প্রচ্ছদ হেড লাইন বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা বন্ড নির্ধারণ করে দিলো যুক্তরাষ্ট্র

বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা বন্ড নির্ধারণ করে দিলো যুক্তরাষ্ট্র

বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য নতুন ভিসা বন্ড নীতি চালু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন বিধান অনুযায়ী, ব্যবসায়িক (বি-১) ও পর্যটন (বি-২) ভিসার আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে প্রয়োজনে সর্বোচ্চ ২০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত বন্ড বা জামানত জমা দিতে বলতে পারবেন মার্কিন কনস্যুলার কর্মকর্তারা।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের প্রকাশিত এক ফেডারেল নোটিশে এ তথ্য জানানো হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত চূড়ান্ত বিধি অনুযায়ী নতুন নিয়ম আগামী ৩ আগস্ট থেকে কার্যকর হবে।

বাংলাদেশ ছাড়াও আরও ৪৯টি দেশের নাগরিকদের জন্য এই ভিসা বন্ড কর্মসূচি প্রযোজ্য হবে। তালিকাভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ৩০টি আফ্রিকার। দক্ষিণ এশিয়া থেকে বাংলাদেশের পাশাপাশি রয়েছে নেপাল ও ভুটান।

এই বিধান কেবল ব্যবসা ও পর্যটন ভিসা (বি-১ ও বি-২) আবেদনকারীদের জন্য প্রযোজ্য। সব আবেদনকারীকে বন্ড দিতে হবে না। কোনো আবেদনকারীর ক্ষেত্রে বন্ড প্রয়োজন হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত নেবেন সংশ্লিষ্ট কনস্যুলার কর্মকর্তা।

মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের ভাষ্য, ২০২৫ সালে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হওয়া ভিসা বন্ড কর্মসূচি ইতিবাচক ফল দিয়েছে। তাদের দাবি, এই ব্যবস্থা ভিসার শর্ত মেনে চলা নিশ্চিত করতে সহায়ক হয়েছে।

বাংলাভিশনের গুগল নিউজ ফলো করতে ক্লিক করুন
পরীক্ষামূলক কর্মসূচিতে ৫ হাজার, ১০ হাজার এবং সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত বন্ড নেওয়ার সুযোগ ছিল। নতুন নিয়মে ৫ হাজার ডলারের ধাপ বাতিল করা হয়েছে এবং সর্বোচ্চ বন্ডের পরিমাণ বাড়িয়ে ২০ হাজার ডলার করা হয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থান করার প্রবণতা কমাতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাদের বিশ্বাস, বন্ড ব্যবস্থা ভিসার শর্ত লঙ্ঘন কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

তবে অভিবাসন ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই নীতির সমালোচনা করেছে। তাদের দাবি, উচ্চ অঙ্কের বন্ড বৈধ ভ্রমণকারীদেরও নিরুৎসাহিত করবে এবং অনেক আবেদনকারীর ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করবে।

উল্লেখ্য, দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই অবৈধ অভিবাসন রোধে একের পর এক কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। এর অংশ হিসেবে বিভিন্ন ভিসার আবেদন ফি বাড়ানো হয়েছে, আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রমও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার এবং অভিবাসন আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে সমালোচকদের অভিযোগ, এসব নীতি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া এবং বৈষম্যের ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে।