প্রচ্ছদ জাতীয় বড় ঋণ নিয়ে সুখবর দিলো বাংলাদেশ ব্যাংক

বড় ঋণ নিয়ে সুখবর দিলো বাংলাদেশ ব্যাংক

দেশের ব্যাংক খাতের বড় ঋণগ্রহীতা বা শিল্প গ্রুপগুলোর জন্য ঋণের সীমা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে কোনো একক ব্যক্তি বা গ্রুপকে ব্যাংক তাদের মোট মূলধনের ২৫ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ দিতে পারবে। এতদিন এই সীমার পরিমাণ ছিল ১৫ শতাংশ। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করে।

এদিকে দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে টানা চারদিন ধরে বাজার থেকে ডলার কিনছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একইসঙ্গে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স প্রবাহে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্বস্তির আভাস মিলছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, ডলারের সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় বাজারে অতিরিক্ত চাপ কমেছে এবং সেই সুযোগে বাংলাদেশ ব্যাংক ডলার সংগ্রহ করে রিজার্ভ শক্তিশালী করার কৌশল নিয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (১১ মে) একটি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা কাট-অফ দরে ৪ কোটি ৫০ লাখ (৪৫ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর ফলে মে মাসে মোট ডলার কেনার পরিমাণ দাঁড়ায় ১২ কোটি ৫০ লাখ (১২৫ মিলিয়ন) ডলার এবং চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট ক্রয় বেড়ে হয় ৫ হাজার ৭৯৮ কোটি ৫০ লাখ (৫,৭৯৮.৫০ মিলিয়ন) ডলার।

পরদিন মঙ্গলবার (১২ মে) একই দরে আরও ২ কোটি (২০ মিলিয়ন) ডলার কেনা হয়। এতে মে মাসে মোট ক্রয় বেড়ে দাঁড়ায় ১৪ কোটি ৫০ লাখ (১৪৫ মিলিয়ন) ডলার এবং অর্থবছরে মোট ক্রয় হয় ৫ হাজার ৮১৮ কোটি ৫০ লাখ (৫,৮১৮.৫০ মিলিয়ন) ডলার।

বুধবার (১৩ মে) দুইটি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে আরও ২ কোটি ৫০ লাখ (২৫ মিলিয়ন) ডলার কেনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতে মে মাসে মোট ডলার ক্রয় বেড়ে দাঁড়ায় ১৭ কোটি (১৭০ মিলিয়ন) ডলার এবং অর্থবছরে মোট ক্রয় দাঁড়ায় ৫ হাজার ৮৪৩ কোটি ৫০ লাখ (৫,৮৪৩.৫০ মিলিয়ন) ডলার।

সবশেষ বৃহস্পতিবার (১৪ মে) পাঁচটি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে আরও ৪ কোটি (৪০ মিলিয়ন) ডলার কেনা হয়েছে। ফলে মে মাসের প্রথম দুই সপ্তাহেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মোট ডলার ক্রয় দাঁড়িয়েছে ২১ কোটি (২১০ মিলিয়ন) ডলার। আর চলতি অর্থবছরে মোট ডলার ক্রয়ের পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ৫ হাজার ৮৮৩ কোটি ৫০ লাখ (৫,৮৮৩.৫০ মিলিয়ন) ডলার।

এর আগে ৫ মে তিনটি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ৫ কোটি (৫০ মিলিয়ন) ডলার কেনে বাংলাদেশ ব্যাংক। তখন মে মাসের প্রথম পাঁচ দিনে মোট ডলার ক্রয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল ৮ কোটি (৮০ মিলিয়ন) ডলার।

এদিকে প্রবাসী আয়েও বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৩ মে একদিনেই দেশে এসেছে ১৩ কোটি ৮০ লাখ (১৩৮ মিলিয়ন) ডলারের রেমিট্যান্স। চলতি মে মাসের প্রথম ১৩ দিনে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ১৭৪ কোটি ৩০ লাখ (১.৭৪৩ বিলিয়ন) ডলার। গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ১২৬ কোটি ৭০ লাখ (১.২৬৭ বিলিয়ন) ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে মে মাসের প্রথম ১৩ দিনে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে প্রায় ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ।

অপরদিকে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ১৩ মে পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩১ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল ২৫ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলার। সে হিসাবে অর্থবছরের এই সময়ে রেমিট্যান্সে প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ২০ দশমিক ৪ শতাংশ।

ব্যাংকাররা বলছেন, বৈধ চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে সরকারের প্রণোদনা, হুন্ডি নিয়ন্ত্রণে নজরদারি বৃদ্ধি এবং ডলারের বাজারে স্থিতিশীলতা— এই তিন কারণে প্রবাসী আয় বাড়ছে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন শ্রমবাজারে নতুন কর্মসংস্থানও রেমিট্যান্স বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।

রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ার ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ১২ মে পর্যন্ত দেশের মোট বা গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন ডলার। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুযায়ী রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৯ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার।