
পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে এবং বিগত ২০১৩-১৪ সালের সরকারবিরোধী আন্দোলনসহ ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহত ও শহীদদের পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি পূর্ব শাখা।
‘সবাই মিলে ঈদ’ স্লোগানকে সামনে রেখে জুলাই বিপ্লবের বীর শহীদদের স্মরণে বিশেষ কোরবানি কর্মসূচি, উপহারসামগ্রী বিতরণ এবং ঢাকায় অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের জন্য ‘সফরা-এ-ঈদ’ ও ঐতিহ্যবাহী মেজবানি ভোজের আয়োজন করেছে সংগঠনটি।
আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, এবারের ঈদুল আজহায় প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি পূর্ব শাখার পক্ষ থেকে মোট ৪টি গরু, ২টি ছাগল এবং ২টি ভেড়া কোরবানির সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকা ও ঢাকার বাইরে বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা শহীদ এবং চিকিৎসাধীন আহত পরিবারগুলোর দোরগোড়ায় ঈদের শুভেচ্ছা বার্তা, বিশেষ উপহার এবং কোরবানির মাংস সশরীরে পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম বর্তমানে পুরোদমে চলমান রয়েছে।
সংগঠনটি তাদের এই মানবিক কার্যক্রমে ২০১৩-১৪ সালের রাজনৈতিক আন্দোলনে আহত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদেরও বিশেষভাবে স্মরণ করেছে। ওই সময়ে ছাত্র আন্দোলনে গুরুতর আহত এবং বর্তমানে সংগঠনের মাঝে ‘জীবন্ত শহীদ’ হিসেবে পরিচিত দুই সাবেক শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল ফাহাদ ও হুমায়ুন কবিরের কোরবানি আদায়ের উদ্দেশ্যে সংগঠনের পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে দুটি ছাগল তাদের নিজ নিজ বাসভবনে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
এর পাশাপাশি চব্বিশের ঐতিহাসিক জুলাই বিপ্লবের বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে গরু কোরবানির বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঢাকার ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির (আইইউবি) শহীদ আসিফের পরিবার বর্তমানে রাজধানীতে অবস্থান করায় সরাসরি তাদের কাছে এই কোরবানির মাংস পৌঁছে দেওয়া হবে। এছাড়া জামালপুর, নীলফামারী, পটুয়াখালী এবং বরগুনাসহ দেশের বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাসরত জুলাই আন্দোলনের অন্যান্য শহীদ পরিবারের কাছেও উৎসবের এই মাংস সশরীরে পৌঁছে দেওয়ার সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে সংগঠনটি।
প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি পূর্ব শাখার সভাপতি রেজাউল করিম জুলাই বিপ্লবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ঐতিহাসিক ত্যাগের কথা স্মরণ করে বলেন, চব্বিশের জুলাই বিপ্লব ও গণ-আন্দোলনে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত অগ্রণী এবং গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা পালন করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবির এই গণ-আন্দোলনকে শুরু থেকেই মনে-প্রাণে ধারণ করে রাজপথে সক্রিয় ছিল। তারই ধারাবাহিকতায় দেশের জন্য জীবন উৎসর্গকারী বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও নিখাদ ভালোবাসার অংশ হিসেবেই আমাদের এই বিশেষ কোরবানি ও ঈদ উপহারের আয়োজন।
কোরবানি ও মাংস বিতরণ কর্মসূচির পাশাপাশি ঈদের দিন ঢাকার উত্তরা ও বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অবস্থানরত বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে ‘সফরা-এ-ঈদ’ শিরোনামে এক ঈদ পুনর্মিলনী ও শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। ঐতিহ্যবাহী চিরাচরিত মেজবানি ভোজের এই প্রীতি আয়োজনে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মী ছাড়াও সাধারণ শিক্ষার্থী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারী, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং অন্যান্য ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরাও দলমত নির্বিশেষে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।













































