প্রচ্ছদ জাতীয় কালবেলায় সংবাদ প্রকাশের পর সংসদ সচিবালয়ের তদন্ত কমিটি, যারা পেলেন দায়িত্ব

কালবেলায় সংবাদ প্রকাশের পর সংসদ সচিবালয়ের তদন্ত কমিটি, যারা পেলেন দায়িত্ব

জাতীয় সংসদ ভবনের স্টোর রুম থেকে উধাও ১৩৪৩টি বিদ্যুৎ কপার বার। দৈনিক কালবেলায় প্রকাশিত এমন সংবাদের বিষয়টি আমলে নিয়ে সার্জেন্ট এ্যাট আর্মস মো. আসাদুজ্জামানকে আহ্বায়ক করে ৪ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি করেছে সংসদ সচিবালায়।

গত ২৪ মে দৈনিক কালবেলায় ‘সংসদ ভবন থেকে উধাও ১৩৪৩ কপার বার’ শীর্ষ সংবাদটি প্রকাশিত হয়। এরপর বিভিন্ন মহলে সমালোচনা সৃষ্টি হয়। একইদিন বিষয়টি আমলে নিয়ে তদন্ত কমিটি করে সংসদ সচিবালয়। তদন্ত কমিটির অন্য তিন সদস্য হলেন, সিনিয়র সহকারী সচিব মো. মফিদুল ইসলাম (সদস্য), সহকারী সার্জেন্ট এ্যাট আর্মস কামাল হাসান (সদস্য), নির্বাহী প্রকৌশলী, গণপূর্ত ই/এম কারখানা বিভাগ রুবাইয়াত ইসলাম (সদস্য সচিব)।

জাতীয় সংসদ সচিবালয় সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূইঁয়া স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

চিঠিতে বলা হয়, সংসদ ভবনের মতো কেপিআই-১ ভুক্ত এলাকার সীমানার ভেতর অবস্থিত গণপূর্ত অধিদপ্তরের স্টোর রুম থেকে সাব-স্টেশনের পুরাতন কপার বাসবার চুরি হয়ে যায়-মর্মে দৈনিক কালবেলা পত্রিকায় গত ২৪ মে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। সংসদ ভবন এলাকা থেকে এ ধরনের চুরির ঘটনা নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। পত্রিকায় উল্লিখিত বা বাস্তব ঘটনায় চুরি যাওয়া মালামাল কীভাবে এই নিরাপত্তাপূর্ণ এলাকা থেকে চুরি হলো, তা উদঘাটনপূর্বক দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ‘সরকারি কর্মচারী আইন-২০১৮’ (যদি সরকারি কর্মচারী হয়) ও প্রচলিত ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা গ্রহণ করা আবশ্যক। উল্লিখিত বিষয়ে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তদন্ত কমিটির কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হলো।

কালবেলায় প্রকাশিত সংবাদের অনুসন্ধানে উঠে আসে, সংসদ ভবনের মতো কেপিআই এলাকার সীমানায় অবস্থিত গণপূর্ত অধিদপ্তরের স্টোর রুম। কিন্তু এ জায়গায় থেকে এ বিপুল পরিমাণ ভারী ধাতব সরঞ্জাম কীভাবে গায়েব হলো, তা জানেন না দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারাও। কেউ বলছেন স্টোরে ছিল, কেউ বলছেন বুঝে পাননি, আবার কেউ দায় চাপাচ্ছেন অধস্তন কর্মকর্তার ওপর। অথচ কাগজে-কলমে সব ঠিকঠাক। ৭১ কোটি টাকার আমব্রেলা প্রকল্পের সাব-স্টেশন উন্নয়ন প্রকল্পে নতুন সরঞ্জাম ব্যবহারের কথা থাকলেও পরে দেখা যায় পুরোনো কিছু কপার বারই আবার ব্যবহার করা হয়েছে। কাজ শেষে অবশিষ্ট মালপত্র স্টোরে জমা করার কথা বলা হলেও বাস্তবে মিলছে না সেসবের অস্তিত্ব। আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো, একই কাজের জন্য দুইবার সার্ভে রিপোর্ট তৈরি হয়েছে। কিন্তু দুই রিপোর্টেই অসংগতি লক্ষণীয়। কোথাও স্বাক্ষর নেই, কোথাও তারিখ নেই, আবার কোথাও সরঞ্জামের পরিমাণ ও মূল্য গেছে পাল্টে। প্রতিটি নথিই যেন আরেকটি নথিকে আড়াল করার জন্য তৈরি।

সূত্র : কালবেলা