শনিবার, সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬

জনসভায় সংঘর্ষে নয়, হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছে: কাদের

জাতীয়: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের দাবি করেছেন, বরিশালের জনসভাস্থলে প্রবেশের সময় দুপক্ষের সংঘর্ষে নিহত ব্যক্তি ‘সংঘর্ষে নিহত নয়, হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছে’।

শনিবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুরে আওয়ামী লীগের সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে তিনি এ কথা বলেন। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, জনসভায় মারা যায়নি। হাসপাতালে মারা গেছে, হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছে, ডাক্তার তাই বলেছে। কি নানক? (তখন জাহাঙ্গীর কবির নানক পাশের চেয়ারে বসে ছিলেন) ঠিক আছে?

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনী সংঘর্ষ দেশে দেশেই হয়, আমাদের প্রতিবেশী দেশে আরও বেশি লোকের মৃত্যু হয়। তাই বলে সত্যকে আমরা অস্বীকার করব কেন? এটা আমরা খোঁজখবর নিচ্ছি। আর কয়টা নিহত হয়েছে, বলেন? নিহত হওয়ার আর কোনো ঘটনা আছে কি? সে তো সংঘর্ষে নিহত হয়নি। একটা লোকের হার্ট অ্যাটাক হতে পার, স্ট্রোক হতে পারে অথবা উত্তেজনা থেকেও হতে পারে। সে মারা গেছে কিন্তু হাসপাতালে। তার গায়ে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এই চ্যালেঞ্জ আমরা অতিক্রম করব ইনশাআল্লাহ। এই চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করার জন্য সারা বাংলাদেশে আমাদের নেতাকর্মীদের যার যা দায়িত্ব তা পালন করতে হবে। আমরা বাংলাদেশের জনগণের কাছে আহ্বান জানাবো, যারা নির্বাচনকে নির্বাসনে পাঠাতে চায় তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, এই নির্বাচনকে আমরা ব্যর্থ হতে দেবো না। নির্বাচন হবে ইনশাআল্লাহ। শেখ হাসিনার জনসভাগুলো জনসমুদ্রে পরিণত হচ্ছে সেটা দেখেও তারা টের পাচ্ছে না। মানুষ কত উৎসবমুখর, মানুষ কত সতস্ফূর্তভাবে এ নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে।

বিএনপিকে দমনের জন্য ও তাদের নির্বাচনে আসতে না দিতেই আওয়ামী লীগ মামলা-গ্রেপ্তার করছে, বিএনপির এমন অভিযোগের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ওবায়দুল কাদের বলেন- বিএনপি নিজেরাই নিজেদের অপকর্ম, নেতিবাচক রাজনীতির দ্বারা নিজেরাই নিজেদেরকে নিশ্চিহ্ন করেছে। এটার জন্য আর কারো দরকার হবে না। বিএনপির অপরাজনীতি তাদের ধ্বংসের জন্য দায়ী হবে। অন্য কারো প্রয়োজন নেই। বিএনপির অপকর্মই বিএনপিকে গভীর খাদে ফেলে দিয়েছে।

বিএনপি এখন সংলাপ চাচ্ছে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন- সংলাপের কথা বলছে? নির্বাচন হোক। নির্বাচন হওয়ার পরে আমরা দেখব সংলাপ করার কোনো সুযোগ আছে কি না। সেতুমন্ত্রী বলেন, সংকট তো কিছু আছে। সেটা তো বিশ্ব সংকটের, সেটার জন্য তো আমরা দায়ী না। সংকট যারা সৃষ্টি করছে তারা বড় শক্তি। গরিব দেশ হিসেবে আমরা তার শাস্তি পাচ্ছি। অপরাধটা তাদের, শাস্তি পাচ্ছি আমরা।

তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্যের ব্যাপারটা অবশ্যই চ্যালেঞ্জিং। তা না হলে আমাদের প্রধানমন্ত্রী বলে দিয়েছেন দ্রব্যমূল্যের বিষয়টা কমাতে হবে। এ ব্যাপারেও আমাদের ইশতেহারের ঘোষণা আছে। দ্রব্যমূল্য নিয়ে আমাদের উদ্বেগ আছে। উদ্বেগ থাকার কারণেই দ্রব্যমূল্য কমানোর তাগিদ আছে। সেটা আমরা অনুভব করি। প্রয়োগিক বাস্তবতায় ও দ্রব্যমূল্য যেন মানুষের জীবনে খুব কঠিন অবস্থা সৃষ্টি করতে না পারে, যতটুকু নিয়ন্ত্রণ রাখা যায় সে ব্যাপারে সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি মানুষ পুড়িয়ে, আন্দোলনের নামে গাড়ি পুড়িয়ে, বাস পুড়িয়ে, ট্রেন পুড়িয়ে মা-সন্তানকে মেরেও তাদের আন্দোলনের কাঙ্ক্ষিত রেজাল্ট পাচ্ছে না। এখন তারা এই নির্বাচনে লাশ বানানোর যে অপরাজনীতি করছে সে ইনফরমেশনও আমরা পাচ্ছি।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, সুজিত রায় নন্দী, উপ দপ্তর সায়েম খান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফী, সাধারণ সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবির, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান কচি।

বিষপানে পাপিয়ার আত্মহত্যা!

অপরাধ: ভোলার লালমোহন উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে পাপিয়া বেগম নামে এক নারীর আত্মহত্যার খবর পাওয়া গেছে।

গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান তিনি। নিহত পাপিয়া উপজেলার কালমা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মো. রুবেলের স্ত্রী।

জানা যায়, স্বামীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে মনোমালিন্য চলছিল পাপিয়া বেগমের। এরই জের ধরে শনিবার বিকালে পরিবারের সদস্যদের অগোচরে ঘরে থাকা গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে ফেলেন তিনি। কিছু সময় পর তিনি বমি করতে শুরু করেন। পরিবারের লোকজন এগিয়ে এসে বুঝতে পারেন পাপিয়া গ্যাস ট্যাবলেট খেয়েছেন।

তখন দ্রুত তাকে লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য পাপিয়াকে ভোলা সদর হাসপাতালে রেফার্ড করেন। সন্ধ্যার দিকে ভোলা নেওয়ার পথেই মারা যান পাপিয়া বেগম।

এ বিষয়ে লালমোহন থানার ওসি এসএম মাহবুব-উল আলম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে লাশ উদ্ধার করে থানায় এনেছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আমি এখন গণমানুষের ভাবি হয়ে গেছি: ব্যারিস্টার সুমনের স্ত্রী

সারাদেশ: হবিগঞ্জ-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার সাইদুল হক সুমনের স্ত্রী অ্যাডভোকেট শাম্মি আক্তার বলেছেন, আমি এখন গণমানুষের ভাবি হয়ে গেছি।

গতকাল শনিবার (৩০ ডিসেম্বর) হবিগঞ্জে সময় সংবাদকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। ব্যারিস্টার সুমনের স্ত্রী বলেন, রাস্তাঘাটে সবাই আমাকে দেখলেই গাড়ি থামিয়ে দেয় খুশিতে।

ভোট চাইতে গেলে সবাই আগ্রহ নিয়ে বসে থাকে ব্যারিস্টার সুমনের বউকে দেখার জন্য। শাম্মি আক্তার বলেন, ভোট চাইতে গেলে সবাই বলে আমরা ব্যারিস্টার সুমনকেই ভোট দেব। স্ত্রী হিসেবে এত কষ্ট করে ভোট চাইতে আপনার আসার দরকার নাই ।

ব্যারিস্টার সুমনের নির্বাচন প্রসঙ্গে তার স্ত্রী বলেন, আমি আগে থেকেই জানতাম সে ইলেকশন করবে। এমপি হবার ইচ্ছা তার আগে থেকেই ছিল। আমার মতে ব্যারিস্টার সুমনের মতো লোকদেরই সংসদে যাওয়া উচিৎ।

