প্রচ্ছদ জাতীয় ম্যাডাম যুবলীগ

ম্যাডাম যুবলীগ

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী নাহিদ সুলতানা যুথি আদালত অঙ্গনের পাশাপাশি যুবলীগের রাজনীতিতেও প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশের স্ত্রী হওয়ার সুবাদে তিনি সংগঠনের বিভিন্ন সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার করতেন এবং একটি শক্তিশালী ক্ষমতার বলয় গড়ে তুলেছিলেন বলে দাবি করেছেন সংগঠনটির একাধিক নেতা-কর্মী।

যুবলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের অভিযোগ, যুথির বিরুদ্ধে কমিটি গঠনে হস্তক্ষেপ, পদবাণিজ্য, মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে পদ দেওয়ার আশ্বাস, কমিটি ঝুলিয়ে রাখা, কমিশন আদায় এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মতো নানা অভিযোগ রয়েছে। তাদের দাবি, অনেক জেলা ও মহানগর কমিটি দীর্ঘদিন গঠন না হওয়ার পেছনেও তার ভূমিকা ছিল। ফলে সংগঠনের কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে আসে এবং অনেক নেতা হতাশ হয়ে রাজনীতি থেকে সরে যান।

অভিযোগ রয়েছে, যুবলীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়েও ছিল তার বিশেষ প্রভাব। তার অনুমতি ছাড়া চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশের সঙ্গে দেখা করাও অনেকের জন্য কঠিন ছিল বলে দাবি করেছেন কয়েকজন নেতা-কর্মী। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত বিভিন্ন আয়োজনেও সংগঠনের নেতা-কর্মীদের ব্যবহার করা হতো বলেও অভিযোগ তাদের।

এদিকে, ২০২৪ সালে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে সম্পাদক পদকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনাতেও নাহিদ সুলতানা যুথির নাম আলোচনায় আসে। অভিযোগ রয়েছে, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা, হামলা এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় হত্যাচেষ্টাসহ একাধিক অভিযোগে মামলা হয়। পরে তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান।

যুবলীগের একাধিক নেতা দাবি করেন, সংগঠনের ভেতরে ভিন্নমত দমন, পদ বাণিজ্য এবং ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণের কারণে যুবলীগ সাংগঠনিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বর্তমানে নাহিদ সুলতানা যুথি তার স্বামী, যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশের সঙ্গে কানাডায় অবস্থান করছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, নাহিদ সুলতানা যুথির বিরুদ্ধে উত্থাপিত এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বা শেখ ফজলে শামস পরশের কোনো বক্তব্য এই প্রতিবেদনের জন্য পাওয়া যায়নি।