প্রচ্ছদ জাতীয় দেশে এনসিপি করতেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা, বিদেশে গিয়ে পদত্যাগ করলেন

দেশে এনসিপি করতেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা, বিদেশে গিয়ে পদত্যাগ করলেন

জামায়াতের সঙ্গে জোটের নিয়ে দলের ভেতর দ্বিচারিতা বেড়ে চলার অভিযোগ তুলে পদত্যাগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) ও ফরিদপুর অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক মো. আব্দুর রহমান। আজ শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিদেশ থেকে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন তিনি।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আগে আব্দুর রহমান ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন। তিনি আল নাহিয়ান খান জয়-লেখক ভট্টাচার্য কমিটির কেন্দ্রীয় সদস্য ছিলেন। ২০১৯ সালের ডাকসুতে ছাত্রলীগের হয়ে হাজী মুহাম্মদ মুহসীন হল ছাত্র সংসদের সদস্যও নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। পড়াশোনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে।

পদত্যাগের আবেদনে তিনি লিখেছেন, আমি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) এবং ফরিদপুর অঞ্চলের অঞ্চল তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছি। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ধারাবাহিকতা পেরিয়ে নাগরিক কমিটির হাত ধরে পরবর্তীতে যুগের আশা জাগানিয়া সংগঠন এনসিপি গঠনের প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত থাকতে পেরে আমি নিজেকে গর্বিত মনে করি। সংগঠনের ঘোষিত লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, নতুন বন্দোবস্তের প্রত্যয় এবং বহুত্ববাদী গণতান্ত্রিক চেতনার প্রতি অঙ্গীকার আমাকে এই প্ল্যাটফর্মে কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করেছিল।

তিনি লিখেছেন, অত্যন্ত দুঃখের সাথে লক্ষ্য করছি যে, এনসিপির নির্বাচনকালীন ও নির্বাচন পরবর্তী রাজনৈতিক অবস্থান, স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াতের সাথে গঠিত নির্বাচনী ও রাজনৈতিক জোটের ফলে কেন্দ্র থেকে ওয়ার্ড পর্যন্ত জামায়াতি আদর্শের বিস্তার লাভ করেছে। জামায়াত প্রশ্নে দলের বহু প্রতিষ্ঠাকালীন মেধাবী ও পরিশ্রমী, সম্ভাবনাময় নেতৃত্ব এনসিপি ত্যাগ করেছে।

‘রাজনৈতিক জোট এবং আদর্শিক জোট এক হবে না’ এমন প্রত্যাশা থেকে আমি এনসিপির সঙ্গে থেকে যাই—উল্লেখ করে আব্দুর রহমান লিখেছেন, দিনে দিনে সংগঠনের ভিতরে বাহিরে দ্বিচারিতা যেন বেড়েই চলেছে। রাজনৈতিক জোট এখন আদর্শিক জোট হিসেবে একাকার হয়ে গেছে, যা সংগঠনের একজন কর্মী হিসেবে আমার মৌলিক আদর্শ ও চেতনার সাথে চরমভাবে সাংঘর্ষিক। একই সাথে সহকর্মীদের বিমাতা সুলভ আচরণ (বিশেষ করে ঐতিহাসিক বিষয়ে আমার মতামতের জন্য মুজিববাদী ট্যাগ দেওয়া) আমার মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে খর্ব করে, যা সহকর্মীদের ব্যাপারে অস্বস্তিকর মনোভাবের উদ্ভব ঘটায়।

তিনি লিখেছেন, বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠান ইতিহাস এবং প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্র বিভিন্ন দলের বা ব্যক্তির শাসনের ইতিহাসকে আমি দুটি পৃথক অধ্যায় হিসেবে বিবেচনা করি। রাষ্ট্রপ্রতিষ্ঠার ইতিহাস বিষয়ে এনসিপির নেতাকর্মীদের অবস্থান বর্তমানে জামায়াত-শিবিরের অবস্থানের সাথে একাকার হয়ে গেছে। ফলে আদর্শিক প্রশ্নেও এনসিপির স্বতন্ত্র অবস্থান বর্তমানে যেন জামায়াতের বয়ানের দ্বারাই আবর্তিত হচ্ছে।

তিনি আরও লিখেছেন, এমন অবস্থায় আমার পক্ষে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করা নৈতিক ও আদর্শিকভাবে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে, আমি এনসিপির সঙ্গে পথচলা এখানেই সমাপ্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং সব ধরনের সাংগঠনিক দায়িত্ব ও পদ থেকে স্বেচ্ছায়, সজ্ঞানে পদত্যাগ করছি, যা অবিলম্বে কার্যকর করার জন্য বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি। সর্বশেষে এনসিপির বোধোদয়ে ভবিষ্যতে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে—এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করছি।