রাজনৈতিক ঝুঁকি প্রসঙ্গে শাম্মি হক বলেন, জীবন ঝুঁকি নিয়েই রাজনীতি কর‍তে হয়। আমি নিজেও রাজনৈতিক পরিবারের মেয়ে। যত বাধাই আসুক, স্ত্রী হিসেবে সবসময় তার পাশে থাকব।

ব্যারিস্টার সুমন যদি এমপি হয় তাহলে হবিগঞ্জ ৪ আসনের মানুষের ভাগ্য বদলে যাবে বলেও মন্তব্য করেন অ্যাডভোকেট শাম্মী হক।

৩ শিশুকন্যা নিয়ে স্বামীর ঘরের সামনে অনশন

দেশজুড়ে : টাঙ্গাইলের সখিপুরে তিন শিশুকন্যা নিয়ে স্বামীর ঘরের সামনে অবস্থান নিয়েছেন সেতু আক্তার (২৭) নামের এক নারী। গত তিনদিন যাবৎ ওই নারী এভাবে অবস্থান করছেন। স্বামী উজ্জল মিয়া (৩৫) নিজের ঘরে তালা ঝুলিয়ে সটকে পড়েছেন।

শনিবার (৩০ ডিসেম্বর) ওই নারীকে টেনেহিঁচড়ে তাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ সময় সেতু আক্তারের পড়নের কাপড়-চোপড় ছিঁড়ে যায়। বিকেলে উপজেলার বেড়বাড়ী খন্দকারপাড়া এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে ওই নারীকে লুঙ্গি পরিহিত অবস্থায় অনশনরত দেখা গেছে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, ১৬ বছর আগে উপজেলার বেড়বাড়ী গ্রামের মৃত গিয়াস উদ্দিনের ছেলে উজ্জলের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী বাসাইল উপজেলার নাইকানীবাড়ী এলাকার জামাল মিয়ার মেয়ে সেতু আক্তারের বিয়ে হয়। ইতোমধ্যেই তাদের ঘরে এসেছে ফুটফুটে তিন কন্যা সন্তান।

গত চার মাস আগে পারিবারিক কলহের জেরে উজ্জল মিয়া তার স্ত্রী সেতুকে ডিভোর্স দেন। এই ঘটনায় সেতু আক্তার টাঙ্গাইল আদালতে স্বামীর বিরুদ্ধে যৌতুক আইনে মামলা করেন। এতে কৌশলী স্বামী উজ্জল ডিভোর্স দেওয়া স্ত্রীকে পুনরায় গ্রহণ করবেন বলে মামলা তুলে বাড়ি ফিরে আসতে বলেন।

সেতু আক্তার বলেন, আমি বাড়িতে আসার পর আমাকে নানাভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে। এই শীতের মধ্যে বাচ্চাদের নিয়ে ঘরের সামনে রাত কাটাচ্ছি। গতরাতে আমাকে সরানোর জন্য অমানুষিক নির্যাতন করা হয়েছে। আমি এখন বাবার বাড়িতেও ফিরে যেতে পারবো না।

স্থানীয় ইউপি সদস্য বছির উদ্দিন বলেন, আমি চেয়ারম্যান মহোদয়কে নিয়ে বেশ কয়েকবার বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেছি। মামলা থেকে জামিনের পর উজ্জলের পাত্তাই পাওয়া যায়না।

উজ্জল মিয়ার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমার স্ত্রী মোবাইল ফোনে অন্য কারও সঙ্গে কথা বলে। এতে বাধা দিতে গেলে আমার সঙ্গে ঝগড়া হয়। ডিভোর্স দেওয়ার পরও আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

জানতে চাইলে সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ শাহিনুর রহমান বলেন, তিনমাস আগে ডিভোর্সের মাধ্যমে তাদের ছাড়াছাড়ি হয়েছে। আইনত ওই মহিলা স্বামীর বাড়িতে থাকতে পারে না। তবে এ বিষয়ে সে আদালতে মামলা করতে পারে। ইতোমধ্যে ওই মহিলার স্বামী উজ্জল থানায় এসে অভিযোগ করেছেন। ওই মহিলাকেও থানায় আসতে বলা হয়েছে, বিষয়টি মীমাংসার জন্য উভয়পক্ষের সঙ্গে কথা বলা হবে।

