
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলায় এক স্কুলছাত্রী ও এক তরুণকে গাছের সঙ্গে বেঁধে প্রকাশ্যে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে নয়ন গোলদার (৪৫) নামের এক বিএনপি নেতাকে আটক করেছে পুলিশ। রবিবার (২ আগস্ট) ভোরে সদর উপজেলার সাতপাড় গ্রাম থেকে তাকে আটক করা হয়। আটক নয়ন গোলদার কাশিয়ানী উপজেলার হাতিয়াড়া ইউনিয়নের রাহুথড় গ্রামের নীরোদ গোলদারের ছেলে এবং হাতিয়াড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক।
বিষয়টি নিশ্চিত করে কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘আটক নয়ন গোলদারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও আটক করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি নির্যাতনের ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।’
গত ২৮ জুলাই কাশিয়ানী উপজেলার হাতিয়াড়া ইউনিয়নের রাহুথড় উদয়ন উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এক স্কুলছাত্রী ও এক তরুণকে গাছের সঙ্গে বেঁধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। এ সময় ঘটনার ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার পর ওই ছাত্রী বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে। পরে তাকে উদ্ধার করে রাহুথড় উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠান। পরে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে ওই শিক্ষার্থী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ জুলাই স্কুল চলাকালে ওই কিশোরী ও তরুণকে বিদ্যালয়ে নিয়ে যান কয়েকজন। পরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একটি দেবদারু গাছের সঙ্গে গামছা দিয়ে তাদের বেঁধে রাখা হয়। শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের উপস্থিতিতে তাদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। এ সময় উপস্থিত কয়েকজন ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইন্দ্রজিত সরকার বলেন, ‘আমি ঘটনার দিন স্কুলে ছিলাম না। পরে বিষয়টি শুনেছি। স্কুলের সভাপতিও ঢাকায় ছিলেন। তিনি বাড়িতে আসছেন। তার সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ঘটনার সময় স্কুলে প্রধান শিক্ষকের রুটিন দায়িত্বে থাকা সিনিয়র সহকারী শিক্ষক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘ওই দিন ওই শিক্ষার্থী স্কুলে আসেনি। স্কুলের পোশাক পরে রাহুথর থেকে হাতিয়াড়া গ্রামে যায়। সেখান থেকে এক তরুণসহ তাকে ধরে আনে কয়েকজন ব্যক্তি। পরে স্কুলের গেটের পাশে একটি গাছে বেঁধে রাখে। তখন শিক্ষকরা ক্লাস নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। ভুক্তভোগী এই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। গেটের পাশের ওই জায়গা থেকে স্কুল অফিসের দূরত্ব অনেক। সে কারণে শিক্ষক-কর্মচারীরা ঘটনাটি টের পাননি। পরে নয়ন গোলদার তাদের নিয়ে স্কুলের অফিসে আসেন। অভিভাবকদের কাছে তাদের দুজনকে হস্তান্তর করা হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘স্কুলছাত্রীকে ধরে আনার আগে কী ঘটনা ঘটেছিল, তা আমার জানা নেই। পরে বিষয়টি প্রধান শিক্ষককে অবহিত করেছি।’
স্থানীয় লোকজনের দাবি, নির্যাতনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়া, অপমান ও মানসিক যন্ত্রণার কারণে ওই ছাত্রী বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। পরে তাকে স্থানীয় উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া হয়। সেখান থেকে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠান। সেখানে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে।
সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন










































