প্রচ্ছদ আর্ন্তজাতিক কারাগারে সাবেক এমপির মোবাইলে মিলল কয়েক ডজন পর্ন ভিডিও

কারাগারে সাবেক এমপির মোবাইলে মিলল কয়েক ডজন পর্ন ভিডিও

কারাগারে থাকা ভারতের সাবেক সংসদ সদস্য প্রজ্বল রেভান্নার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ফরেনসিক পরীক্ষায় কয়েক ডজন পর্ন ভিডিও পাওয়া গেছে বলে তদন্তে জানা গেছে।

ধর্ষণ মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত এই সাবেক সংসদ সদস্যের কাছ থেকে মোবাইল ফোনসহ বেশ কিছু ইলেকট্রনিক সামগ্রী জব্দের পর সেগুলো ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছিল।

প্রজ্বল রেভান্না জনতা দল (সেক্যুলার) বা জেডিএসের সাবেক সংসদ সদস্য। তিনি ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এইচ ডি দেবেগৌড়ার নাতি এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এইচ ডি কুমারস্বামীর ভাতিজা। বর্তমানে তিনি বেঙ্গালুরুর পারাপ্পানা আগ্রাহারা কেন্দ্রীয় কারাগারে যাবজ্জীবন সাজা ভোগ করছেন।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১১ আগস্ট অপরাধ দমন শাখার কর্মকর্তারা আকস্মিক তল্লাশি চালানোর সময় রেভান্নাকে কারাগারের কক্ষে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে দেখেন। পরে তার কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন, চার্জার, পেনড্রাইভ ও একটি নোটবুক জব্দ করা হয়।

জব্দ করা মোবাইল ফোন ও পেনড্রাইভ ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে মোবাইল ফোনে কয়েক ডজন পর্ন ভিডিও পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, পেনড্রাইভে কয়েকটি ওয়েব সিরিজের ভিডিও পাওয়া গেছে।

রেভান্নার কাছ থেকে কারাগারের ভেতরে মোবাইল ফোন উদ্ধারের ঘটনায় বেঙ্গালুরুর কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রভাবশালী বা ‘ভিআইপি’ বন্দিদের বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ নতুন করে সামনে এসেছে।

কারাগারের কক্ষে মোবাইল ফোন উদ্ধারের পর সংশ্লিষ্ট এক কারা কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। একই সঙ্গে উচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত ব্যারাকে থাকা রেভান্নার কাছে মোবাইল ফোনটি কীভাবে পৌঁছাল, তা তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।

কারাগারের ভেতরে ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন, সিম কার্ড এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক যোগাযোগযন্ত্র ব্যবহার সাধারণভাবে নিষিদ্ধ। বন্দিদের যোগাযোগের জন্য কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রিত টেলিফোন, পাবলিক কল অফিস (পিসিও) বা নির্ধারিত ভিডিও কল ব্যবস্থার ব্যবহার করার নিয়ম রয়েছে।

তবে উচ্চ নিরাপত্তার ব্যারাকে থাকা একজন যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত বন্দির কাছে কীভাবে মোবাইল ফোন পৌঁছাল এবং তিনি কীভাবে সেটি ব্যবহার করছিলেন—সেই প্রশ্নই এখন তদন্তের অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছে।

গত বছর ৪৮ বছর বয়সী এক নারীকে ধর্ষণ এবং ওই ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন প্রজ্বল রেভান্না। ওই নারী রেভান্না পরিবারের হাসান জেলার হোলেনারসিপুরা এলাকার একটি খামারবাড়িতে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২১ সাল থেকে ওই নারীকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন প্রজ্বল রেভান্না। এ সময় ঘটনার ভিডিও ধারণ করে রাখা এবং বিষয়টি কাউকে জানালে সেই ভিডিও প্রকাশ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।

বর্তমানে ধর্ষণ মামলায় যাবজ্জীবন সাজা ভোগ করছেন তিনি। এর মধ্যে কারাগারে তার কাছে মোবাইল ফোন উদ্ধারের ঘটনা কারাগারের নিরাপত্তা ও বন্দিদের জন্য বিদ্যমান বিধিবিধান নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।