
চট্টগ্রামের সদরঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শরীফের বিরুদ্ধে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের দেওয়া একটি আধা-সরকারি (ডিও) চিঠির ভিত্তিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় প্রশাসনিক মহলে আলোচনা চলছে। প্রতিমন্ত্রীর চিঠির পর পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে ওসিকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে শুরু হয়েছে বিভাগীয় তদন্তও। ওসি মুহাম্মদ শরীফ দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ১৭ দিনের মাথায় এই সিদ্ধান্ত আসে।
সদরঘাট থানা চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর) আসনের আওতাভুক্ত। এ আসন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নির্বাচনী এলাকা। তবে বিষয়টি সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী আগে থেকে অবগত ছিলেন না।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ওসির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডিও লেটার পাঠান। পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-২ শাখা অভিযোগ তদন্তের জন্য পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) কাছে চিঠি পাঠায়। সেই চিঠির পরই ওসিকে প্রত্যাহার এবং তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
গত ১৩ জুন কক্সবাজারে এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীকে ‘বাংলাদেশের সবচেয়ে পাওয়ারফুল প্রতিমন্ত্রী’ বলে মন্তব্য করেছিলেন।
ওসির বিরুদ্ধে প্রতিমন্ত্রীর ডিও লেটারের পর সেই মন্তব্য নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
বর্তমানে আইজিপির দায়িত্ব পালন করছেন অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) একেএম আওলাদ হোসেন। তিনি বলেন, একজন প্রতিমন্ত্রী ডিও লেটার দিতে পারেন এবং প্রয়োজন হলে সেই অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়াও হতে পারে।
চট্টগ্রামের কোনো জনপ্রতিনিধির পক্ষ থেকে একই ধরনের সুপারিশ ছিল কি না-এ প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম হয়নি।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা অবশ্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বদলি বা প্রশাসনিক বিষয়ে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা ডিও লেটার দিয়ে থাকেন। তবে অন্য মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিমন্ত্রীর উদ্যোগে ভিন্ন জেলার একটি থানার ওসির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘটনা খুবই বিরল।
পুলিশ সূত্রের দাবি, ডিও লেটারে ওসি মুহাম্মদ শরীফের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক পক্ষপাত, চাঁদাবাজি, অবৈধ আর্থিক লেনদেন এবং জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তুলে তদন্তের অনুরোধ করা হয়।
ওসি মুহাম্মদ শরীফ সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কর্ণফুলী থানায় কর্মরত থাকার সময় আওয়ামী লীগের এক নেতার মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার একটি ছবি ব্যবহার করে তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, কোনো ধরনের অনিয়মের সঙ্গে তিনি জড়িত নন।
গত ১৮ জুন সিএমপির এস্টেট অ্যান্ড বিল্ডিং শাখার পরিদর্শক মুহাম্মদ শরীফকে সদরঘাট থানার ওসি হিসেবে পদায়ন করা হয়। ২০২৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর তিনি সিটিএসবির নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শকের পদ থেকে এস্টেট অ্যান্ড বিল্ডিং শাখায় বদলি হন। এর আগে তিনি গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) থেকে কর্ণফুলী থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।












































