
নির্বাচিত সরকার পাওয়ার পর গোটা দেশ এখন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের অপেক্ষায়। এর আগে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী ও উপদেষ্টা স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে নানান তথ্য দিয়েছে। তবে এবার নতুন তথ্য দিলেন ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
তিনি জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো নির্বাচন কমিশন (ইসি) সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা পায়নি। সোমবার (০৩ আগস্ট) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।
আগামী অক্টোবর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্ভব কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, তফশিল ঘোষণা থেকে নির্বাচনের তারিখের মধ্যে সাধারণত ৪৫ দিনের ব্যবধান থাকে। এ ছাড়া ভোটার তালিকা চূড়ান্ত ও প্রিন্ট করতে আরও প্রায় দেড় মাস সময় লাগে। সব মিলিয়ে একটি নির্বাচনের জন্য প্রায় ৩ মাসের একটি ব্যাকওয়ার্ড ক্যালকুলেশন বা প্রস্তুতি সময় প্রয়োজন হয়। তারপর বিভিন্ন সময়ের কথা আসছে, সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের কথা বলা হয়েছে, আবার ডিসেম্বরের কথা শুনেছি। সুস্পষ্ট কোনো তথ্য না থাকায়, এ বিষয়ে আমার না বলা ভালো।
ইসি সচিব বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত ভোটার হওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছিল। এখন যেহেতু স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে আমাদের কাছে সুস্পষ্ট নির্দেশনা নেই। ফলে ৩১ জুলাই পর্যন্ত ভোটার হওয়ার সময়সীমা পরিবর্তন হতে পারে বা নাও হতে পারে।
এদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও আইন সংশোধন নিয়ে তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইন সংশোধনের কিছু প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞা স্পষ্ট করা, দ্বৈত নাগরিকত্ব এবং ঋণখেলাপিসংক্রান্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ সুপারিশগুলো স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানো হবে। আইনের মালিকানা স্থানীয় সরকার বিভাগের। আমাদের দুজন নির্বাচন কমিশনার দেশের বাইরে আছেন, তারা আসার পরেই এটা পাঠাব।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে কীনা জানতে চাইলে ইসি সচিব বলেন, আমার জানামতে সেরকম যোগাযোগ হয়নি। তবে, আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি, তাতে ধীরগতি নেই।
তিনি বলেন, প্রস্তুতির ৩টা পার্ট, একটা বিধিমালা ও আইন সম্পর্কিত, দ্বিতীয় ইকুইপমেন্ট রিলেটেড, আর তৃতীয় হচ্ছে প্রশিক্ষণ। আচরণ বিধিমালা প্রস্তুত করেছি। ইকুইপমেন্ট আমাদের আছে, ভোট কেন্দ্র আছে। এরপর লাগে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ। টিওটি মডেলে মাস্টার ট্রেইনার ডেভেলপ করে কাজ করব। আমাদের প্রস্তুতি চলমান।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে সংলাপের বিষয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের বিষয়ে জানানো হয়েছে যে, ইতোমধ্যে বিভিন্ন বিধিমালা নিয়ে তাদের মতামত নেওয়া হয়েছে। বাড়তি কোনো সংলাপের বিষয়ে আপাতত কোনো সিদ্ধান্ত নেই। হিসাব জমা দিয়েছে ৩৮ দল নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিএনপি, জামায়াতসহ ৩৮টি দল বিগত পঞ্জিকা বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব ইসিতে জমা দিয়েছে। ১৩টি দল সময় বাড়ানোর আবেদন করেছে এবং ৮টি দল সাড়া দেয়নি।
আইন অনুযায়ী, ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোকে বিগত বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দিতে হয়। বিষয়টি উল্লেখ করে ইসি সচিব বলেন, ‘যেহেতু ওইদিন শুক্রবার ছিল, তাই ২ আগস্ট পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়েছিল। ৫৯টি নিবন্ধিত দলের মধ্যে একটি স্থগিত আছে (আওয়ামী লীগ)। বাকি ৫৮টি দলের মধ্যে ৩৮টি দল তাদের অডিট রিপোর্ট জমা দিয়েছে। ১৩টি দল সময় বৃদ্ধির আবেদন করেছে এবং ৮টি দল কোনো সাড়া দেয়নি। যারা সাড়া দেয়নি, তাদের আইন অনুযায়ী নোটিশ দেওয়া হবে।
সূত্র : বাংলা ভিশন












































