
কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য জালাল উদ্দিন বলেছেন, বক্তব্য দেওয়ার আগে আপনাদেরকে সতর্ক করতে চাই, জামায়াতের সাথে যদি আপনারা কেউ সম্পর্ক রাখবেন, আপনাদের দলের পদ থাকবে না বন্ধুরা আমার। এরা এখনো আমাদেরকে ধ্বংস করে দেওয়ার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত আছে। এই সরকারকে পতন ঘটানোর জন্য নানান হীন ফন্দি-ফিকির করে যাচ্ছে বন্ধুরা আমার, ভাইয়েরা আমার।
শনিবার (৩০ মে) দুপুরে পাকুন্দিয়ায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫ তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল বক্তব্য এসব কথা বলেন তিনি।
জালাল উদ্দিন বলেন, সংসদে দেখছেন না আপনারা তাদের ভূমিকা? দেখছেন? দেখছেন? একটা কথা আমি বলি আজকে, আমরা গত সংসদে এই জামায়াতের ভূমিকা নিয়া, স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় তাদের ভূমিকা নিয়া আমাদের অনেকে আমরা অনেক বক্তব্য দিয়েছি। বক্তৃতা দিলে তারা জ্বলে উঠত। তারা দাঁড়াইয়া প্রতিবাদ করত।
তিনি বলেন, এখান থেকে দলটাকে সামনে নেন, এখান থেকে দলটাকে আগলে রাখেন। রাখিয়া পরিচিত, ত্যাগী আমার এই নুন-খেয়ে থাকা কর্মীদেরকে জায়গা দেন। এরা এক ছিল, টিকে ছিল। আর আমাদের মা-বোনদেরকে একটু যত্ন-আত্তি করার চেষ্টা করবেন। বেশিরভাগ মা-বোনরাই এবার নির্বাচনে আমাদের বিরুদ্ধে গেছে। এদেরকে টাকা দিছে, এদের কাছে জান্নাতের টিকেট বিক্রি করছে। জান্নাতের টিকেট বিক্রি করে নাই? আপনারা জানেন? সংসদে দাঁড়াইয়া জামায়াতের এমপিরা বলছে যে মা-বোনের কাছে জান্নাতের টিকেট নিয়ে আর বিক্রি করে নাই।
চরমোনাই পীরের বক্তব্য উল্লেখ করে এমপি জালাল উদ্দিন বলেন, কয়দিন আগে চরমোনাই পীর সাহেব বলছে, বাংলাদেশের সবচেয়ে মিথ্যাবাদীর দল হলো এই জামায়াতে ইসলামীর দল। ওরা মুখে কয় একটা, ভেতরে করে আরেকটা। ওরা মুখে বলে একটা, ঐযে সারাদিন জান্নাতের টিকেট বেচছে আমাদের জনগণের কাছে। পার্লামেন্টে যখন আমরা বলছি যে যারা জান্নাতের টিকেট বিক্রি করিয়া ওটার লেগে গেছে, তখন জামায়াতের বেঞ্চ থেকে বলা হলো ‘ভুয়া ভুয়া ভুয়া’। তার মানে কি ওরা জান্নাতের টিকেট বেছে নাই? আপনারা সাক্ষী আছেন না? তারা কি মিথ্যাবাদী না সত্যবাদী? মিথ্যাবাদী।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ জালাল উদ্দীন বলেন, “দলের একজন সদস্য একসঙ্গে অন্য কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে না। আমার বক্তব্য মূলত তাদের নিয়েই, যারা আমাদের দলের সদস্যপদ রেখে অন্য দলের কার্যক্রমেও অংশ নিচ্ছেন। এমন অনেকেই আছেন, যারা মনোনয়নের কথা বলছেন, কিন্তু নির্বাচনের দিন অন্য দলের এজেন্ট হিসেবেও কাজ করেছেন। একজন ব্যক্তি একসঙ্গে দুটি রাজনৈতিক সংগঠনের সদস্য হতে পারেন না। তাকে একটি সংগঠনই বেছে নিতে হবে। তবে আত্মীয়তা বা সামাজিক সম্পর্ক থাকতেই পারে, আমার বক্তব্য সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রসঙ্গে।”
এ অনুষ্ঠানে উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক তৌফিকুল ইসলাম, আতিকুল ইসলাম মাসুদ, কামাল উদ্দিন, পৌর বিএনপির সভাপতি এ এস এম মিনহাজ উদ্দিনসহ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: সময়ের কণ্ঠস্বর












































