প্রচ্ছদ জাতীয় ‘আওয়ামী লীগ জম্বিলীগ হয়ে গেছে’ সোহেল তাজের পুরোনো বক্তব্য ভাইরাল

‘আওয়ামী লীগ জম্বিলীগ হয়ে গেছে’ সোহেল তাজের পুরোনো বক্তব্য ভাইরাল

বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ-এর ছেলে সোহেল তাজের পুরোনো বক্তব্য ‘আওয়ামী লীগ জম্বিলীগ হয়ে গেছে’ ফের ভাইরাল হয়েছে। গত বছরের জুলাইয়ে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের কঠোর সমালোচনা করে দলের আত্মসমালোচনা, অনুশোচনা ও ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানানো সেই বক্তব্য আবার সামনে আসছে।
গত বছরের ২৫ জুলাই পাবলিক ইনভেস্টিগেশন নামের ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, বর্তমান আওয়ামী লীগ আত্মসমালোচনা ও আত্মউপলব্ধির পরিবর্তে আগের অবস্থানেই রয়েছে। তার ভাষায়, “আত্মসমালোচনা, অনুতাপ ও ক্ষমা প্রার্থনা ছাড়া জনগণ কেন আওয়ামী লীগকে আবার গ্রহণ করবে?”

আওয়ামী লীগ এখন হয়ে গেছে জম্বি লীগ। জম্বি বুঝেন? কোনো আত্মসমালোচনা বা আত্ম উপলব্ধি, অনুতপ্ত না ক্ষমা চায় না। এই আওয়ামী লীগের সাথে কেন সম্পৃক্ত হব?

দেখেন আওয়ামী লীগ একটা একটা জিনিস আমি আগে বলেছি সবসময় এটাকে বলা হয় এক চেম্বার। এক চেম্বার হচ্ছে আপনি খেয়াল করবেন আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় ছিল চারিদিকে তাদের মাইক্রোফোন এবং লাউডস্পিকার দিয়ে তাদের কথা তারাই শুনছে।

সোহেল তাজ বলেন, দলটি এখন একটি “ইকো চেম্বারে” পরিণত হয়েছে, যেখানে নিজেদের বক্তব্য নিজেরাই বিশ্বাস করছে। তিনি দাবি করেন, বাস্তব পরিস্থিতি না বুঝেই দল আন্দোলনের কর্মসূচি দিচ্ছে, যার ফলে সাধারণ নেতাকর্মীরা হয়রানির মুখে পড়ছেন।

সাক্ষাৎকারে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে তাজউদ্দীন আহমদের পরিবারের সম্ভাব্য সম্পৃক্ততার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি তা নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, বর্তমান আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার কোনো কারণ তিনি দেখেন না। তার দাবি, দলটি এখনো অতীতের ঘটনাগুলো নিয়ে আত্মসমালোচনা করেনি বা দায় স্বীকার করেনি।

নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও কথা বলেন সোহেল তাজ। তিনি জানান, তার কোনো রাজনৈতিক পরিকল্পনা নেই। বরং তিনি এমন একটি বাংলাদেশ দেখতে চান, যেখানে বৈষম্য, দুর্নীতি ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পরিবেশে মেধার ভিত্তিতে মানুষ এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবে।

সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে একজন সাধারণ পরিবারের সন্তানও যেন দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে—এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলাই তার প্রত্যাশা।

অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নিজের অবস্থান প্রসঙ্গে সোহেল তাজ বলেন, তিনি প্রতিবাদ হিসেবেই পদত্যাগ করেছিলেন। তার দাবি, সেই সিদ্ধান্তের পর তার পরিবারকে নানা ধরনের হয়রানি ও নির্যাতনের মুখোমুখি হতে হয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, তার এক ভাগ্নেকে ২০১৯ সালে তুলে নিয়ে কয়েক দিন আটকে রাখা হয়েছিল।

আওয়ামী লীগের বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে সোহেল তাজ বলেন, দলটি যদি আত্মসমালোচনা, অনুশোচনা ও ক্ষমা প্রার্থনার পথে না আসে, তাহলে জনগণের আস্থা ফিরে পাওয়া কঠিন হবে।

পুরোনো ওই ভিডিওর ইউটিউব লিঙ্ক সোহেল তাজ নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে শেয়ার করেন। এরপরই এটা আবার সামনে আসে।