প্রচ্ছদ জাতীয় নুর সংসদে ভুল বলেছেন, তিনি গোলের পরিস্থিতি তৈরি করেননি: রাশেদ খান

নুর সংসদে ভুল বলেছেন, তিনি গোলের পরিস্থিতি তৈরি করেননি: রাশেদ খান

বিএনপি নেতা রাশেদ খান বলেছেন, প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর সংসদে ভুল বলেছেন। তিনি শুধু গোল করার পরিস্থিতি তৈরি করেননি, গোলও করেছেন।

বৃহস্পতিবার সকালে রাশেদ খান তার ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন।

প্রসঙ্গত, জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে বুধবার পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তৃতায় নুরুল হক নুর বলেন, আমরা গোল করার পরিস্থিতি তৈরি করেছি। তারা ৫ গোল দিয়ে দিয়েছে।

পোস্টে নুরের এক সময়ের সারথি রাশেদ খান বলেন, ‘গতকাল জাতীয় সংসদে নুরুল হক নুর তথ্য প্রমাণসহ বক্তব্য দিয়েছে। তার বক্তব্য মিথ্যা প্রমাণ করতে হলে তথ্য প্রমাণ হাজির করে মিথ্যা প্রমাণ করতে হবে। নুরুল হক নুর যেটা বলতে ভুলে গেছে, সে জেলের বাইরে থাকতে যেমন ৮৫ মিনিট খেলে (সরকারের ৯০% পতন হয়ে গেছে) গোল করার পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে, ঠিক জেলে গিয়েও ৫ মিনিট খেলে (১০% ধাক্কা দাও) গোল দিয়েছে।

রাশেদ খান অভিযোগ করে বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কিছু মুনাফেক উপদেষ্টা ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে যে সংগ্রাম, সেটাকে উপেক্ষা করে জুলাইয়ের ঘোষণাপত্রের নামে এক ধরনের জালিয়াতিপূর্ণ ইতিহাস রচনা করেছে। অথচ নুরুল হক নুর জেলের বাইরে ও পুলিশের হাতে হ্যান্ডকাপ পরা অবস্থায় সময়োপযোগী ও ঐতিহাসিক বক্তব্য দিয়ে যেভাবে জাতিকে মাঠে নামতে উদ্বুদ্ধ ও সাহসী করেছিলো, তাকে উপযুক্ত সম্মান দিতে পারেনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও সরকার ঘনিষ্ঠ জুলাইয়ে ঠিকাদাররা।’

গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক পদ ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দেওয়া সাবেক এই ছাত্রনেতা অভিযোগ করেন, বিচার ও সংস্কারের নামে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যে ১৮ মাস সময় নিলো, তার মূলেই ছিলো একটি কিংস পার্টি গঠনের সুযোগ তৈরি করে দেওয়া। ড. মুহাম্মদ ইউনূস ছিলেন এই কিংস পার্টি গঠনের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক। কেউ দল গঠন করুক, আমি সেটাকে অবশ্যই সাধুবাদ জানাবো। কিন্তু উপদেষ্টা পদে থেকে দল গঠন, এটা নতুন বন্দোবস্তও না, সংস্কারের রাজনীতিও না। ক্ষমতার ব্যবহার করে অন্যদের অবদান অস্বীকার করা, আর নিজেরা ফায়দা নেওয়ার জন্য জুলাই হয়নি, এতো মানুষ শহীদ হয়নি।

গত ১৮ মাসে জুলাইকে কলঙ্কিত করা হয়েছে মন্তব্য করে রাশেদ বলেন, ‘এদেশে কাউকে থানা থেকে চাঁদাবাজ ছাড়িয়ে আনা ও বন্দর দখল করার জন্য কোন জুলাই হয়নি। জুলাইকে ১৮ মাসে যারা কলঙ্কিত করেছে, তাদের মুখে জুলাই লাগবে, জুলাই লাগবে শুনলে মনে হয় আবারও চাঁদাবাজি ও তদবির বাণিজ্যের নীরব সুযোগ লাগবে বলে এতো জুলাই জুলাই করে। সুযোগ বারবার আসেনা। জনগণ সুযোগ দিয়েছিল, কিন্তু সেটার অপব্যবহার করা হয়েছে, এখন গলা ছিড়ে ফেললেও আর জনগণ আপনাদের হাতে জুলাই দেবে না!’