বুধবার, সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬
প্রচ্ছদ প্রচ্ছদ

আ.লীগ নাকি নারী স্বাধীনতা, নারী অধিকার নিয়ে সবচেয়ে সচেতন দল

আওয়ামীলীগ নাকি নারী স্বাধীনতা, নারী অধিকার নিয়ে সবচেয়ে সচেতন দল ( লীগ সমর্থক ও so called কিছু সুশীলের মতে)।
আওয়ামী আমলে নারীরা ভালো থাকে, এখন তারা হেনস্তার শিকার হয় – এমন আরও অনেক কথা রাজনৈতিক বাজারে চালু। বাবারে, তাহলে গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী নারীদের জীবন নরক করে তোলার জন্য যারা মরিয়া হয়ে উঠেছে তারা আসলে কোন আওয়ামীলীগ?

সামিনা লুৎফা মেডাম, আজমেরী হক বাঁধন, মনামী মেডাম, নুসরাত জাহান,নগন্য এই আমিসহ শত শত নারী কন্ঠ – বুলিং , সেক্সুয়াল হ‍্যারাসমেন্ট, গালাগালি, কিংবা ধর্ষণ হুমকিকে নিত্য সঙ্গী করে কাজ করে যায়।

বাঁধনের সাথে হওয়া গতকালের ঘটনা বিচ্ছিন কোনো ব‍্যাপার নয়। সেটা উনার বা আমার পেজের যেকোনো সাধারণ পোস্টের কমেন্ট বক্সে গেলেই দেখতে পাবেন। কি যে বিভৎস এদের ইচ্ছা, স্বপ্ন, কল্পনা! জঘন‍্য বাজে ভাষায় গালি দেয়া যেকোনো আইডির ভেতরে গেলেই দেখবেন প্রোফাইল অথবা কাভারে শেখ মুজিব বা শেখ হাসিনার ছবি। বট বাহিনীর ধর্ষণ ও হত‍্যা হুমকি আমাদের নিত‍্য সঙ্গী।

কিছুদিন আগে নিউয়র্ক প্রবাসী ছাত্রলীগ কর্মী আমার পার্সনাল নাম্বার ভাইরাল করে ডিরেক্ট আমাকে হ‍্যারাস করার প্রতিযোগিতা ঘোষণা করে। আপনি বিশ্বাস করবেন না- প্রতি ন‍্যানো সেকেন্ডে কল আর হুমকি মেসেজ আসা শুরু করেছে ।

এছাড়া প্রতিনিয়ত নিজের বিকৃত এডিটেড নগ্ন ছবি, ব‍্যক্তিগত ও পারিবারিক মিথ্যাচার তো আছেই।

কথা হচ্ছে- ভাইয়েরা আমার আপনাদের আক্রমণের পাল্টা আক্রমণ করার বট বাহিনী বা রাজনৈতিক কর্মী আমার নেই ভেবে আমাকে দুর্বল ভাববেন না। আমাকে/আমাদেরকে দুর্বিষহ জীবন দেয়ার এই চেষ্টা বৃথা। যে নিজেকে জানে আর নিজের কাজ নিয়ে গর্বিত তাকে ভেঙে ফেলা সহজ না।

বাঁধন, দীপ্তিদের পিছে লেগে কি হবে বলেন। আপনি মানুষ হিসেবে আরও নিম্ন স্তরে নামবেন- এটুকুই!

রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী পদের আগে ‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’ ব্যবহার না করার জন্য অনুরোধ

দাপ্তরিক যোগাযোগে ও নথিপত্রে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের পদবির আগে ‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’ বা অন্য কোনো সম্মানজনক শব্দ লিখিতভাবে ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সাধারণ অধিশাখা থেকে জারি হওয়া এক পরিপত্রে এ কথা জানানো হয়।

পরিপত্রে বলা হয়েছে, সরকার, রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের সঙ্গে দাপ্তরিক যোগাযোগ, নথিপত্র ও সারসংক্ষেপ উপস্থাপনের ক্ষেত্রে তাদের পদবির আগে সম্মানসূচক শব্দ হিসেবে যথাক্রমে ‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’ শব্দ লিখিতরূপে ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সরকার।

আরও বলা হয়, সরকারের সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগ এবং এর অধীন সব দপ্তরের দাপ্তরিক যোগাযোগ, নথিপত্র ও সারসংক্ষেপ প্রেরণের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রিগণের পদবির পূর্বে ‘মহামান্য’, ‘মাননীয়’ কিংবা অন্য কোনো সম্মানসূচক শব্দ লিখিতরূপে ব্যবহার না করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

মহাসড়কে স্লিপার বাস চলাচলে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা

মহাসড়কে স্লিপার বাস চালানো যাবে না বলে আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। স্লিপার বাস চালানোর অনুমতি চেয়ে স্লিপার বাস মালিক সমিতির আবেদনে সাড়া দেননি হাইকোর্ট। আদালত বলেন, শুধুমাত্র বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) যেসব বাসের চলাচলে পারমিশন দিয়েছে সেগুলো রাস্তায় চলাচল করবে।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে বিআরটিএর আইনজীবী মো. রাফিউল ইসলাম বলেন, সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮-এর ধারা ৪০-এ বলে দেওয়া আছে টেকনিক্যাল স্পেসিফিকেশন। যদি টেকনিক্যাল স্পেসিফিকেশন কেউ লঙ্ঘন করে, তাহলে সেটা ৮০-সেকশন ৮৪ দ্বারা এগুলো শাস্তিযোগ্য অপরাধ, এর সর্বোচ্চ শাস্তি হলো ৩ বছর এবং ৩ লাখ টাকা জরিমানা।

এছাড়া সড়ক পরিবহন আইন, সেখানে স্পষ্ট করে বলে দেওয়া আছে রুট পারমিট ছাড়া কোনো গাড়ি রাস্তায় চলাচল করতে পারবে না।

সাংবাদিক ইলিয়াস হোসেনের হুঁশিয়ারি

ইতালিতে জুলাই যোদ্ধা আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের কঠোর ভাষায় সতর্ক করেছেন সাংবাদিক ইলিয়াস হোসেন।

এক বক্তব্যে ইলিয়াস হোসেন দাবি করেন, ইতালিতে বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনা ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের দোসরদের ‘বর্বরতা ও কাপুরুষতার’ বহিঃপ্রকাশ। তার অভিযোগ, দেশে ক্ষমতায় থাকাকালে প্রশাসনকে ব্যবহার করে যারা নানা ধরনের কর্মকাণ্ড চালিয়েছে, তারাই এখন বিদেশের মাটিতে আইনকে ভয় পেয়ে পানি ও জুস ছুড়ে হামলার মতো ঘটনা ঘটাচ্ছে।

তিনি শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের সমর্থকদের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বিএনপি, জামায়াত এবং আসিফ-নাহিদ-সারজিসসহ ছাত্রসমাজ ঐক্যবদ্ধ রয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো হামলার চেষ্টা হলে ঐক্যবদ্ধ জনতা তার জবাব দেবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

একই সঙ্গে ইতালির ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিক ইলিয়াস হোসেন।

নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ নিয়ে সর্বশেষ যে তথ্য পাওয়া গেল

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বহুল আলোচিত নবম জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। প্রজ্ঞাপনের খসড়া রেজল্যুশন বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয় (বিজি প্রেস) হয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পৌঁছানোর পর বর্তমানে আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং প্রক্রিয়ায় রয়েছে। আইনি যাচাই শেষ হলেই এসআরও নম্বর দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের পে-স্কেল প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত এক কর্মকর্তা জানান, গত ২ সেপ্টেম্বর রেজল্যুশনটি বিজি প্রেসে পাঠানো হয়। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে তা অর্থ মন্ত্রণালয়ে ফেরত আসে। এরপর আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে সেখানে প্রজ্ঞাপনটি যাচাই করা হচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা দেশের এক সংবাদমাধ্যমকে বলেন, পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের অযথা সময়ক্ষেপণের সুযোগ নেই। প্রশাসনিক ও আইনগত আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেই দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

এর আগে গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভার বৈঠকে নবম জাতীয় পে-স্কেলের অনুমোদন দেওয়া হয়। নতুন কাঠামোর বেতন ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে মন্ত্রিপরিষদসচিব নাসিমুল গনি জানিয়েছিলেন, চলতি সপ্তাহেই এ বিষয়ে আদেশ জারি হতে পারে। তবে ভেটিংসহ আনুষ্ঠানিক কিছু ধাপ বাকি থাকায় গেজেট প্রকাশে সময় লাগছে।

নতুন বেতন কাঠামোয় তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাচ্ছেন নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীরা। ২০তম গ্রেডের বর্তমান ৮ হাজার ২৫০ টাকার মূল বেতন বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে এ গ্রেডে বেসিক বাড়ছে ১১ হাজার ৭৫০ টাকা বা প্রায় ১৪২ শতাংশ।

অন্যদিকে সর্বোচ্চ অর্থাৎ প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে দ্বিগুণ করে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করা হয়েছে। এ গ্রেডে বেতন বৃদ্ধির হার ১০০ শতাংশ।

তবে অনুমোদিত নতুন বেসিকের পুরোটা একবারে কার্যকর হচ্ছে না। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মধ্যেই তিনটি ধাপে বাড়তি বেতন মূল বেতনের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের ক্ষেত্রে বর্ধিত অংশের অর্ধেক প্রথম ধাপে, এক-চতুর্থাংশ দ্বিতীয় ধাপে এবং বাকি এক-চতুর্থাংশ তৃতীয় ধাপে কার্যকর হবে। আর প্রথম থেকে নবম গ্রেডের ক্ষেত্রে বাড়তি অংশের ৪০ শতাংশ, ৩০ শতাংশ ও ৩০ শতাংশ হারে তিন ধাপে নতুন বেসিক কার্যকর করা হবে।

২০তম গ্রেডের ক্ষেত্রে ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকায় বেসিক বাড়ছে। প্রথম ধাপে ৫ হাজার ৮৭৫ টাকা যুক্ত হলে বেতন দাঁড়াবে ১৪ হাজার ১২৫ টাকা। দ্বিতীয় ধাপে যোগ হবে ২ হাজার ৯৩৭ টাকা ৫০ পয়সা। এতে বেসিক হবে ১৭ হাজার ৬২ টাকা ৫০ পয়সা। তৃতীয় ধাপে একই পরিমাণ যুক্ত হয়ে তা ২০ হাজার টাকায় পৌঁছাবে।

প্রথম গ্রেডে ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা বেসিক নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথম ধাপে ৩১ হাজার ২০০ টাকা যোগ হয়ে মূল বেতন হবে ১ লাখ ৯ হাজার ২০০ টাকা। পরের দুই ধাপে ২৩ হাজার ৪০০ টাকা করে যুক্ত হয়ে শেষ পর্যন্ত বেসিক দাঁড়াবে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।

নবম গ্রেডেও মূল বেতন দ্বিগুণ হচ্ছে। বর্তমান ২২ হাজার টাকা থেকে তা বেড়ে ৪৪ হাজার টাকা হবে। তিন ধাপে এ গ্রেডের বেসিক দাঁড়াবে যথাক্রমে ৩০ হাজার ৮০০, ৩৭ হাজার ৪০০ এবং ৪৪ হাজার টাকা।

