
পাকিস্তানের প্রশাসনিক কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। নতুন প্রদেশ গঠন করা হবে কি না, হলে কতটি হবে; এ নিয়ে যেমন ভাবনা চলছে, তেমনি বিকল্প হিসেবে আরও বেশি প্রশাসনিক ইউনিট তৈরির বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় সরকারব্যবস্থাকে পুনর্গঠন করে আরও কার্যকর ও ক্ষমতাবান করার প্রস্তাবও আলোচনায় এসেছে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) তার উদ্ধৃতি দিয়ে দেশটির সংবাদমাধ্যম ডন জানিয়েছে, এই আলোচনা সম্ভাব্য ২৮তম সংবিধান সংশোধনীর প্রস্তুতির অংশ হতে পারে।
দেশটির এক সরকারি কর্মকর্তার মতে, সংবিধানের ১৮তম সংশোধনীর পর কেন্দ্র ও প্রদেশের মধ্যে ক্ষমতার বণ্টন থেকে তৈরি হওয়া বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে নতুন প্রদেশ গঠন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। তার ভাষ্য, প্রদেশগুলোর হাতে আরও ক্ষমতা দেওয়ার পর কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর যে চাপ তৈরি হয়েছে, প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে তার কিছুটা সমাধান সম্ভব।
সম্প্রতি পাকিস্তান ইকোনমিক সামিট ২০২৬-এ বক্তব্য দেওয়ার সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি দেশের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলো সমাধানে সব রাজনৈতিক দলকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। নতুন প্রদেশ গঠনের বিষয়টিও তিনি আলোচনায় আনেন এবং দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতির উন্নয়নে এটিকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরেন।
এর পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে। তবে পাকিস্তানের আইনজীবী সংগঠনগুলোর মধ্যে এ নিয়ে একমত দেখা যায়নি। সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন প্রস্তাবটির প্রতি সমর্থন জানালেও পাকিস্তান বার কাউন্সিল বলেছে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে হলে সংবিধান মেনে সংসদের মাধ্যমে এবং জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে এগোতে হবে।
সরকারি ওই কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন প্রদেশ গঠনের সিদ্ধান্ত হলে পরবর্তী বড় প্রশ্ন হবে কতগুলো প্রদেশ তৈরি করা হবে। আলোচনায় থাকা একটি প্রস্তাবে করাচি ও গোয়াদরকে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে রাখার কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে সিন্ধুর অবশিষ্ট অংশকে একটি প্রদেশ হিসেবে রাখার প্রস্তাব রয়েছে।
বেলুচিস্তানকে দুটি এবং পাঞ্জাবকে তিনটি প্রদেশে ভাগ করার একটি ধারণাও আলোচনায় এসেছে। তবে খাইবার পাখতুনখাওয়ার ক্ষেত্রে বিষয়টি তুলনামূলক জটিল। সাবেক ফেডারেল শাসিত উপজাতীয় এলাকা (ফাটা) ইতিমধ্যে প্রদেশটির সঙ্গে একীভূত হয়েছে। ফলে নতুন করে বিভাজনের ক্ষেত্রে সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক নানা বিষয় বিবেচনায় নিতে হবে। এর পরও অঞ্চলটিকে পশতুন ও হাজারা এই দুই ভাগে বিভক্ত করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা রয়েছে।
তবে প্রদেশ পুনর্গঠনই একমাত্র বিকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে না। স্থানীয় সরকারব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে প্রদেশের পরিবর্তে স্থানীয় সরকারগুলোর কাছে সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারের মাধ্যমে অর্থ পাঠানোর একটি প্রস্তাব রয়েছে।
কর্মকর্তা মতে, সাবেক প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফের সময়ে চালু হওয়া স্থানীয় সরকারব্যবস্থা ধারাবাহিকভাবে কার্যকর থাকলে বর্তমানে স্থানীয় পর্যায়ের সমস্যা সমাধানে অভিজ্ঞ ও দক্ষ জনপ্রতিনিধিদের একটি বড় কাঠামো গড়ে উঠতে পারত। তাই পাকিস্তানের প্রশাসনিক সংস্কারের আলোচনায় নতুন প্রদেশের পাশাপাশি শক্তিশালী স্থানীয় সরকারব্যবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সূত্র: ডন












































