প্রচ্ছদ জাতীয় আলোচিত সেই ক্ষুদে ‘খালেদার’ বাবা যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে

আলোচিত সেই ক্ষুদে ‘খালেদার’ বাবা যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে

জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হলেন ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার কলতাপাড়ার শাহ নাসির উদ্দিন রুমন। তিনি বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনে ‘প্রতীকী জেলখানায় বন্দি ক্ষুদে খালেদা’ অভিনয়ে দেশজুড়ে আলোচিত শাহ রুবাইয়া রুবাবার বাবা।

এ নিয়ে দৈনিক যুগান্তরে ‘কারাগারে বন্দি ক্ষুদে খালেদাকে দেখে কাঁদলেন নেতাকর্মীরা’ শিরোনামে অনলাইন ও প্রিন্ট সংস্করণে প্রকাশের পর নেতাকর্মীরাও মুক্তির আন্দোলনকে আরও বেগবান করেন।

রুমন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হওয়ার খবরে ময়মনসিংহের গৌরীপুরে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলসহ বিভিন্ন সংগঠনের মাঝে ব্যাপক আনন্দের জোয়ার বইছে। শহরের কালিপুর মধ্যম তরফ এলাকায় দলীয় নেতাকর্মীরা মিষ্টিমুখ করে উল্লাস করতে দেখা যায়।

শাহ নাসির উদ্দিন রুমন এর আগে যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তার আগে সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। তিনি ফজলুল হক মুসলিম হল ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি পদে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন। এ হলের ছিলেন সাবেক সহ-সভাপতিও।

রুমনের এ প্রাপ্তিতে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও শুভেচ্ছাবার্তা দিয়ে অভিনন্দন জানাচ্ছেন। তিনি ও তার স্ত্রী ময়মনসিংহ উত্তর জেলা মহিলা দলের সভাপতি তানজিন চৌধুরী লিলি এবং এ দম্পতির একমাত্র কন্যা শাহ রুবাইয়া রুবাবাকে নিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ঢাকার রাজপথে ছিলেন লড়াকু।

দলীয় কর্মসূচি পালনে শুধু স্বামী-স্ত্রী নয়, একমাত্র কন্যাকেও নিয়ে বিএনপির চেয়ারপারসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনে স্লোগানে মুখরিত রাখে এ পরিবারটি; যা অনন্য এক দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।

এর আগে বুধবার (৩ জুন) আবদুল মোনায়েম মুন্নাকে সভাপতি এবং মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নকে সাধারণ সম্পাদক করে ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। ওই কমিটিতেই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হন শাহ নাসির উদ্দিন রুমন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করতে ‘লাগারে লাগা, ধান লাগা’ এক স্লোগানেই দেশজুড়ে ভাইরাল হয়ে উঠেন তার স্ত্রী তানজিন চৌধুরী লিলি। স্বামী-স্ত্রী ধানের বিজয়ে পথে-প্রান্তরে, মিছিল-মিটিংয়ে ছিলেন কঠোর পরিশ্রমী কর্মী। এ পরিশ্রমের ফল হিসেবে ময়মনসিংহ-৩ গৌরীপুর আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এম ইকবাল হোসেইন বিজয়ী হন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান।

ছাত্রজীবন থেকে দলের প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে ঢাকার রাজপথ, ময়মনসিংহের মহানগর আর উপজেলায় এ দম্পতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ঢাকার রাজপথে বিএনপির রাজনৈতিক প্রত্যেকটি কর্মসূচিতে সব প্রতিকূলতাকে ডিঙিয়ে সরব ছিলেন রুমন।

রুমন তার কর্মী-সমর্থকদের সরব রাখতেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তার হাত ধরেই উপজেলা-জেলা ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে ছাত্রদল-যুবদলের শত শত নেতাকর্মী গর্জে উঠেন। নির্যাতিত-নিপীড়িত কর্মীদের আস্থা আর ভরসার এক ঠিকানার নাম হলো রুমন। যোগ্য নেতৃত্ব, সাংগঠনিক দক্ষতা-বিচক্ষণতায় উপজেলা-জেলা ছাড়িয়ে একাধিকবার কেন্দ্রীয় সংগঠনে ঠাঁই করে নেন তিনি। মামলা-হামলাকে উপেক্ষা করে আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে সরব ছিলেন তিনি।

এ প্রাপ্তিতে সৃষ্টিকর্তার প্রতি শুকরিয়া জানিয়ে শাহ নাসির উদ্দিন রুমন বলেন, আমাদের অভিভাবক ও লাখো কোটি মানুষের আস্থা এবং বিশ্বাসের ঠিকানা হলো ‘বিএনপির চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আমি তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। সেই সঙ্গে যুবদলের নবনির্বাচিত সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন এবং কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাচিত সবাইকে অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। অতীতের ন্যায় নিজের জীবনের চেয়ে দলের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করাই হলো আমাদের অঙ্গীকার।