
রাজধানীর সরকারি গ্রাফিক আর্টস ইনস্টিটিউটের আবাসিক হল থেকে ইসলামী ছাত্রশিবিরের ১০ থেকে ১৫ জন শিক্ষার্থীকে জোরপূর্বক বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় মেহেদী নামে এক শিবিরকর্মী আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গ্রাফিক আর্টস ইনস্টিটিউট ছাত্রদলের আহ্বায়ক তামিম মাতুব্বর এবং ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মোতাহার হোসেনের নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী হলে প্রবেশ করেন। পরে শিবিরের ১০ থেকে ১৫ জন শিক্ষার্থীকে ব্যাগ ও ব্যক্তিগত মালামাল নিয়ে হল ছাড়তে বাধ্য করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, হল থেকে বের করার পর কয়েকজন শিক্ষার্থীকে মারধর করতে করতে ইনস্টিটিউটের সামনে থেকে মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ডের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ইনস্টিটিউটের সামনে থেকে মিছিল বের করে মোহাম্মদপুর থানার সামনে ও ধানমন্ডি ২৭ নম্বর ক্রসিং অতিক্রম করে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
সরকারি গ্রাফিক আর্টস ইনস্টিটিউটের নিরাপত্তাকর্মী খশিয়ার জানান, রাত ১২টার দিকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এক শিক্ষার্থীকে মারধর করেন। পরে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ইনস্টিটিউটের সামনের একটি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিবিরের এক সদস্য দাবি করেন, হলের ভেতরে তাদের মারধর করা হয় এবং জোরপূর্বক বের করে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, মধ্যরাতে আমাদের প্রায় ১৫ জনকে হল ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে। এখন আমরা কোথায় যাব, বুঝতে পারছি না।
তবে অভিযোগ অস্বীকার না করে ঘটনার ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন গ্রাফিক আর্টস ইনস্টিটিউট ছাত্রদলের আহ্বায়ক তামিম মাতুব্বর। তিনি বলেন, প্রথমে রোহান নামে এক ছাত্রলীগকর্মীকে হল থেকে বের করতে গেলে শিবিরের কর্মীরা বাধা দেন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্কের সৃষ্টি হলে ওই ছাত্রলীগকর্মী পালিয়ে যান।
ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মোতাহার হোসেন দাবি করেন, মঙ্গলবার সারাদিন ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা ছাত্রদলের ওপর একাধিক হামলা চালিয়েছে। এতে তাদের কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, আমরা খবর পাই, গ্রাফিক আর্টস ইনস্টিটিউটের হলে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা নাশকতার পরিকল্পনা করছে। এরপর আমরা সেখানে গিয়ে তাদের হল থেকে বের করে দিই।
ঘটনার খবর পেয়ে মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও পুলিশের দুই পরিদর্শক ঘটনাস্থলে যান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকায় তারা পরে সেখান থেকে চলে যান। বর্তমানে ইনস্টিটিউটের সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
তবে এ বিষয়ে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশের কোনো কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিকভাবে মন্তব্য করতে রাজি হননি।













































