
ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বোচ্চ সামরিক পদে নতুন নেতৃত্ব এসেছে। জেনারেল অনিল চৌহানের অবসরের পর দেশটির তৃতীয় চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ (সিডিএস) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন জেনারেল এন এস রাজা সুব্রামানি। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করা, দেশীয় প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং সামরিক আধুনিকায়নকে অগ্রাধিকার দেয়ার কথা জানিয়েছেন।
সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে বলছে, জেনারেল এন এস রাজা সুব্রামানি শনিবার (৩০ মে) আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের তৃতীয় চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ (সিডিএস) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তিনি সাড়ে তিন বছর দায়িত্ব পালন শেষে অবসর নেয়া জেনারেল অনিল চৌহানের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। নয়াদিল্লির সাউথ ব্লকের প্রাঙ্গণে গার্ড অব অনারের মধ্য দিয়ে দায়িত্ব হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।
গাড়োয়াল রেজিমেন্টের কর্মকর্তা জেনারেল সুব্রামানি এর আগে ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাডভাইজরি কমিটির সামরিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। জাতীয় নিরাপত্তা–সংক্রান্ত কৌশলগত মূল্যায়ন এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় সাধনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।
দায়িত্ব গ্রহণের পর নতুন সিডিএস সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি আস্থা রাখার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যৎ অগ্রাধিকারের বিষয়গুলো তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর মধ্যে যৌথ সমন্বয় এবং একীভূত কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা তার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হবে। জেনারেল সুব্রামানি বলেন, ‘চিফ অব ডিফেন্স স্টাফের দায়িত্ব গ্রহণ করতে পেরে আমি সম্মানিত বোধ করছি। আমরা প্রধানমন্ত্রীর ‘জেএআই’ তথা জয়েন্টনেস, আত্মনির্ভরতা এবং উদ্ভাবন এই দর্শন বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
তিনি বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর সাংগঠনিক সংস্কার এবং রূপান্তর কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে, যাতে তাদের কার্যকর সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পায়। জাতীয় নিরাপত্তার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে আত্মনির্ভরতার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি জানান, দেশীয় অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির উন্নয়ন, অন্তর্ভুক্তি এবং সমন্বয় আরও দ্রুত এগিয়ে নেয়া হবে।
সামরিক আধুনিকায়নে উদ্ভাবনের গুরুত্বের কথাও তুলে ধরেন জেনারেল সুব্রামানি। তিনি বলেন, সশস্ত্র বাহিনী, শিল্পখাত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্টার্টআপ এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা প্রয়োজন। তার ভাষায়, ‘চিন্তা ও কর্ম উভয় ক্ষেত্রেই উদ্ভাবন আমাদের সক্ষমতা উন্নয়নের চালিকাশক্তি হবে।’
ভারতের এই নতুন সিডিএস আরও বলেন, ভারতের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনী অঙ্গীকারবদ্ধ। একই সঙ্গে সেনাসদস্য, নাবিক, বিমানসেনা, অবসরপ্রাপ্ত সদস্য এবং ‘বীর নারীদের’ কল্যাণও অগ্রাধিকার পাবে।
প্রসঙ্গত, চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ হিসেবে জেনারেল সুব্রামানি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর প্রধান সামরিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি তিন বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের কার্যক্রমও তদারকি করবেন।










































