
হবিগঞ্জসহ দেশের কয়েকটি স্থানে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় ইসলামী ছাত্রশিবিরের সদ্য সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলামের একটি ফেসবুক পোস্ট রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। হামলার পেছনে সুপরিকল্পিত উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলে দেওয়া ওই পোস্ট পরে তিনি সরিয়ে নিলেও বিষয়টি নিয়ে পাল্টাপাল্টি প্রতিক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গত মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) হবিগঞ্জে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমের গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে। পরদিন হবিগঞ্জ শহরে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের সময় এনসিপির নেতাকর্মীরা পুলিশি বাধার মুখে পড়েন। এরপর বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সিলেটে দলটির নেতাকর্মীদের বহনকারী একটি গাড়িতেও হামলার ঘটনা ঘটে।
এসব ঘটনার জন্য ক্ষমতাসীন বিএনপি এবং দলটির সহযোগী সংগঠন ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীদের দায়ী করেছে এনসিপি। হামলা ও পুলিশি বাধার বিষয়টি মূলধারার গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
এই প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সদ্য সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম। সেখানে তিনি লেখেন, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের হামলার ঘটনাগুলো ‘খুবই সুপরিকল্পিত’ বলে তার মনে হয়েছে। তার দাবি, এর উদ্দেশ্য হতে পারে জুলাই মাসে জামায়াতে ইসলামকে আলোচনার বাইরে রাখা এবং এনসিপির প্রতি জনসমর্থন সৃষ্টি করা। পোস্টের শেষে তিনি লেখেন, ‘গুড প্ল্যান, গুড মুভ (ডিপ পাওয়ার)।’
জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের শরিক এনসিপি এবং ছাত্রশিবির জামায়াতের ছাত্রসংগঠন। জাহিদুল ইসলামের পোস্টের পর জামায়াত-সমর্থক কয়েকটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকেও একই ধরনের বক্তব্য তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে হাসান মো. মেহেদী নামের একটি অ্যাকাউন্টে দেওয়া পোস্টে লেখা হয়, ‘পাতানো খেলায় নিরীহ আলিফের চোখ বলি হলো!’ যা হামলায় আহত জাতীয় ছাত্রশক্তির হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলা শাখার সংগঠক আলিফ চৌধুরীকে ইঙ্গিত করে বলা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, জাহিদুল ইসলামের মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন এনসিপির নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা। এ নিয়ে সবচেয়ে আলোচিত প্রতিক্রিয়া দেন দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন।
ফেসবুক পোস্টে তিনি সম্প্রতি জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের প্রসঙ্গ তুলে লেখেন, জুলাই মাসে দলটির একজন সংসদ সদস্যকে ঘিরে সৃষ্ট বিতর্কের সময়ও অনেকেই নীরব ছিলেন। হামলার নিন্দা না জানিয়ে ঘটনাটিকে ‘ডিপ প্ল্যান’ হিসেবে দেখার প্রবণতার সমালোচনা করে তিনি লেখেন, ‘এনসিপির রাজনীতি দাঁড়ালে কারও কারও অসুবিধা হবে, এটাই স্বাভাবিক। নিজেদের ব্যর্থতা অস্বীকার করে অন্যকে সন্দেহের চোখে দেখা এক রকম অসুখ। আরোগ্য কামনা করি। আমীন।’
শুক্রবার (৩১ জুলাই) দুপুর পর্যন্ত মনিরা শারমিনের ওই পোস্টে সাড়ে নয় হাজারের বেশি প্রতিক্রিয়া এবং প্রায় ১ হাজার ৯০০ মন্তব্য জমা পড়ে।
সূত্র : ইত্তেফাক













