নতুন পে স্কেলের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো- বাড়তি বেসিক কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সব ভাতা নতুন হারে মিলবে না। বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা, যাতায়াতসহ বিভিন্ন ভাতা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে নতুন কাঠামোয় দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

অর্থাৎ ২০২৭ সালের জুলাইয়ের মধ্যে তিন ধাপে নতুন বেসিক পুরোপুরি কার্যকর হলেও ভাতার পূর্ণ সুবিধা পেতে চাকরিজীবীদের আরও কয়েক মাস অপেক্ষা করতে হবে।

নতুন কাঠামোয় একজন নতুন চাকরিজীবীর সম্ভাব্য মোট আয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। ঢাকায় ২০তম গ্রেডে নতুন নিয়োগ পাওয়া কোনো কর্মচারীর ২০ হাজার টাকা বেসিকের সঙ্গে প্রযোজ্য ভাতা যুক্ত হলে মাসিক আয় প্রায় ৪১ হাজার ৯০৮ টাকা হতে পারে। তবে কর্মস্থল ও ভাতার ধরন অনুযায়ী এ অঙ্কে পার্থক্য থাকবে।

১৩তম গ্রেডে নতুন নিয়োগ পাওয়া একজন সহকারী শিক্ষকের ২৪ হাজার টাকা বেসিক হলে ভাতাসহ আয় প্রায় ৪০ হাজার টাকা হতে পারে। ১০ম গ্রেডে ৩২ হাজার টাকা বেসিকের সঙ্গে ভাতা যুক্ত হলে মাসিক আয় ৫০ হাজার টাকা ছাড়াতে পারে।

নবম গ্রেডের একজন নতুন কর্মকর্তার বেসিক হবে ৪৪ হাজার টাকা। ঢাকায় ৫০ শতাংশ বাড়িভাড়া হিসেবে আরও ২২ হাজার টাকা যোগ হলে বেসিক ও বাড়িভাড়া মিলিয়ে ৬৬ হাজার টাকা হবে। অন্যান্য প্রযোজ্য ভাতা যুক্ত হলে মোট আয় প্রায় ৭০ হাজার টাকা হতে পারে।

তবে পুরোনো কর্মচারীদের ক্ষেত্রে নতুন বেতন নির্ধারণের হিসাব সরাসরি এসব উদাহরণের মতো হবে না। তাদের চাকরির মেয়াদ, বর্তমান মূল বেতন, বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি এবং অন্যান্য প্রাপ্যতার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে নতুন বেতন নির্ধারণ করা হবে।

নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নে সরকারের ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। বেতন, ভাতা ও পেনশন খাতে নতুন কাঠামো কার্যকর করতে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা ব্যয়ের হিসাব করা হয়েছে। এর আওতায় আসবেন সরকারি চাকরিজীবী ও পেনশনভোগী মিলিয়ে প্রায় ৩৩ লাখ মানুষ।

অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, একবারে পুরো বেতন কাঠামো চালু করা হলে সরকারের রাজস্ব ও বাজেট ব্যবস্থাপনায় বড় চাপ পড়ত। সে কারণে রাজস্ব আদায়, মূল্যস্ফীতি এবং সরকারের সামগ্রিক আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে ধাপে ধাপে বেতন বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সাবেক অর্থসচিব মাহবুব আহমেদ মনে করেন, কয়েক ধাপে বেতন বাড়ানোর উদ্যোগ সরকারের অর্থ ব্যবস্থাপনার জন্য তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক। এতে একসঙ্গে বড় অঙ্কের অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ তৈরি হবে না।

নতুন দায়িত্ব পেলেন এনসিপি নেত্রী মাহমুদা মিতু

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতু।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে নতুন দায়িত্ব পাওয়ার বিষয়টি জানান তিনি।

ফেসবুক পোস্টে মাহমুদা মিতু বলেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছি। আল্লাহ যেন সততা, সাহস ও নিষ্ঠার সঙ্গে এই দায়িত্ব পালনের তৌফিক দেন। আপনাদের সকলের কাছে দোয়া চাই।’

এর আগে মঙ্গলবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম রফিকুল ইসলামকে সভাপতি করা হয়েছে।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন-সিরাজগঞ্জ-৬ আসনের এম এ মহি, ঠাকুরগাঁও-২ আসনের মো. আব্দুস সালাম, আবু মসকাউত হাসান, নওগাঁ-৪ আসনের ইকরামুল বাড়ি টিপু, নেত্রকোনা-২ আসনের মো. আনারুল হক, সংরক্ষিত নারী আসন-২১-এর শামীম আরা বেগম স্বপ্না এবং রাজশাহী আসনের মো. আব্দুল বারী সরদার।

ভয়াবহ বন্যার রেশ কাটতে না কাটতেই ভূমিকম্প

তিব্বতে শক্তিশালী ৫.৩ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) আঘাত হানা এই ভূমিকম্পের কম্পন নেপালেও অনুভূত হয়েছে। নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কয়েক দিন পর এই ভূমিকম্প আঘাত হানল। ইউরোপিয়ান-মেডিটেরেনিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের ৩৫ কিলোমিটার (২১.৭৫ মাইল) গভীরে। তবে ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (এনসিএস) ভূমিকম্পটির মাত্রা ৫.০ বলে জানিয়েছে।

ভূমিকম্পের পর তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। গত ২৬ আগস্ট হিমালয় অঞ্চলের নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ দুর্যোগ আঘাত হানার দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে এই ভূমিকম্প হলো।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার তিব্বতে ৫.১ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ওই ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের মাত্র ১০ কিলোমিটার (৬.২১ মাইল) গভীরে। ফলে এক সপ্তাহের মধ্যে তিব্বতে এটি দ্বিতীয় ভূমিকম্প।

এদিকে, গত ২৬ আগস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও পাহাড়ধসের ঘটনায় নেপালে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৩৫৭ জনে দাঁড়িয়েছে। মঙ্গলবার দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখনো ৫ হাজার ৩২৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। অন্যদিকে, চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, তিব্বতে ওই দুর্যোগে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৫১৯ জন এখনো নিখোঁজ। দুই দেশের হিসাব অনুযায়ী, এ ঘটনায় মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন এবং নিখোঁজ রয়েছেন ৫ হাজার ৮৪৫ জন।

নিখোঁজ মানুষের প্রকৃত সংখ্যা নিশ্চিত করতে নেপালের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পাওয়া তথ্য একত্র করে যাচাই করছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। চীন-নেপাল সীমান্তের কাছে হিমবাহ ও পাহাড় ধসে সড়ক, সেতু ও বহু ঘরবাড়ি ধ্বংস হওয়ার পর নেপালে উদ্ধার অভিযান ১৪তম দিনে প্রবেশ করেছে।

জুলাই-গণঅভ্যুত্থানে ইন্টারনেট বন্ধে জড়িত সেই কর্মকর্তার পদোন্নতি

চব্বিশের ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক পরিবর্তন হলেও আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সুবিধাভোগী হিসেবে পরিচিত অনেক কর্মকর্তা এখনও স্বপদে বহাল রয়েছেন। শুধু তা-ই নয়, আওয়ামী সরকারের সহযোগী হিসেবে অভিযুক্ত এসব কর্মকর্তার অনেকেই পাচ্ছেন পদোন্নতি। এমনই একজন টেলিকম ক্যাডারের কর্মকর্তা মির্জা কামাল আহম্মদ।

জুলাই আন্দোলনের সময় ইন্টারনেট শাটডাউনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে কামাল আহম্মদের বিরুদ্ধে। এই অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালেও একাধিকবার হাজিরা দিয়েছেন তিনি। এবার পেলেন পদোন্নতি।

বর্তমানে মির্জা কামাল আহম্মদ বিটিসিএলের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (রক্ষণাবেক্ষণ ও চালনা) পদে কর্মরত রয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ৭ সেপ্টেম্বর (সোমবার) ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে টেলিকম ক্যাডারের ২০ জন কর্মকর্তাকে একযোগে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। গত ৭ সেপ্টেম্বর দেওয়া পদোন্নতির তালিকার ৫ নম্বরে রয়েছে মির্জা কামাল আহম্মদের নাম। পদোন্নতি পেয়ে এই কর্মকর্তা পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ার) চতুর্থ গ্রেড থেকে জিএম (ইঞ্জিনিয়ার) তৃতীয় গ্রেডে উন্নীত হয়েছেন।

জুলাই আন্দোলনের সময় ইন্টারনেট শাটডাউনের সঙ্গে জড়িতের থাকার অভিযোগের পাশাপাশি সরকারি সাবমেরিন কেবলে কোম্পানির এমডির দায়িত্বে থাকা অবস্থায় মির্জা কামালের বিরুদ্ধে ছিল বিস্তর অভিযোগ। নানা অভিযোগে তাকে পদ থেকে সরিয়ে দেয় অন্তর্বর্তী সরকার।

দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময়ের জন্য ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা হয় ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে। জুলাই আন্দোলনকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত টানা ২২ দিন নানা স্তরে ইন্টারনেট শাটডাউন করে তৎকালীন সরকার। এক অদৃশ্য ‘তথ্য-অন্ধকার’ সৃষ্টির মাধ্যমে গণহত্যা চলে।

বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর সেই গণহত্যার মামলায় সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলককে গ্রেপ্তার করা হলেও, ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি ইন্টারনেট শাটডাউনের সঙ্গে জড়িত অনেক সরকারি ককর্তার বিরুদ্ধে।

সেই সময় জুনাইদ আহমেদ পলককের নির্দেশে ইন্টারনেট শাটডাউন করেছিলেন সরকারি সাবমেরিন কেবল কোম্পানি (বিএসপিএলসি) তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মির্জা কামাল আহম্মদ। এই অভিযোগের বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তাকে কয়েকবার ডাকা হয়।

ট্রাইব্যুনালকে কামাল আহম্মদ বলেন, ‘১৮ জুলাই রাতে প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক আমাকে ফোন দিয়ে ইন্টারনেট বন্ধ করার নির্দেশনা দেন, তার নির্দেশে ১৫ মিনিটের মধ্যে সাবমেরিন দুটো শাটডাউন করা হয়।’

ট্রাইব্যুনালকে জুনাইদ আহমেদ পলকের নির্দেশে ইন্টারনেট বন্ধ করার কথা জানালেও, বিএসসিপিএলসির অনেকের অভিযোগ, জুলাই আন্দোলনের সময়ে মন্ত্রণালয়ের কোনো আদেশ ছাড়াই শুধু পলকের মৌখিক নির্দেশে তিনি দেশের দুটি সাবমেরিন কেবল বন্ধ করেন। বরং আওয়ামী সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা থাকার কারণেই তিনি ইন্টারনেট বন্ধের ক্ষেত্রে বেশি আগ্রহী ছিলেন।

ইন্টারনেট শাটডাউনের সঙ্গে জড়িত এই কর্মকর্তা আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য সাজ্জাদুল হাসানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তার ক্ষমতার বলে তিনি নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

ইন্টারনেট শাটডাউন ছাড়াও সাবমেরিন কেবলের এমডির দায়িত্বে থাকা অবস্থায় মির্জা কামালের বিরুদ্ধে ছিল বিস্তর অভিযোগ। তিনি ২০১৬ সালে টেলিকম ক্যাডার থেকে প্রেষণে উপমহাব্যবস্থাপক হিসেবে বিএসসিপিএলসিতে যোগ দেন। ক্যাডার সার্ভিসে কোনো পদোন্নতি না পেলেও মাত্র দুই বছরের মধ্যেই তিনি জোর তদবির চালিয়ে উপমহাব্যবস্থাপকের পরিবর্তে মহাব্যবস্থাপক হিসেবে প্রেষণাদেশ করিয়ে জিএম (প্রশাসন ও অর্থ) পদটিতে চেপে বসেন।

অন্যদিকে বিএসসিপিএলসিতে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। ২০০৯ সালে কোম্পানিতে উপমহাব্যবস্থাপক হিসেবে যোগদান করা অনেক কর্মকর্তা গত ১৭ বছরেও মহাব্যবস্থাপক পদে পদোন্নতি পাননি, একই পদে স্থবির হয়ে রয়েছেন।

অভিযোগ রয়েছে, মহাব্যবস্থাপক পদে থেকে মির্জা কামাল কোম্পানির আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। একই সঙ্গে এফডিআর বাণিজ্য ও কোম্পানির বিপুল পরিমাণ বকেয়ার সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। মির্জা কামাল যখন বকেয়া আদায় কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন, তখন দুই বছরে কোম্পানির বকেয়া বাড়ে ১৬০ কোটি টাকা। বকেয়া আদায় না করলেও নিয়মিতই বকেয়া আদায়ের সভা করতেন মির্জা কামাল এবং ৮০টির বেশি সভায় প্রায় ২০ লাখ টাকার বেশি সম্মানী নিয়েছেন কমিটির সদস্যরা।

অন্যদিকে কোম্পানির ব্যাংকিং ও ইনভেস্টমেন্ট পলিসি না মেনে নিজস্ব স্বার্থে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোতে বিনিয়োগ করা হয়েছে। শুধু এস আলমের ঝুঁকিপূর্ণ তিন ব্যাংকে বিনিয়োগ করা হয়েছে প্রায় ৫০ কোটি টাকা।

মির্জা কামাল এমডি থাকায় অবস্থায় সাবমেরিন কেবল কোম্পানির আয় ও মুনাফায় ধস দেখা দেয়। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে মির্জা কামাল এমডি থাকা অবস্থায় কোম্পানির আয় (রেভিনিউ) কমে দাঁড়ায় ৩৯৮ কোটি টাকা, যা ২০২২-২৩ হিসাব বছরে ছিল ৫১৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে আয় কমেছে ১১৩ কোটি টাকা। আয় কমে যাওয়ায় ২০২৩-২৪ হিসাব বছরে বিএসসিপিএলসির নিট মুনাফা কমে দাঁড়ায় ১৮২ কোটি টাকা। যেখানে আগের অর্থবছরে কোম্পানিটি মুনাফা করেছিল ২৭৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে মুনাফা কমে ৯৭ কোটি টাকা।

এমন একজন কর্মকর্তার পদোন্নতিতে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন পদোন্নতিপ্রাপ্ত অন্য কর্মকর্তারাও। কীভাবে এবং কার তদবিরে তিনি এই পদোন্নতি পেলেন, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলে উঠছে প্রশ্ন।

এর আগে জুলাই আন্দোলনে আন্দোলনে ইন্টারনেট বন্ধ এবং বিএসপিপিএলসিতে থাকা অবস্থায় নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকার অপরাধে মির্জা কামালকে সাবমেরিন কেবলের এমডি পদ থেকে সরিয়ে দেয় অন্তর্বর্তী সরকার। এমডি পদ থেকে সরিয়ে নেওয়া হলেও কোনো কার্যকর শাস্তির আওতায় আনা হয়নি এই কর্মকর্তাকে।

সম্প্রতি তৃতীয় গ্রেডে পদোন্নতি পাওয়ার পর সাবমেরিন কেবলের এমডি পদে ফিরতে জোরালোভাবে চেষ্টা চালাচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে নানা অনিয়মে অভিযুক্ত মির্জা কামাল আহম্মদের বিরুদ্ধে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে মির্জা কামাল আহম্মদের মোবাইল নম্বরে কয়েকবার ফোন করলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। কিছুক্ষণ আবার কল দিলে কল ঢুকলেও তিনি কেটে দেন। তার বিরুদ্ধে ওঠা সুনির্দিষ্ট এসব অভিযোগের উত্তর জানতে চেয়ে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হয়। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তিনি কোনো জবাব দেননি।

কী ঘটেছিল আপিল বিভাগে

আদালতের কার্যক্রম শুরুর পর পরই একটি মামলায় আদেশ দেন আপিল বিভাগ। তথ্য গোপন ও প্রতারণার অভিযোগে আপিলকারী ও আইনজীবীকে ৫ লাখ টাকা করে জরিমানা (খরচা আরোপ) করা হয়। এরপর স্বাভাবিকভাবেই চলছিল অন্য মামলার কার্যক্রম। দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের সভাপতি মাহবুব উদ্দিন খোকনের একটি মৌখিক আবেদন ঘিরে তৈরি হয় বিতণ্ডা। খোকন সকালে আইনজীবীকে করা জরিমানা মওকুফ করার আর্জি জানান আপিল বিভাগের কাছে। তার এই মৌখিক আবেদন শুনে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী জানিয়ে দেন আদালত যে আদেশ দিয়েছে তা পরিবর্তন হবে না। তখন মাহবুব উদ্দিন খোকন প্রধান বিচারপতিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনি দায়িত্ব নেয়ার পর আইনজীবীদের ইনকাম কমে গেছে। বার সভাপতির এই বক্তব্যের পর প্রধান বিচারপতি খোকনকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনি যা বলেছেন তা আদালত অবমাননার শামিল।

