
ঝিনাইদহে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে জেলা প্রশাসককে (ডিসি) দেয়া ডিলারশিপ বাতিলের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঝিনাইদহ জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ আব্দুল হাই। দাবি পূরণ না হলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাওসহ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।
রবিবার ঝিনাইদহ শহরের পায়রা চত্বরে জেলা জামায়াতে ইসলামীর আয়োজিত এক মানববন্ধনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যক্ষ আব্দুল হাই বলেন, “ঝিনাইদহের ডিসি মহোদয় যাদের টাকার বিনিময়ে ডিলারশিপ দিয়েছেন, অবিলম্বে সেই ডিলারশিপ বাতিল করুন। তা না হলে আজকের এই পায়রা চত্বরের মানববন্ধন থেমে থাকবে না। আপনাকে আমরা ঝিনাইদহে ডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে দেব না। ঝিনাইদহ থেকে আপনাকে বিদায় নিতেই হবে।”
জেলা প্রশাসকের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, “আমরা কাউকে অসম্মান করতে চাই না। সম্মানের সঙ্গে বলছি, আপনি নিজেকে সংশোধন করুন। এই অনিয়ম বন্ধ করুন এবং দুর্নীতির আখড়া বানিয়ে ফেলা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়কে দুর্নীতিমুক্ত করুন। না হলে আপনি পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও করব। আমরা নিয়মতান্ত্রিক পথেই থাকতে চাই।”
বক্তব্যের একপর্যায়ে জেলা প্রশাসককে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “জেলা প্রশাসক মহোদয়, আপনি পুরুষ মানুষ যদি হন, তাহলে পুরুষত্বের দায়িত্ব পালন করুন। আর যদি বলেন, আমি পুরুষ মানুষ না, আর যদি আপনি মেয়ে মানুষ হন, তাহলে আপনার হাতে আমরা চুড়ি পরিয়ে দেবো।” এ সময় তিনি জেলা প্রশাসকের উদ্দেশে আরও কিছু বিতর্কিত মন্তব্য করেন।
মানববন্ধনে অধ্যক্ষ আব্দুল হাই অভিযোগ করেন, ঝিনাইদহে অন্যায় ও দুর্নীতি বেড়েছে। জেলা পরিষদ ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আত্মীয়কেন্দ্রিক নিয়োগ এবং নিয়োগ-বাণিজ্য হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, জেলা পরিষদ ও প্রশাসনের বিভিন্ন নিয়োগে কত টাকার লেনদেন হয়েছে, তা তাঁদের জানা আছে।
তিনি আরও বলেন, “আজ বাংলাদেশ শালাবাবুদের দেশে পরিণত হয়েছে। আওয়ামী লীগ করুক আর যা-ই করুক, সে যদি বড় নেতার শালাবাবু হয়, তাহলে সবকিছুই পাবে। এটা চলতে দেয়া যাবে না।”
বিএনপির সমালোচনা করে জামায়াতের এই নেতা বলেন, “সাধের লাউ বানাইলো মোদের বৈরাগী। আজ ক্ষমতার বৈরাগী বানিয়ে ফেলেছে বিএনপিকে। আপনারা দেশের সবকিছু একাই ভোগ করবেন, সব আপনাদের—আর ক্ষমতার বৈরাগী যা ইচ্ছা তাই করা শুরু করে দিয়েছেন। আমরা স্পষ্ট করে বলছি, তা হবে না।”
অধ্যক্ষ আব্দুল হাই বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঝিনাইদহ জেলা শাখার সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য, ঝিনাইদহ জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি এবং মহেশপুর উপজেলার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান।
তবে ডিলারশিপ প্রদান, নিয়োগে অনিয়ম ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগের বিষয়ে জেলা প্রশাসনের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা প্রয়োজন।









































