
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) শীর্ষ নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া গেছে। দলটির বর্তমান মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংবিধান ও আইনগত বাধ্যবাধকতার কারণে তাকে দলীয় পদ ছাড়তে হতে পারে, যার ফলে শূন্য হতে যাওয়া মহাসচিবের পদে আসার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি পদে মনোনিত হলে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব কে হবেন—তা নিয়ে বিএনপির নীতিনির্ধারণী মহলে জোর আলোচনা চলছে। এই পদের জন্য সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আছেন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামে দলের কেন্দ্রীয় কার্যক্রম পরিচালনা এবং দুঃসময়েও দলের মুখপাত্র হিসেবে অবিচল ভূমিকা পালনের কারণে হাইকমান্ডের আস্থায় রয়েছেন তিনি।
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও দলের শীর্ষ নীতিনির্ধারকদের ভাবনায় রিজভী আহমেদকে এই দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে আলোচিত হচ্ছে। তবে এই পদের দৌড়ে সালাহউদ্দিন আহমদ, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল এবং মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির মতো হেভিওয়েট নেতাদের নামও শোনা যাচ্ছে।
এ বিষয়ে রুহুল কবির রিজভী জানান যে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী বা ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের বিষয়ে তার কাছে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই এবং কেউ এখনো তার সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা করেননি। দল তাকে যেভাবে মূল্যায়ন করবে, শীর্ষ নেতৃত্বের সেই সিদ্ধান্ত তিনি মেনে নেবেন বলে জানান।
বিএনপির সবশেষ ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি তিন বছর পরপর কাউন্সিল হওয়ার নিয়ম থাকলেও নানা কারণে তা গত ১০ বছর ধরে স্থগিত রয়েছে। তবে দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দলের পরবর্তী কাউন্সিল আয়োজনের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। ওই কাউন্সিলেই দলের পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব নির্বাচন করা হতে পারে। ততদিন পর্যন্ত সাংগঠনিক গতিশীলতা রক্ষায় কাউকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।
সূত্র : ইত্তেফাক











































