
নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগে দল থেকে সদ্য বহিষ্কৃত সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে একের পর এক উন্মোচিত হচ্ছে বিতর্কিত অধ্যায়। চাকরি, ঠিকাদারি সুবিধা, দামি গাড়ি আর বিপুল অর্থের টোপ দিয়ে অনৈতিক ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার মতো নতুন একাধিক তথ্য সামনে এসেছে। বুধবার (২৯ জুলাই) একটি জাতীয় দৈনিকের মুখোমুখি হয়ে চাঞ্চল্যকর এসব অভিযোগ তুলে ধরেন এই এমপির ব্যক্তিগত গাড়িচালক এবং ঘটনার মূল ভুক্তভোগী তরুণীর মামা ওবায়দুল রহমান।
ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে ওবায়দুল জানান, পারিবারিক সুসম্পর্কের সুযোগ নিয়ে বহু আগে থেকেই রাজধানীর পল্লবীতে ওই তরুণীর বাসায় নজরুলের নিয়মিত আনাগোনা ছিল। এমনকি সংসদ সদস্য হিসেবে নামি দামি হোস্টেলে ফ্ল্যাট বরাদ্দের পরও তিনি প্রায়শই ওই বাসায় রাতে সময় কাটাতেন। একপর্যায়ে গভীর রাতে গোপন ফোনালাপ নিয়ে সন্দেহ দানা বাঁধলে তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখেন। অনুসন্ধানে জানা যায়, যোগাযোগের সুবিধার্থে সংশ্লিষ্ট তরুণীকে একটি গোপন ফোন সেট এনে দেওয়া হয়েছিল। ওই ফোনে ব্যবহৃত সিমটি শ্যামনগরের স্থানীয় এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের নামে নিবন্ধিত বলে দাবি করেন তিনি।
এই অনৈতিক সম্পর্কের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় শুরু হয় প্রলোভন ও হুমকির খেলা। ওবায়দুল রহমানের দাবি— মুখ বন্ধ রাখতে তাকে নগদ অর্থ, দামি নোয়া গাড়ি, জাতীয় সংসদে চাকরি, এপিএস-২ পদের ভুয়া পরিচয়পত্র এবং পরবর্তীতে তথাকথিত ‘মুতা বিয়ে’র প্রস্তাব পর্যন্ত দেওয়া হয়। তবে কোনো প্রলোভন গ্রহণ না করে সত্য প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
শুধু অনৈতিক সম্পর্কই নয়, এমপির প্রভাব খাটিয়ে বিপুল অর্থ উপার্জনের সুবিধাও তৈরি করা হয়েছিল। তরুণীর বাবা মাসুম বিল্লাহকে ‘মাসুম এন্টারপ্রাইজ’-এর নামে রাতারাতি একাধিক প্রথম শ্রেণির ঠিকাদারি লাইসেন্স পাইয়ে দেওয়া এবং সরকারি কাজ হাসিলের ক্ষেত্রে এই সংসদ সদস্য কলকাঠি নেড়েছেন বলে জানান তিনি।
এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করায় হামলার শিকার হতে হয় ওবায়দুলকে। গত ১৪ জুলাই তার ওপর নৃশংস হামলা চালানো হলে তিনি ২১ জুলাই পল্লবী থানায় এমপি নজরুলসহ পাঁচজনকে অভিযুক্ত করে হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। মামলাটিতে ইতোমধ্যে দুজন গ্রেফতার হয়ে গরাদে থাকলেও বর্তমানে চরম নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছেন বলে জানান ওবায়দুল। তিনি বলেন, “নিজের জীবনের ঝুঁকি আছে জেনেও সত্যের পথ বেছে নিয়েছি, কোনো লোভ-লালসা আমাকে দমাতে পারেনি।”
এদিকে, গত ২২ জুলাই নৈতিক স্খলনের দায়ে জামায়াতে ইসলামী থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে বহিষ্কার করা হলেও শ্যামনগরে অসন্তোষ কমেনি। মঙ্গলবার ‘সচেতন নাগরিক সমাজ’-এর ব্যানারে স্থানীয় সংসদ সদস্যের কুশপুত্তলিকা দাহসহ দফায় দফায় বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয় এবং আসনটি শূন্য ঘোষণার জোর দাবি ওঠে।
অভিযোগগুলোর বিপরীতে গাজী নজরুল ইসলামের বক্তব্য জানতে বেশ কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া গেছে।










