আপনি যেহেতু এত বড় কথা বলেছেন, আজকে আমি আর আদালতের কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করবো না। এরপর প্রধান বিচারপতি ও অন্য চার বিচারপতি এজলাস ছেড়ে চলে যান। বন্ধ হয়ে যায় আপিল বিভাগের কার্যক্রম। পরে ঘটনার বিষয়ে বার এসোসিয়েশনের সভাপতি মাহবুব উদ্দিন খোকন, অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল পৃথক ব্রিফ করেন। এ ঘটনা ঘিরে গতকাল নানা আলোচনা ছিল আদালত অঙ্গনে। আপিল বিভাগে এ ধরনের ঘটনা এর আগে ঘটেছে এমনটি স্মরণ করতে পারেননি সিনিয়র অনেক আইনজীবী।

প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে আপিল বিভাগের কার্যক্রম চলার সময় সাংবাদিকরা উপস্থিত থাকতে পারেন না। সাংবাদিক সংগঠনগুলো বারবার দাবি জানালেও প্রবেশাধিকার উন্মুক্ত হয়নি। সাংবাদিকরা উপস্থিত না থাকায় দুই পক্ষের বক্তব্য এবং আইনজীবীদের বর্ণনা থেকেই ঘটনার বিষয় জানা যায়।

সকাল সাড়ে ৯টার পর প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বে আপিল বিভাগের কার্যক্রম শুরু হয়। ৫ সদস্যের আপিল বেঞ্চে বিচারপতি মো. রেজাউল হক, বিচারপতি এস এম এমদাদুল হক, বিচারপতি ফারাহ মাহবুব এবং বিচারপতি মো. হাবিবুল গণি উপস্থিত ছিলেন।
কার্য তালিকার প্রথমেই ছিল যাত্রাবাড়ী থানার ৬৫ নম্বর ওয়ার্ডের নিকাহ রেজিস্ট্রার মিজানুর রহমান মুরাদের নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্ট বিভাগে রিট সংক্রান্ত আপিলের আইটেম। আপিলকারী মোহাম্মদ নুর আলম তথ্য গোপন করে একই বিষয়ে হাইকোর্ট বিভাগে একাধিক রিট আবেদন দায়ের করে আদালতের সঙ্গে প্রতারণার তথ্য তুলে ধরেন সরকার পক্ষের কৌঁসুলিরা। এই অভিযোগে রিটকারী মোহাম্মদ নুর আলম ও তার আইনজীবী সুফিয়া আহামেদকে পৃথকভাবে ৫ লাখ টাকা করে মোট ১০ লাখ টাকা খরচা আরোপ করেন আপিল বিভাগ। আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এই অর্থ ঢাকা শিশু হাসপাতালে জমা দেয়ার নির্দেশ দেন আদালত।

আপিল আবেদনের বিষয়ে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক বলেন, ২০১৩ সালে অস্থায়ী কাজী নিয়োগকে কেন্দ্র করে এ মামলার সূত্রপাত। যাত্রাবাড়ী থানার ৬৫ নম্বর ওয়ার্ডের নিকাহ রেজিস্ট্রার মিজানুর রহমান মুরাদের নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মো. নূর আলম ২০১৬ সালে রিট আবেদন করেন, রিট পিটিশন নম্বর ১৪৮২১। সেখানে অস্থায়ী নিয়োগ স্থায়ী করার আবেদন করা হয় এবং স্থায়ী নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তির নিয়োগ বাতিল চাওয়া হয়। ওই মামলায় নূর আলম হাইকোর্টে হেরে যাওয়ার পর বিষয়টি আপিল বিভাগে যায়। আপিল বিভাগ অস্থায়ী নিয়োগ বাতিল করে স্থায়ী নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের বহাল রাখার আদেশ দেয়। এরপর ২০১৮ সালে ১৬০৮৮ নম্বর রিট আবেদন করা হয়। আগের মামলাগুলোর তথ্য গোপন করে ২০২১ সালে ১১৪৪৬ নম্বর এবং সর্বশেষ ২০২৬ সালে ৯৬৩১ নম্বর রিট আবেদন করা হয়। এসব মামলার কোনোটিতেই আগের মামলার আদেশ এবং আপিল বিভাগের আদেশের বিষয়ে বলা হয়নি। এর মধ্যে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিবের বিরুদ্ধেও আদালত অবমাননার আবেদন আনা হয়।

তিনি বলেন, বিষয়টি একদিনে নিষ্পত্তি হয়নি। টানা ৩ দিন শুনানি হয়েছে। শুনানির সময় আপিল বিভাগের রেকর্ড ও পুরনো ফাইল তলব করে দেখা হয়, একই বাদী ও একই আইনজীবী পর পর একাধিক রিট আবেদন করেছেন এবং আগের মামলাগুলোর তথ্য গোপন করেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত রিট আবেদনকারী এবং তার আইনজীবীকে ৫ লাখ টাকা করে জরিমানা করেন। ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন এসব মামলায় ফাইলিং আইনজীবীর সিনিয়র হিসেবে যুক্ত ছিলেন বলে জানান তিনি।