ভীতসন্ত্রস্ত জাতীয় পার্টি

রাজনীতি : জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান সংসদ-সদস্য গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেছেন, ভয়ভীতি প্রদর্শনের কারণে জাতীয় পার্টির কর্মী-সমর্থক ও সাধারণ ভোটাররা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ছে। অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, আওয়ামী লীগ ছাড়া ভোটের মাঠে আর কেউ থাকতে পারবে না। কিন্তু এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে।

শনিবার (৩০ ডিসেম্বর) রংপুরে পৈতৃক বাসভবনে নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করার সময় গণমাধ্যমকে তিনি এসব কথা বলেন। জি এম কাদের বলেছেন, তারা জাতীয় পার্টির প্রার্থী এবং সমর্থকদের ওপর হামলা, নির্বাচনি অফিস ভাঙচুর ও পোলিং এজেন্টদের সঙ্গে বৈঠক করছে। এভাবে তারা ভোট প্রভাবিত করার মতো কাজ করছেন।

তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকরা ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট করছেন। নেতাকর্মীদের সতর্ক থেকে ভোটের প্রচারনায় মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে জি এম কাদের বলেন,

জাতীয় পার্টির প্রতিটি নেতাকর্মীকে সব ধরনের সংকট পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে হবে। সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে বাধা এলে তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। সুষ্ঠুভাবে ভোটাররা ভোট দিতে পারলে জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা সারা দেশে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হবেন।

তিনি আরও বলেন, লালমনিরহাট-২ আসনের লাঙ্গলের প্রার্থীকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন থেকে সরে যেতে বলছে। সিলেটে নির্বাচনি ক্যাম্প ভেঙে দেওয়া হয়েছে। সারা দেশে এমন অনেক ঘটনা ঘটছে। আশা করি, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সিইসি পরিবেশ সৃষ্টির নিশ্চয়তা নিশ্চিত করবেন।

আমার বিপক্ষে শক্ত কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই: আইনমন্ত্রী

জাতীয়: ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, তার বিরুদ্ধে কোনো শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। শনিবার (৩০ ডিসেম্বর) বিকেলে আখাউড়া উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের খলাপাড়া খেলার মাঠে নির্বাচনী জনসভায় এ কথা বলেন তিনি।

আনিসুল হক বলেন, আমার বিরুদ্ধে কোনো শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নেই। অনেকে প্রশ্ন করেন, আমি কেন প্রত্যেক ইউনিয়নে মিটিং করছি। এর কারণ হল, আমি আখাউড়া-কসবাবাসীকে ভালোবাসি। আমি এও জানি আপনারাও আমাকে ভালোবাসেন।

তিনি বলেন, নির্বাচন মুখ্য নয়। এই ভালোবাসার টানেই পরস্পর পরস্পরকে দেখতে যাই। ১০ বছর আপনাদের সেবা করে উন্নয়ন করেছি। ভালোবাসার দাবিতে আপনাদের ভোট চাই। আপনারা কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়ে সারাবিশ্বকে দেখাবেন আপনারা আমাকে ভালোবাসেন।

উল্লেখ্য, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনে আনিসুল হকের বিপক্ষে বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের ছৈয়দ জাফরুল কদ্দুছ ফুলের মালা প্রতীকে এবং ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) শাহীন খান আম প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করবেন।

একসাথে একাধিক প্রেমের জেরে প্রেমিকাকে হত্যা!

