
শরীয়তপুরের আংগারিয়ায় নিখোঁজ হওয়ার ২৫ দিন পর মনু বেপারী (৬৫) নামে এক ভ্যানচালকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাকে হত্যার পর মরদেহ লুকাতে পুরাতন একটি কবরের মধ্যে রাখা হয় বলে অভিযোগ স্বজনদের। এদিকে ঘটনার পর তার মামাতো ভাইয়ের ছেলে ও স্ত্রী গা ঢাকা দিয়েছেন।
সোমবার (২০ এপ্রিল) বিকেলে সদর উপজেলার আংগারিয়া ইউনিয়নের চর চটাং এলাকার ফারুক মাদবরের বাড়ি থেকে তার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মনু বেপারী তার নানা বাড়িতে বসবাস করতেন। তার স্ত্রী আছিয়া বেগম দুই সন্তান রেখে ১৯ বছর আগে মারা গেলে চার বছর আগে খাদিজা বেগম নামের আরেক নারীকে বিয়ে করেন মনু। তবে সেই স্ত্রী এক বছর আগে মনু বেপারীর জমি বিক্রির সাত লক্ষ টাকা নিয়ে চলে গিয়ে উল্টো তালাক দেয় মনুকে। এরপর থেকেই মনু বাড়িতে একাই থাকতেন। তবে তিনি তার স্ত্রী খাদিজা বেগমের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন।
স্বজনরা জানান, গত ২৫ দিন ধরে হঠাৎ করেই স্বজনদের সাথে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায় মনুর। নিখোঁজের বিষয়টি স্থানীয়রাও খেয়াল করেন। তারা তাকে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করলেও কোনো সন্ধান পাওয়া যায় না। অবশেষে গত ১৩ এপ্রিল পালং মডেল থানায় নিখোঁজের একটি সাধারণ ডায়েরি করেন মনুর বোন মিনারা বেগম।
সোমবার সকালে মনুর বোন মিনারা বেগম বাড়ির পাশে তিন বছর আগে মারা যাওয়া মামাতো ভাই সাহেব আলী মাদবরের কবরে নতুন মাটি দেখতে পেলে সন্দেহের তৈরি হয়। এছাড়াও তার মামাতো ভাইয়ের ছেলে ফারুক মাদবরের পরিত্যক্ত ঘরের মধ্যে একটি রহস্যজনক গর্ত খুঁজে পায় স্থানীয়রা। বিষয়টি স্থানীয়রা পুলিশকে জানালে পুলিশ পুরাতন কবরে মনুর মরদেহ দেখতে পায়। এদিকে ঘটনা চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে মনু বেপারীর মামাতো ভাইয়ের ছেলে ফারুক মাদবর ও স্ত্রী পারভীন গা ঢাকা দেয়। এ ঘটনায় দোষীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি স্বজন ও স্থানীয়দের।
মনু বেপারীর মেয়ে মিম আক্তারের দাবি, তার সৎমা খাদিজা ও বাবার মামাতো ভাইয়ের ছেলে ও ছেলের স্ত্রী মিলে হত্যা করেছে মনুকে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমার বাবার পরে বিয়ে করা স্ত্রী বাবার থেকে ৭ লাখ টাকা নিয়ে বাবাকে ডিভোর্স দেয়। এই ঘটনায় বাবা একটি মামলা করে। সে কারণে সে ক্ষিপ্ত হয়ে বাবার মামাতো ভাইয়ের ছেলে ফারুক ও তার স্ত্রীকে টাকা খাইয়িয়ে বাবাকে মেরে ফেলেছে। তারা লাশ গুম করার জন্য একটি ঘরের মধ্যে মাটিচাপা দিয়ে রেখেছিল, সেখান থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়বে এক ভেবে পুরাতন কবরে রেখে আসছে। আমি আমার বাবার হত্যার বিচার চাই।
মনু বেপারীর বোন মিনারা বেগম বলেন, আমি আমার ভাইকে অনেক জায়গায় খোঁজ করেছি। কিন্তু তাকে খুঁজে পাইনি। আমি থানায় জিডি করেছি। আমার ভাই তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে যে মামলা করেছিল তার আগামীকাল আদালতে শুনানি ছিলো। আমার ভাইয়ের বউ লোকজন দিয়ে আমার ভাইকে মেরে ফেলেছে। আমরা এই ঘটনার সবার বিচার চাই।
বিষয়টি নিয়ে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নড়িয়া সার্কেল) ড. আশিক মাহমুদ বলেন, গত ১৩ তারিখ মনু বেপারীর নিখোঁজের জিডি হয়েছিল। তার অনুসন্ধান করতে এসে নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধান পুরাতন একটি কবরের মধ্যে পাওয়া যায়। আমরা ধারণা করছি কেউ তাকে হত্যা করে মাটির নিচে রেখেছে। মরদেহটি যেহেতু মাটির নিচে তাই ম্যাজিস্ট্রেট ও আদালতের প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি উত্তোলন করে সুরতহাল ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।
সূত্র : জাগো নিউজ













































