
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও বেড়েছে।
শুক্রবার (১৫ মে) সকালে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ ডলার ১৭ সেন্ট বা ১ দশমিক ১১ শতাংশ বেড়ে ১০৬.৮৯ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) ক্রুডের দাম ১ ডলার ১০ সেন্ট বা ১ দশমিক ০৯ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ১০২.২৭ ডলার।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-সংক্রান্ত নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং সরবরাহ সংকটের আশঙ্কাই বাজারকে চাপে রেখেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, চীন যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল কিনতে আগ্রহী। এমন মন্তব্যের পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম এক শতাংশের বেশি বেড়েছে।
সাক্ষাৎকারে তিনি একই সঙ্গে ইরানকে দ্রুত ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানোর আহ্বান জানান।
ট্রাম্প আরও ইঙ্গিত দেন, ইরানের বিষয়ে তিনি খুব বেশি ধৈর্য ধরবেন না। তার এই বক্তব্য বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছে বলে মনে করছেন বিনিয়োগকারীরা।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালি ঘিরে এখনো উদ্বেগ রয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার সংযুক্ত আরব আমিরাত উপকূলের কাছে একটি জাহাজ ইরানি বাহিনীর হাতে জব্দ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া ওমান উপকূলে আফ্রিকা থেকে পশুবাহী একটি ভারতীয় কার্গো জাহাজ ডুবে যায়।
যদিও ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড দাবি করেছে, বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে অন্তত ৩০টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। তবে যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন প্রায় ১৪০টি জাহাজ চলাচল করত। ফলে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং ট্রাম্পের বৈঠকেও হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা গুরুত্ব পেয়েছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, উভয় নেতা গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ খোলা রাখার প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে একমত হয়েছেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জ্যামিসন গ্রিয়ার বলেন, ইরান ইস্যুতে চীন ‘খুবই বাস্তববাদী’ অবস্থান নিয়েছে এবং বেইজিংয়ের জন্যও হরমুজ প্রণালি সচল থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কেন বাড়ছে তেলের দাম?
চীনা ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান হাইটং ফিউচারস–এর বিশ্লেষক ইয়াং আন বলেন, বাজারে মূল চাপ তৈরি করছে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা।
তার ভাষায়, জাহাজ চলাচল কিছুটা স্বস্তি দিলেও সরবরাহ সংকটের কারণে তেলের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা এখনো শক্তিশালী রয়েছে।
বিশ্ববাজারে তেলের এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব বাংলাদেশসহ আমদানি নির্ভর দেশগুলোর জ্বালানি ব্যয় ও পরিবহন খরচে নতুন চাপ তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স













































