী হাসান রয়েল গত ৪ জুন শার্শা থানায় ৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৫ থেকে ৬ জনের নামে মামলা করেন। মামলার প্রধান আসামি করা হয় বিএনপিনেতা মোস্তফা কামাল মিন্টুকে। অপর আসামিরা হলেন- মিন্টুর ভাই লাল্টু হোসেন ও পিন্টু হোসেন, আবদুস সালামের ছেলে সুজন হোসেন ও সবুজ হোসেন, আলাউদ্দিনের ছেলে টিটন হোসেন। শুক্রবার দুপুরে শ্যামলাগাছি গ্রামে আহত পুলিশ সদস্য হাসান মামুনদের বাড়িতে গিয়ে তার ভাই ও বাবাসহ পরিবারের সদস্যদের পাওয়া যাইনি। প্রতিবেশীরা জানান, ছুটি শেষ হওয়ায় মামুন কর্মস্থলে ফিরে গেছেন। পরিবারের সদস্যদের আসামিরা নানাভাবে হুমকি ধামকি দেয়ায় ভয়ে তারাও বাড়িতে ছেড়ে গেছেন।
মামুনের পাশের বাসায় তার ছোট চাচা সফিয়ার রহমানকে পাওয়া গেলেও থাকছেন বাড়ির প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে। তিনি জানান, গণঅভ্যুত্থানের পর চাঁদার দাবিতে তার ভাইয়ের (মামুন হাসানের পিতা) ১৫লাখ টাকার বালু আটকে রেখেছে স্থানীয় সন্ত্রাসীরা। এ ব্যাপারে সম্প্রতি মামুন উপজেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দের কাছে মৌখিক অভিযোগ করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে মিন্টুর নেতৃত্বে তার লোকজন মামুনের উপর হামলা চালায়। আর এ ঘটনায় পুলিশ মিন্টুকে আটক করতে আসায় আসামিরা এখন পুরো পরিবারের উপর ক্ষুব্ধ। আমরা সবাই আতঙ্কে আছি। বাড়িতে ঘুমাতে পারছি না।
তবে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা মোস্তফা কামাল মিন্টুর দাবি, পুলিশ সদস্যকে মারধরের ঘটনায় তিনি জড়িত নই। ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তাকে ফাঁসানো হচ্ছে। আমার বিরুদ্ধে মামলা নেই। ওয়ারেন্ট ছাড়াই জোরপূর্বক পুলিশ আমাকে তুলে নেয়ার চেষ্টা করে। এ সময় এলাকাবাসী জড়ো হয়ে আমাকে মুক্ত করেছে।
শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ মারুফ হোসেন (ওসি) জানান, পুলিশ সদস্যকে মারধরের ঘটনায় ছয়জনের নাম উল্লেখসহ মামলা হয়েছে। ওই মামলার প্রধান আসামি মোস্তফা কামাল মিন্টু। তাকে গ্রেপ্তারের সময় মব সৃষ্টি করে ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।
সূত্র : চ্যানেল 24










































