
জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) নিয়ে দেওয়া বক্তব্যের একটি খণ্ডিত অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর এ নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন তাহরিকে খতমে নবুওয়্যাত বাংলাদেশের আমির ড. মুফতি সাইয়্যেদ মুহাম্মদ এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী সিদ্দিকী।
তার দাবি, বক্তব্যের একটি খণ্ডিত অংশ প্রচার করে তাকে নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হয়েছে এবং রাজনৈতিকভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। যদিও পরে পুরো বক্তব্যের ভিডিও প্রকাশ করেন তিনি।
রোববার (০২ আগস্ট) গণমাধ্যমে এমন অভিযোগ করে এর ব্যাখ্যা দিলেন এনায়েত উল্লাহ আব্বাসী।
এর আগে ওই ভিডিওতে আব্বাসী এনসিপিকে নিয়ে বলেন, ‘মাইক নিয়ে যখন তখন প্রধানমন্ত্রী, তার স্ত্রী-কন্যাকে নিয়ে গালি/গালাজ করবে, তো সরকার দল আঙুল চুষবে? আমার মনে হয় দুষ্টচক্রের কিছু গোপ্ত লোক এনসিপির ভেতরে ঢুকেছে। এনসিপিকে আরও ধৈর্যশীল হতে হবে। আমরা চাই, জাসদের মতো এনসিপি হারিয়ে না যাক।’
তার ওই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ‘এনপিবি নিউজ’- এ সংবাদ প্রকাশের পর তা মুহুর্তেই ভাইরালসহ সর্বমহলে আলোচনায় আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে রোববার এনসিপিকে নিয়ে করা সেই বক্তব্যের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দিলেন এনায়েত উল্লাহ আব্বাসী।
এদিকে এনসিপিকে নিয়ে ভাইরাল হওয়া বক্তব্য প্রসঙ্গে এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী বলেন, চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এনসিপিকে নিয়ে তার কিছু মন্তব্যকে কেন্দ্র করে একটি রাজনৈতিক দলের ‘বটবাহিনী’ অপপ্রচার চালাচ্ছে। তবে তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষ নেন না। তার ভাষ্য, তার সব কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্য দ্বীন, উম্মাহ এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করা।
তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রামে এনসিপির অবদান অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকেই দলটির বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ডের গঠনমূলক সমালোচনা করে আসছেন তিনি।
এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীর দাবি, বিভিন্ন সময়ে এনসিপির কিছু রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। তার ভাষ্য, একসময় দলটি ফরহাদ মাজহারের প্রভাবাধীন ছিল এবং জর্জ সোরোসের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করেছে। পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে দলটির নীরবতারও সমালোচনা করেছেন তিনি।
তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর যে দলের নেতাই কোরআন-সুন্নাহ ও ইসলামের পরিপন্থী বক্তব্য দিয়েছেন, তাদের সমালোচনা করেছেন। বিএনপির নেতাদের যেমন সমালোচনা করেছেন, তেমনি জামায়াতের নেতা-বক্তাদের বক্তব্য নিয়েও কথা বলেছেন। একই ধারাবাহিকতায় এনসিপির কিছু কর্মকাণ্ড নিয়েও সমালোচনা করেছেন বলে জানান তিনি।
ভাইরাল হওয়া ভিডিও প্রসঙ্গে এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী জানান, তার বক্তব্যের একটি অংশ বিচ্ছিন্নভাবে প্রচার করা হয়েছে। পুরো বক্তব্য শুনলে তিনি কী বোঝাতে চেয়েছেন, তা স্পষ্ট হবে। এ কারণে সমালোচকদের সম্পূর্ণ বক্তব্য শোনার আহ্বান জানান তিনি।
চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘দেশের মানুষকে রাজনৈতিকভাবে সচেতন থাকতে হবে। দেশের অজান্তে কোনো দেশবিরোধী চুক্তি বা সিদ্ধান্ত হলে তার খেসারত জনগণকেই দিতে হবে।’
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোরের বাংলাদেশ সফর প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, এ সফরের মাধ্যমে সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির চেষ্টা হতে পারে। তার মতে, বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও চীনকে ঘিরে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক করিডর বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ লাভবান হবে এবং চীনের আঞ্চলিক প্রভাব বাড়বে, যা যুক্তরাষ্ট্র চায় না। তবে এ দাবির পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সরকারের উচিত সব তথ্য জনগণের সামনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা। পাশাপাশি ভারতীয় আধিপত্যবাদ ও মার্কিন আগ্রাসনের বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
এর আগে গত শুক্রবার (৩১ জুলাই) জুমার বয়ানে তিনি এনসিপির নেতাদের উদ্দেশে বিভিন্ন পরামর্শ দেন। ওই বয়ানে প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারকে নিয়ে কটূক্তি প্রসঙ্গে করা মন্তব্যের একটি অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
এরপর তাকে বিএনপির পক্ষ নেওয়ার অভিযোগও ওঠে। তবে এ অভিযোগ নাকচ করে এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী বলেন, তিনি সব সময় নীতিগত অবস্থান থেকে সব রাজনৈতিক দলের ভুলের সমালোচনা করে আসছেন।










































