প্রচ্ছদ জাতীয় ফ্লাইওভারে ছাত্রলীগ নেতার ঝুলন্ত লাশ, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে কী জানাল পুলিশ

ফ্লাইওভারে ছাত্রলীগ নেতার ঝুলন্ত লাশ, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে কী জানাল পুলিশ

চট্টগ্রাম নগরের পাহাড়তলি থানাধীন সাগরিকা স্টেডিয়ামসংলগ্ন ফ্লাইওভার থেকে আবু কাউসার (২৭) নামের এক যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় আত্মহত্যার আলামত পেয়েছে পুলিশ।

সিসিটিভি ফুটেজ থেকে পাওয়া তথ্যমতে, ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি ও ময়নাতদন্তের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ বিশ্লেষণ করে পুলিশ বলছে, ঘটনাটি আত্মহত্যা বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি নিয়ে নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ায় বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের পশ্চিম বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. আলমগীর হোসেন বলেন, সাগরিকায় ফ্লাইওভারের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, রাত দেড়টার দিকে কাউসার হামিদ প্রকাশ আবু কাউসার একাই ফ্লাইওভারে ওঠেন এবং মাঝামাঝি একটি পিলারের কাছে গলায় ফাঁস দেন।

ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলেই প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছি। কাউসারের বিরুদ্ধে দস্যুতা, চাঁদাবাজিসহ ৬টি মামলা রয়েছে। এরমধ্যে দুটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও ছিল। নিহতের জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই করে তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে।

ডিসি মো. আলমগীর হোসেন বলেন, নিহতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। পাশাপাশি মাদকাসক্তির বিষয়েও তথ্য পেয়েছে পুলিশ। পরিবারের পক্ষ থেকে প্রথমদিকে ময়নাতদন্ত না করার অনুরোধ করা হলেও আইনগত কারণে তা করা হয়েছে। এ ঘটনায় পাহাড়তলী থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এর আগে সোমবার (১১ মে) রাতে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নগরের পাহাড়তলী থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করেছে পুলিশ। নিহত কাউসার আহমেদ (২৭) আকবর শাহ থানা ছাত্রলীগের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। তিনি নগরীর পশ্চিম ফিরোজশাহ এলাকার বাসিন্দা ও বিএসআরএম কারখানায় নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

পাহাড়তলী থানার ওসি নুরুল আবছার বলেন, স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্যমতে, আবু কাউসার দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্তি এবং বিভিন্ন মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। মরদেহে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন না থাকায় পুলিশের প্রাথমিক ধারণা এটি একটি আত্মহত্যার ঘটনা। এ ঘটনায় বর্তমানে একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে।

গত মঙ্গলবার রাত থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি ভিন্ন মোড় নেয়। বর্তমানে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সাবেক কয়েকজন নেতা দাবি করেন, নিহতের নাম কাউসার আহমেদ এবং তিনি আকবর শাহ থানা ছাত্রলীগের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বিষয়টিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে দাবি করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে ওসি নুরুল আবছার বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে নিহতের নাম আবু কাউসার হিসেবেই নিশ্চিত করা হয়েছে। তার কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার তথ্য আমাদের কাছে নেই। তবে আমরা সব দিকই খতিয়ে দেখছি।