প্রচ্ছদ জাতীয় মামলা না নেওয়ায় থানার ভেতরেই ওসির বিরুদ্ধে বিএনপি নেতার ফেসবুক লাইভ

মামলা না নেওয়ায় থানার ভেতরেই ওসির বিরুদ্ধে বিএনপি নেতার ফেসবুক লাইভ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল করিমের ওপর হামলা ও লাঞ্ছিতের ঘটনায় নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) বিরুদ্ধে মামলা না নেওয়ার অভিযোগ তুলে থানার ভেতর থেকেই এজাহার হাতে নিয়ে রাত সোয়া ২টায় ফেসবুক লাইভ করেন নাজমুল করিম।

লাইভে এসে নাজমুল করিম বলেন, আমি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। আমার সঙ্গে আজ একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টায় থানায় এসে ওসি এবং ওসি তদন্তের সঙ্গে কথা বলি। এজাহারসহ রাত সোয়া ২টা পর্যন্ত থানায় অবস্থান করলেও আমার এজাহারটি গ্রহণ না করেই ওসি এবং ওসি তদন্ত আমাকে রেখে থানা থেকে বের হয়ে গেছেন। আমি অভিযোগ দেওয়ার মতো কাউকে খুঁজে পাইনি। আমি নবীনগরবাসী ও প্রশাসনের কাছে প্রশ্ন রাখতে চাই, এটা কার ইন্ধন?

তিনি আরো বলেন, আমি নবীনগর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হওয়া সত্ত্বেও আমার সঙ্গে এমনটা হয়েছে। তাহলে সাধারণ মানুষের কী অবস্থা হবে? তিনি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কার ইঙ্গিতে, কার ইশারায় এমনটা হয়েছে, আপনারা বিচার-বিশ্লেষণ করবেন।

এর আগে নাজমুল করিম মোবাইল ফোনে আমার দেশকে বলেন, শিবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হোসেন আহমেদ ২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ইন্তেকাল করার পর সভাপতির পদটি শূন্য হয়ে গেলে সিনিয়র সহসভাপতি রোকন উদ্দিন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। ওই পদ পেতে তদবির শুরু করেন জেলা যুবদলের সদস্য মাহবুব রহমান। ইউনিয়ন বিএনপির কোনো পদে না থেকেও তিনি উপজেলা বিএনপির সভাপতির অনুমোদন নিয়ে আমার অনুমোদন নিতে এলে আমি তাকে বলেছিলাম, ওই ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ড কমিটির সবার মতামতের ভিত্তিতে রেজুলেশন এনে দিলেই আমি সভাপতি পদে স্বাক্ষর করব।

মাহবুব রেজুলেশন আনতে পারেননি, আমিও স্বাক্ষর করিনি। এটাই ছিল আমার অপরাধ। সে কারণে (৩১ মে) শিবপুর ইউনিয়নের সাহারপাড়া গ্রামে একটি সামাজিক অনুষ্ঠান শেষে চলে আসার সময় কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহসাধারণ সম্পাদক কেএম মামুনুর রশীদ ভাইয়ের বাড়ির সামনের রাস্তায় মো. মাহবুব রহমানসহ আরো কয়েকজন আমার ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে লাঞ্ছিত করে এবং জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়ার জন্য আমাকে অপহরণের চেষ্টা করে। এ বিষয়ে দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দকে অবহিত করেছি। তাদের পরামর্শক্রমে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আজ রাত সাড়ে ১০টা থেকে থানায় অভিযোগ নিয়ে বসে আছি। আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি। এদিকে অভিযোগ নিতে পুলিশ গড়িমসি করেছে। ওসি বলছেন, আমার লেখা এজাহার পরিবর্তন করে দেওয়ার জন্য। আমি চাই, আমার লেখা এজাহার আমলে নিয়ে মামলা নথিভুক্ত করা হোক। যতক্ষণ পর্যন্ত মামলা নথিভুক্ত না হবে, ততক্ষণ আমিও থানায় বসে থাকব।

এদিকে পুলিশ অভিযোগ গ্রহণ না করার বিষয়ে বিএনপি নেতার ফেসবুক লাইভটি ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে গেছে এবং অভিযোগ না নেওয়ার ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদুল আলম চৌধুরীকে রাত আড়াইটায় এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি অভিযোগ নিতে গড়িমসি ও এজাহার পরিবর্তনের কথা অস্বীকার করে আমার দেশকে বলেন, একটি অপমৃত্যুর ঘটনায় আমি থানার বাইরে আছি। থানায় ওসি তদন্ত ও ডিউটি অফিসার রয়েছেন। অভিযোগ তাদের কাছে জমা দিতে কোনো বাধা নেই। যে কেউ অভিযোগ দিলে পুলিশ তা নিতে বাধ্য। তিনি আরো বলেন, আমি তো তাকে একবারও বলিনি মামলা নেব না। এখন আমি থানায় যাচ্ছি। তিনি অভিযোগ দিলে অবশ্যই গ্রহণ করা হবে।

সূত্র : আমার দেশ