প্রচ্ছদ জাতীয় যে কারণে বাতিল হয়েছে ভিনিসিয়ুসের সেই ‘গোল’

যে কারণে বাতিল হয়েছে ভিনিসিয়ুসের সেই ‘গোল’

স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ ম্যাচের প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে ঘটে এক আলোচিত ঘটনা। ম্যাচের ২২ মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের করা একটি গোল ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) হস্তক্ষেপে বাতিল হলে মাঠে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।

তবে সেই হতাশাকে শক্তিতে রূপান্তর করে শেষ পর্যন্ত ম্যাচে জোড়া গোল করে দলকে বড় জয় এনে দেন এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ভোরে মিয়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচের ২২ মিনিটে স্কটল্যান্ডের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ নিয়ে বল জালে পাঠান ভিনিসিয়ুস। রেফারি শুরুতে গোলের সংকেত দিলেও পরে ভিএআরের সহায়তা নেন। দীর্ঘ পর্যালোচনার পর সিদ্ধান্ত আসে, শটে বল জালে জড়ানোর ঠিক আগে প্রতিপক্ষের একজন খেলোয়াড়কে ফাউল করেছিলেন ভিনিসিয়ুস। আর এই কারণেই গোলটি বাতিল করা হয়।

রেফারির এই সিদ্ধান্ত নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে বিতর্ক শুরু হয়। অনেকের মতে, ঘটনাটি ছিল খুবই সামান্য স্পর্শ বা ‘সফট টাচ’। তবে সাবেক স্কটিশ ফুটবলার ও বর্তমান ধারাভাষ্যকার জেমস ম্যাকফ্যাডেন রেফারির এই সিদ্ধান্তটির পক্ষেই মত দিয়েছেন। তার মতে, বলে শট নেওয়ার আগে প্রতিপক্ষকে বাধা দেওয়ার ঘটনাটি ফাউল হিসেবেই গণ্য হওয়া উচিত।

ম্যাকফ্যাডেন বলেন, “এটি পরিষ্কার ফাউল ছিল। স্পর্শ কম বা বেশি ছিল কি না, সেটি বড় বিষয় নয়। বল ক্লিয়ার করার সময় প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়কে লাথি মেরে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং সেই কারণেই গোলটি বাতিল করার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ সঠিক ছিল।”

গোল বাতিল হওয়ার পর ভিনিসিয়ুসের মধ্যে হতাশার ছাপ দেখা গেলেও সেটি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। বরং ম্যাচে আরও বেশি প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করেন ব্রাজিলের এই তারকা। আক্রমণে ধার বাড়াতে থাকেন তিনি এবং স্কটল্যান্ডের রক্ষণভাগকে ক্রমাগত চাপে রাখেন।

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে সেই চেষ্টারই ফল পান ভিনিসিয়ুস। দুর্দান্ত এক হেডে বল জালে পাঠিয়ে নিজের গোলের খাতা খোলেন তিনি। শুধু তাই নয়, ম্যাচে সেটিই ছিল তার দ্বিতীয় গোল, যা ব্রাজিলের ব্যবধানও বাড়িয়ে দেয়।

বিতর্কিত গোল বাতিলের ঘটনাটি ম্যাচের অন্যতম আলোচ্য বিষয় হয়ে থাকলেও শেষ পর্যন্ত ভিনিসিয়ুস নিজের জাদুকরী পারফরম্যান্স দিয়েই সব আলোচনা নিজের দিকে ঘুরিয়ে নেন।