
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রোগী হয়রানি, অতিরিক্ত টাকায় আদায়ের অভিযোগে এক দালালকে হাতেনাতে ধরে তাকে দিয়ে ড্রেন পরিষ্কার করিয়েছে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
শুক্রবার (৫ জুন) রাতে রংপুর মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী এই অভিনব শাস্তি হিসেবে এই ময়লা পরিষ্কার করে নেওয়া হয়।
ডিভিওতে দেখা যায়, এক যুবককে ধরে তাকে ময়লা ড্রেন পরিষ্কার করতে বলছেন রংপুর মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের নেতা মামুন ইসলাম। পরে সেই ময়লা ড্রামে করে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা হচ্ছে। এভাবেই পুরো ড্রেনটি অভিযুক্তকে দিয়ে পরিষ্কার করিয়ে নেওয়া হয়। এরপর হাসপাতালে আসা রোগী নিয়ে হয়রানি না করার ওয়াদা করানো হয় অভিযুক্তকে।
রংপুর মেডিকেলে কলেজ ছাত্রদল সভাপতি মামুন ইসলাম জানান, আমরা যখন জানতে পারি, বকশিস না দেওয়ায় রোগী বহনে ট্রলি দেয়নি, সময় মতো রোগী চিকিৎসকের কাছে পৌঁছাতে না পারার কারণে সেই রোগীর মৃত্যু হয়। এমন খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা ছাত্রদল কর্মীরা সেখানে যাই এবং রোগীর আত্মীয়ের অভিযোগের প্রেক্ষিতে জরুরি বিভাগে হাতেনাতে দালাল ধরি। পরে সেই দালালকে দিয়ে দুর্গন্ধযুক্ত ময়লার ড্রেন পরিষ্কার করিয়ে নেয়। এই অভিনব শাস্তি দেওয়ার উদ্দেশ্য হচ্ছে, দালাল সিন্ডিকেট কমবে পাশাপাশি ময়লা ড্রেন পরিষ্কার হবে। রোগী হয়রানি, অতিরিক্ত টাকায় আদায়, ট্রলি নিয়ে ব্যবসা, এসব হয়রানির অভিযোগে রংপুর মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের পক্ষে ফেসবুকে ঘোষণা দিয়েছিলাম, চোর ছিনতাইকারী কিংবা দালাল চক্রের কেউ ধরা পরে, তাহলে তাকে দিয়ে ময়লা ড্রেন পরিষ্কার করা হবে।
রংপুরে ‘বিষাক্ত মদপানে’ ৩ জনের মৃত্যু, আটক ১রংপুরে ‘বিষাক্ত মদপানে’ ৩ জনের মৃত্যু, আটক ১
ভুক্তভোগী রোগীর আত্মীয় রিপন মিয়া অভিযোগ করে জানান, ট্রলি বহনকারীদের সঙ্গে হাসপাতালের একটা শ্রেণির যোগসাজশে বড় সিন্ডিকেট গড়ে তুলছে তারা। সেই সিন্ডিকেটের টাকার ভাগ সবাই নেয়। এদের কোনো একজনকে কিছু বললে পুরো সিন্ডিকেট আপনাকে হেনস্তা করবে, আপনার রোগীর প্রতি বিরূপ আচরণ করবে। চিকিৎসায় পদে পদে বাধা তৈরি করবে। যার কারণে অনেকেই বাধ্য হয়ে অন্যায় মেনে নেয়। এই সিন্ডিকেট ভাঙা দরকার।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান জানান, মেডিকেলের জরুরি বিভাগে রাতের বেলায় ট্রলি নিয়ে সিন্ডিকেট তৈরি করে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি, কিন্তু জনবল সংকটের কারণে এটা বন্ধ সম্ভব হচ্ছে না। তবে আমাদের চেষ্টার ত্রুটি নেই। এতো বড় হাসপাতালে একাই লড়াই করে, উদ্যোগ নিয়ে সফল হওয়াটা কঠিন। হাসপাতালের সার্বিক উন্নয়নে সবার সহযোগিতা দরকার। জনবল দরকার। তাহলে রোগীর চিকিৎসা ক্ষেত্রে হয়রানি বন্ধ করা সম্ভব।












































