
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সুন্দরবন এলাকায় বাড়তি সতর্কতা জারি করেছে বন বিভাগ। চোরা শিকারি ও বনজ সম্পদ লুট ঠেকাতে সুন্দরবনে কর্মরত সব কর্মকর্তা ও বনরক্ষীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে বনজুড়ে টহল কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে।
বন বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, প্রতি বছর ঈদের ছুটিতে একশ্রেণির চোরা শিকারি সুন্দরবনে প্রবেশ করে হরিণসহ বিভিন্ন বন্য প্রাণী শিকার করে থাকে। এছাড়া কাঠ লুট, বিষ দিয়ে মাছ নিধন এবং অবৈধভাবে মধু সংগ্রহের ঘটনাও বাড়ে। এ কারণেই এবার আগে থেকেই কঠোর অবস্থানে গেছে বন বিভাগ।
সুন্দরবন খুলনা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, ঈদের সময় বনরক্ষীদের অনেকে ছুটিতে চলে যাওয়ায় বনাঞ্চলের কিছু এলাকা অরক্ষিত হয়ে পড়ে। সেই সুযোগ কাজে লাগায় অপরাধচক্র। তাই এবার সব বনরক্ষীর ছুটি বাতিল করে সার্বক্ষণিক টহলের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, সীমান্তবর্তী বন ক্যাম্পগুলোতেও বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কোনো এলাকায় শিকার বা বন অপরাধ সংঘটিত হলে সংশ্লিষ্ট স্টেশন ও টহল ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্তদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। বন বিভাগের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সুন্দরবন সংলগ্ন কয়রার বাসিন্দা মো. মিজানুর রহমান বলেন, মাছ ধরার পাশ নিয়ে অনেক অসাধু ব্যক্তি বনে ঢুকে হরিণ শিকার করে। তাদের দ্রুত শনাক্ত করে দমন করা জরুরি।
ইয়ুথ ফর সুন্দরবনের সদস্য মো. ফরহাদ হোসেন বলেন, ঈদ সামনে রেখে বন বিভাগের এই উদ্যোগ প্রশংসার দাবি রাখে। তবে হরিণ শিকার রোধ করতে শিকারিদের বিকল্প কর্মসংস্থান তৈরি করত হবে। মাঝে মধ্যে হরিণশিকারিদের ধরা পড়ার খবর মানুষ জানতে পারে। তবে যারা ধরা পড়েন, তারা দুর্বল আইনের কারণে কয়েক দিন পর জেল থেকে ফিরে এসে বন্যপ্রাণী শিকারে যুক্ত হন।
কাশিয়াবাদ ফরেস্ট স্টেশন কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দীন বলেন, কয়রা উপজেলার দুই একটি জায়গায় হরিণ শিকারের জড়িত রয়েছে কিছু মানুষ। এ বছর বন বিভাগের নেওয়া পদক্ষেপের কারণে চোরা শিকারি চক্রগুলোর হরিণ শিকার করা প্রায় অসম্ভব হবে বলে আমার ধারণা করছি। আমাদের জনবল ও জলযানের সংকট আছে। এরপরও আমরা বনজ সম্পদ রক্ষায় আন্তরিকভাবে চেষ্টা করছি।
পশ্চিম বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এজেডএম হাছানুর রহমান বলেন, সুন্দরবনের সম্পদ রক্ষায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে বন বিভাগের সকল কর্মকর্তা ও স্টাফদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। তারা সার্বক্ষণিক টহল কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।











