অনীক আর হক বলেন, জরিমানা করার সময় সংশ্লিষ্ট নারী আইনজীবী আদালতে উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি আদালতের আদেশ মেনে নেন। প্রায় তিন ঘণ্টা পর ব্যারিস্টার খোকন বিষয়টি নিয়ে আদালতে কথা বলেন। তখন ওই নারী আইনজীবী সেখানে উপস্থিত ছিলেন না।

আপিল বিভাগের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল সংবাদ সম্মেলন করে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মামলার বাদী পাঁচটি রিট দায়ের করেছেন একই আদেশ চ্যালেঞ্জ করে। …পাঁচটি রিট দায়ের করেছেন অথচ পূর্বে রিজেক্ট হওয়ার আদেশটি পরবর্তী রিটে উল্লেখ করা হয়নি। যে কারণে নারী আইনজীবীকে আজ আপিল বিভাগ ফাইন করেছেন পাঁচ লাখ টাকা এবং রিট আবেদনকারীকে পাঁচ লাখ টাকা, যে টাকা সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে ঢাকা শিশু হাসপাতালে জমা দেয়ার কথা বলা হয়েছে। নারী আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী মামলায় সিনিয়র আইনজীবী ছিলেন এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন।

সকালে যখন আদেশ হয়, তখন নারী আইনজীবী আমার পাশে বসে আদেশটি শুনেছেন, উনার স্বামীও আমার পাশে বসা ছিলেন। কিন্তু আদেশ দেয়ার সময় ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তবে আইনজীবী সুফিয়া আহমেদ তখন আমার পাশে বসেছিলেন এবং বারবার বলছিলেন, খোকন ভাই আমাকে কী বিপদে ফেলল। ওই মামলায় সকাল সোয়া নয়টার দিকে আদেশ হয়। আর এ ঘটনার (এজলাস ত্যাগ) অবতারণা হচ্ছে ১২টা ৩৫ মিনিটে। অন্য একটি মামলার সময় মাহবুব উদ্দিন খোকন ওই প্রসঙ্গে (খরচা আরোপ) বললেন যে একজন আইনজীবীকে আপনারা ফাইন করেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে তখন প্রধান বিচারপতি বলেন, দেখেন, আমরা সবকিছুতে দেখে শুনে একটা আদেশ দিয়েছি, আমাদের আদেশ আমরা পরিবর্তন করব না। কারণ, ওনাদের (আদালত) বক্তব্য অনুযায়ী সিরিয়াস ফ্রড করা হয়েছে। আদালতের সঙ্গে প্রতারণা এমনকি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের ইতিপূর্বের আদেশও ফ্রড করা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বললেন, আপনি (মাহবুব উদ্দিন খোকন) এটা বলবেন না।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, তখন অত্যন্ত অপ্রত্যাশিতভাবে মাহবুব উদ্দিন খোকন বলে ফেললেন যে আপনি প্রধান বিচারপতি হওয়ার পরে আইনজীবীদের ইনকাম কমে গেছে। বিষয়টি প্রধান বিচারপতি একটু লাইটলি নিলেন। তারপরে বললেন, আপনি (মাহবুব উদ্দিন খোকন) কি এটা মিন করেন? মাহবুব উদ্দিন খোকন অনেকটা সেই একই কথা বলার যখন চেষ্টা করেন, তখন প্রধান বিচারপতি বলেছেন যে আপনি (খোকন) যে কথাটা বলেছেন, সেটা অ্যাবসলিউটলি আদালত অবমাননার শামিল। যেহেতু আপনি এত বড় একটা কথা বলেছেন, আমি আজকে আর আদালতের কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করবো না। এ কথা বলে উনি (প্রধান বিচারপতি) উঠে (এজলাস থেকে) গেছেন। অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, বলেন, প্রধান বিচারপতি বিচারিক শৃঙ্খলা, সততা প্রাধান্য দেন। কোনো প্রতারণা যদি দেখেন, তা সিরিয়াসলি ডিল (গুরুত্বের সঙ্গে দেখেন) করেন। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, প্রধান বিচারপতি সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবীদের অভিভাবক। আদালতে আইনজীবীদের সঙ্গে বিচারকদের ভুল বোঝাবুঝি বা মতপার্থক্য হতে পারে, কিন্তু তা সাধারণত আদালতের কার্যক্রমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। তিনি বলেন, ব্যারিস্টার খোকন একজন সংসদ সদস্য হওয়ায় তার কাছ থেকে এমন বক্তব্য ‘অপ্রত্যাশিত’ ছিল।

ঘটনার বিষয়ে যা বলেন ব্যারিস্টার খোকন: ঘটনার পরে ব্যারিস্টার খোকন সাংবাদিকদের বলেন, অন্য একটি মামলার কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর তিনি প্রধান বিচারপতির কাছে ওই নারী আইনজীবীর ৫ লাখ টাকা জরিমানা মওকুফের অনুরোধ করেন। তিনি বলেন, একজন জুনিয়র ল’ইয়ার, ৫ লাখ টাকা কস্ট দেয়াটা অনেক বেশি হয়ে গেছে, এটা মাফ করে দেয়া দরকার। বিষয়টি তিনি ‘ন্যায়বিচারের স্বার্থেই’ বলেছেন বলে উল্লেখ করেন খোকন।