অপরাধ: গাজীপুর সদর উপজেলায় প্রেমিকাকে হত্যার সাতদিন পর থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেছে এক যুবক। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাথরুম থেকে প্রেমিকার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (৩০ ডিসেম্বর) বিকেলে সদর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের মনিপুর বাজার এলাকায় প্রেমিক মিরাজের বাড়ি থেকে এ মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত মারিয়া আক্তার ঝর্ণা (১৯) গাজীপুর সদর উপজেলার বিকেবাড়ী তালতলী এলাকার মুকুল হোসেনের মেয়ে। আটক প্রেমিক মিরাজ মির্জাপুর ইউনিয়নের মনিপুর বাজার এলাকার স্থানীয় মজিবুর রহমান ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঝর্ণার সাথে মিরাজের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিয়ে করবে বলে ঝর্ণা মিরাজকে কথা দিয়েছিল। পরবর্তীতে মিরাজ জানতে পারে— ঝর্ণার সঙ্গে একাধিক ছেলের সম্পর্ক রয়েছে। মিরাজ বিষয়টি ঝর্ণাকে জানালে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ঝর্ণাকে হত্যার পরিকল্পনা করে মিরাজ। এরপর গত ২৪ ডিসেম্বর মিরাজ নিজ ঘরে ঝর্ণাকে নিয়ে হত্যা করে। পরে মরদেহ বাথরুমে লুকিয়ে রাখে।

জয়দেবপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শরিফুল ইসলাম জানান, দুপুরের পর থেকেই মিরাজ থানার সামনে অনেকটা মানসিক ভারসাম্যহীনভাবে ঘুরাঘুরি করছিল। তার ঘুরাঘুরি সন্দেহজনক হওয়ায় তাকে থানার ভেতরে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে সে তার প্রেমিকা ঝর্ণাকে খুন করার কথা পুলিশকে জানায়। পরে পুলিশ মিরাজের ঘরের ভেতরের বাথরুম থেকে ঝর্ণার মরদেহ উদ্ধার করে। এরপর তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।

জয়দেবপুর থানার ওসি সৈয়দ মিজানুর ইসলাম বলেন, ঝর্ণাকে ধারালো বটি দিয়ে গলা কেটে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ বাথরুমে কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। এ ঘটনায় প্রেমিক মিরাজকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

হুইপের ভাইকে কান ধরে ওঠবস, হামলায় আহত বোনও

অপরাধ: চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সামশুল হক চৌধুরীর নির্বাচনী প্রচারণায় একদিনে দুই দফা হামলার অভিযোগ উঠেছে নৌকার প্রার্থীর সমর্থকদের বিরুদ্ধে।

শনিবার (৩০ ডিসেম্বর) উপজেলার শান্তিরহাট ও কুসুমপুরা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় পৃথক হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় হুইপের গাড়িবহর লক্ষ্য করে জুতা নিক্ষেপ এবং একপর্যায়ে হুইপের ভাই ফজলুল হক চৌধুরীকে মারধর ও লাঞ্ছনা করার অভিযোগ উঠেছে।

এ ছাড়া দ্বিতীয় দফায় হামলায় কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনায় একজন গুলিবিদ্ধ এবং বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে চারজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

হুইপ সামশুল চট্টগ্রাম-১২ আসন থেকে ঈগল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন। তিনি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে এবার নৌকা প্রতীক না পেয়ে স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করছেন। তার সমর্থকদের অভিযোগ— আসনটি থেকে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করা মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরীর অনুসারীরা এসব হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে।

নৌকার প্রার্থী মোতাহেরুল চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। যদিও মোতাহেরুলের অনুসারীরা হামলার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শনিবার সকালে উপজেলার শান্তিরহাট এলাকা থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন হুইপ সামশুল হক চৌধুরী।

বেলা ১২টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে তাদের গাড়িবহর আটকে দেয়। এরপর গাড়িবহর লক্ষ্য করে জুতা নিক্ষেপ করা হয়। ঘটনার সময় হুইপের ভাই গাড়ি থেকে নেমে পালানোর চেষ্টা করে। এরপর তাকে আটকে কান ধরে ওঠবস করতে বাধ্য করা হয়। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে পটিয়া থানার পুলিশ পৌঁছে হুইপের বহরকে উদ্ধার করে।

এ ঘটনার পর বিকেলে উপজেলার কুসুমপুরা ইউনিয়নে নির্বাচনী গণসংযোগে নামেন হুইপ। বিকেল ৫টার দিকে ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে তাদের বহর দিনে দ্বিতীয় দফা হামলার শিকার হয়। এ সময় গাড়িবহরকে লক্ষ্য করে গুলি ও বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনায় হুইপের বোন সুলতানা ইয়াসমিন রেখাসহ (৪২) বেশ কয়েকজন আহত হন। তাদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ মনির হোসেন (৪৩), আহত রেখা, মো. রাসেল (৩৩) ও মো. কাসেমকে (৩৫) চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ঘটনার বিষয়ে হুইপ সামশুল হক চৌধুরীর ছেলে ও প্রধান নির্বাচন সমন্বয়কারী নাজমুল করিম চৌধুরী বলেন, শনিবার আমাদের নির্বাচনী প্রচারণায় দুই দফা হামলা করেছে মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরীর সমর্থকরা। প্রথম দফায় শান্তিরহাট এলাকায় আমার চাচাকে মারধর ও একপর্যায়ে অস্ত্র তাক করে কানে ধরতে বাধ্য করা হয়। দ্বিতীয় দফা কুসুমপুরা ইউনিয়নে আবার হামলা করা হয়। আমরা এসব ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।

ঘটনার বিষয়ে পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোলাইমান বলেন, শনিবার সকালে একবার হুইপের গাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল। আমরা উদ্ধার করেছি। বিকেলে আবার হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের অভিযোগ সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) নুরুল আলম আশেক বলেন, পটিয়ায় সংঘর্ষের ঘটনায় আহত চারজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন গুলিবিদ্ধ রয়েছেন।

যে কারণে নিক্সনের প্রার্থিতা বাতিল চান আ.লীগ নেতা

জাতীয়: নির্বাচনী সভায় টাকা ছড়ানোর অভিযোগ এনে ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা, সদরপুর, চরভদ্রাসন) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং বর্তমান সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সনের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেছেন ভাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুহম্মদ সাইফুর রহমান।

গতকাল শনিবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুরে রিটার্নিং কর্মকর্তা ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মো. কামরুল আহসান তালুকদারের নিকট তিনি লিখিত এ আবেদন করেন। মুহম্মদ সাইফুর রহমান ফরিদপুর-৪ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী কাজী জাফর উল্যাহর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট।

উপজেলা আওয়ামী লীগের প্যাডে মুহম্মদ সাইফুর রহমান স্বাক্ষরিত ওই আবেদনপত্রে বলা হয়েছে, গত ২৮ ডিসেম্বর দুপুরে ভাঙ্গা থানার উত্তর পাশে কাজী মাহবুব উল্যাহ কলেজের সন্নিকটে সেতু সংলগ্ন অটো স্ট্যান্ডে একটি নির্বাচনী সভায় প্রকাশ্যে ভোটারদের মাঝে টাকা বিতরণ করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী নিক্সন চৌধুরী।

লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, তিনি (নিক্সন) প্রকাশ্যে অর্থ বণ্টনের মাধ্যমে ভোটারদের প্ররোচিত করে নির্বাচনী আচরণবিধি ৩(১) ধারার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন করেছেন। নির্বাচন আচরণবিধি ভঙ্গের দায়ে তার প্রার্থিতা বাতিল করার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে নিক্সন চৌধুরী বলেন, আমার নামে মিথ্যা প্রচার করা হচ্ছে। তারা খিচুড়ি খাওয়ার জন্য আমার কাছে কিছু টাকা চেয়েছিল, আমি তাদের বকশিশ হিসেবে দিয়েছি। আমি এভাবে অনেক গরিব-দুঃখী মানুষকে সহযোগিতা করে থাকি, এটা নির্বাচনী বিষয় না।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের প্রার্থী কাজী জাফর উল্যাহ বলেন, নিক্সন চৌধুরী টাকা ছড়াচ্ছে এই ধরনের ভিডিও আমিও দেখেছি। আমি আশা করি যে, নির্বাচন কমিশন এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। আমরা চাই, আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে একটি অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। ভোটাররা যাকে খুশি তাকে ভোট দিতে পারবে।

অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক কামরুল আহসান তালুকদার বলেন, এ প্রসঙ্গে একটি আবেদন পেয়েছি। সেটি অনুসন্ধান কমিটিতে পাঠিয়েছি। ওই কমিটির প্রতিবেদনে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে বিষয়টি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নিকট পাঠানো হবে।

প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার (২৮ ডিসেম্বের) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ভাঙ্গা থানার পাশে কাজী মাহবুব উল্যাহ কলেজ পাড়ে নিক্সন চৌধুরী নির্বাচনী সভা শেষে এক কর্মীর হাতে তার পাঞ্জাবির পকেট থেকে কিছু টাকা বের করে দেন। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

ওই ভিডিওতে দেখা যায়, একটি নির্বাচনী সভায় বক্তব্যের শেষের দিকে নিক্সন চৌধুরী বলছেন- ‘আগামী শনিবার আলগীতে আপনারা একটা বড় শোডাউন করবেন। কিন্তু নির্বাচনের আচরণবিধির জন্য আমরা আপনাদের কিছু বলতে পারছি না। তবে আপনারা খিচুড়ি খাবেন, সেই ব্যবস্থা আমি করে দিতে পারি।’ এ কথা বলার পর নিক্সন চৌধুরী তার পাশে দাঁড়ানো ব্যক্তির হাতে পকেট থেকে নগদ টাকা বের করে দেন।

বড় বড় কথা বলে নিয়েছেন। এখন পারছেন না, তাই এমন করে তাঁরা বলছে: শমসের মুবিন

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়া তৃণমূল বিএনপির চেয়ারম‌্যান শমসের মবিন চৌধুরী ও মহাস‌চিব তৈমুর আলম খন্দকারকে ‘বেঈমান’ আখ্যা দি‌য়ে‌ছি‌লেন দলের বেশ ক‌য়েকজন প্রার্থী।

তারা বলেছি‌লেন, দলের চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী ও মহাসচিব তৈমুর আলম খন্দকার বেইমানি করেছেন। তারা নির্বাচনী মাঠে নামিয়ে এখন যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছেন।

তা‌দের এ অ‌ভি‌যোগ অস্বীকার ক‌রে তৃণমূল বিএনপির চেয়ারপারসন শমসের মবিন চৌধুরী বলেন, তৃণমূল বিএনপির কোনো কর্মসূচি ছিল না। তাঁরা তৃণমূল বিএনপির ব্যানার টানিয়েছেন অবৈধভাবে। মহাসচিব কিংবা আমার অনুমতি ছাড়াই তাঁরা ব্যানার টানিয়েছেন।

শনিবার (৩০ ডি‌সেম্বর) দুপুরে সিলেট সার্কিট হাউজে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সাথে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, মনোনয়নপত্র যখন তাঁরা নেন, তখন বড় বড় কথা বলে নিয়েছেন। এখন পারছেন না, তাই এমন করে তাঁরা বলছেন। নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে গিয়ে তাঁরা আমাদের নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করছেন।

উল্লেখ্য, শুক্রবার সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত এক আলোচনায় ৬০ প্রার্থী তৃণমূল বিএনপির চেয়ারপারসন শমসের মোবিন চৌধুরী ও মহাসচিব অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দার বেইমানি করেছেন বলে অভিযোগ করেন। অভিযোগে তারা বলন, দলের চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী ও মহাসচিব তৈমুর আলম খন্দকার বেইমানি করেছেন। তারা নির্বাচনী মাঠে নামিয়ে এখন যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছেন। চেয়ারপারসন ও মহাসচিব অন্য একটি দলের সঙ্গে আতাত করে আমাদেরকে কোণঠাসা করে রেখেছে, যাতে আমরা নির্বাচন করতে না পারি।

সর্বশেষ আপডেট...

সর্বাধিক পঠিত...