তিনি বলেন, মামলায় আইনজীবীর জয়-পরাজয় হতে পারে, কিন্তু জুনিয়র আইনজীবীর ওপর ৫ লাখ টাকা জরিমানা অনেক বেশি। তিনি আরও বলেন, ওই কথোপকথনের একপর্যায়ে তিনি আপিল বিভাগে মামলা কমে যাওয়া এবং এর ফলে আইনজীবীদের আয় কমে যাওয়ার প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি বলেন, আমি মাননীয় প্রধান বিচারপতিকে বললাম, যে আপনি মাননীয় প্রধান বিচারপতি হওয়ার পরে আসলে মামলা-টামলা খুব একটা হচ্ছে না আপিল বিভাগে। আইনজীবীদের ইনকাম কমে গেছে। এই বক্তব্যের উদ্দেশ্য ছিল আপিল বিভাগে বেঞ্চের সংখ্যা কমে যাওয়ার কারণে মামলার শুনানি কমে যাওয়ার বিষয়টি বোঝানো।

খোকন আরও বলেন, আগে আপিল বিভাগে ১১ জন বিচারপতি ছিলেন এবং তিনটি বেঞ্চে নিয়মিত মামলা শুনানি হত। এখন একটি বেঞ্চে মামলা শুনানি হওয়ায় হাজার হাজার মামলা পড়ে আছে এবং চেম্বার আদালত থেকে কোনো মামলায় স্থগিতাদেশ হলে পরে সেটি শুনানির জন্য আনা কঠিন হয়ে পড়ছে। এ সময় নিজের একটি মামলার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ওই মামলায় সর্বোচ্চ তিন মাসের সাজা হতে পারে। কিন্তু মামলাটি এক বছর ধরে আপিল বিভাগে স্থগিত রয়েছে। চারবার চেম্বার জজের কাছে শুনানির জন্য নির্ধারণ করেও মামলাটি শুনানি করাতে পারিনি।
ব্যারিস্টার খোকন দাবি করেন, প্রধান বিচারপতির সঙ্গে তার কোনো তর্ক হয়নি। আইনজীবীদের প্রতিনিধি হিসেবে তাদের স্বার্থের কথা বলা তার দায়িত্ব। তিনি বলেন, আমি তো চিন্তা করি নাই যে মাননীয় প্রধান বিচারপতি এত রিঅ্যাক্ট করবেন। উনারতো রাগ-অভিমানের ঊর্ধ্বে থাকার কথা। আর ল’ইয়ারদের প্রতিনিধি হিসেবে অবশ্যই আমার অবলিগেশন আছে উনার কাছে ল’ইয়ারদের পক্ষে আবেদন করার।

পাপ বাপকেও ছাড়ে না, ২৬ বছর আগের সেই ঘটনায় ১০৪ বছরে কারাগারে বৃদ্ধ

কিশোরগঞ্জে একটি দোকানে ডাকাতির পর দুই ব্যক্তিকে খুনের দায়ে উচ্চ আদালতের ১০ বছরের সাজা নিয়ে কারাগারে গেছেন ১০৪ বছরের বৃদ্ধ নুর মোহাম্মদ। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক ফারজানা ইয়াসমিনের আদালতে আত্মসমর্পণ করে আপিলের শর্তে জামিন প্রার্থনা করেন নুর মোহাম্মদ। পরে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মিজানুর এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ‘অসুস্থ বিবেচনায় নিজ খরচে পরিবহনে করে কারাগারে যাওয়ার আবেদন করেন। তবে আদালত আবেদন নামঞ্জুর করেন।’

জানা যায়, কিশোরগঞ্জের বড় বাজারস্থ এলাকায় দোকান মালিক মো. ফেরদৌসের দোকানে ২০০০ সালের ৩০ ডিসেম্বর রাতে ডাকাতি করতে গিয়ে মোশাররফ হোসেন ও আ. কবিরকে হত্যা করা হয়। দোকানের সিন্দুক থেকে সাড়ে ১২ লাখ টাকা ও ১১০ ভরি স্বর্ণ লুট করে নিয়ে যায় ডাকাতেরা। এ ঘটনায় ফেরদৌস কিশোরগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শেষে ২০০২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ১৪ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র জমা দেন কিশোরগঞ্জ থানার এসআই আনোয়ার হোসেন। এরপর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। পরে মামলাটি বিচারের জন্য কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। মামলার বিচার চলাকালে ১৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। ২০০৩ সালের ১৬ নভেম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে হাবিবুর রহমান হাবিব, শাহ আলম, মইন উদ্দিন ওরফে মঈন উদ্দিন, নুর মোহাম্মদ, আলম, দিলু ওরফে দেলোয়ার হোসেন, শুকুর আলী ও আলতু মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। এ ছাড়াও জসিম, সিদ্দিক, আমির চান, কবির ও বজলুর রহমানকে দেয়া হয় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। পাশাপাশি ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে এক বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। তবে মামলার বিচার চলাকালে হারিছ মিয়া মারা যান। পরে ডেথ রেফারেন্স শুনানি শেষে ২০০৭ সালের ১৯ আগস্ট উচ্চ আদালত আলমের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। অন্যান্য আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেন। নুর মোহাম্মদের ১০ বছরের সাজা হয়।

আজ মঙ্গলবার বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করে আপিলের শর্তে জামিন চান নুর মোহাম্মদ। তারপক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট ফয়সাল আহমেদ। শুনানিতে তিনি জানান, তার বয়স ১০৪ বছর। স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতে পারেন না। তাকে নিয়মিত চিকিৎসা ও ওষুধ সেবন করতে হয়। তিনি জটিল রোগে আক্রান্ত। স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেছেন। আপিলের শর্তে জামিন প্রার্থনা করেছেন। শুনানি নিয়ে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।

এর আগে মামলায় নুর মোহাম্মদ হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। পরে আদালত থেকে জামিন নিয়ে পলাতক হন। রায়ের সময় তিনি পলাতক ছিলেন।

সর্বশেষ আপডেট...

সর্বাধিক পঠিত...