প্রচ্ছদ জাতীয় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি: অনুমোদন মেলে কোথায়, জানালেন শফিকুল আলম

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি: অনুমোদন মেলে কোথায়, জানালেন শফিকুল আলম

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বাক্ষরিত অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড (এআরটি) চুক্তি নিয়ে চলমান আলোচনা ও বিতর্কের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কিছু দিক তুলে ধরেছেন সাবেক প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

সাংবাদিক খালেদ মহিউদ্দিনের সঞ্চালনায় ঠিকানা টকশোতে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, এই চুক্তি সরকারের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্যায়েই অনুমোদিত হয়েছিল।

শফিকুল আলমের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের আন্তর্জাতিক চুক্তি স্বাক্ষরের ক্ষেত্রে ক্যাবিনেটের অনুমোদন একটি বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়া। তিনি জানান, চুক্তিটি ক্যাবিনেটে আলোচনা হয়েছে এবং অনুমোদন নিয়েই তা সম্পন্ন করা হয়েছে—এটাই তার জানা।

যুক্তরাষ্ট্র ২০২৫ সালের ২ এপ্রিল নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের ওপর পালটা শুল্ক আরোপ করার পর পরিস্থিতি মোকাবিলায় আলোচনায় যায় বাংলাদেশ। পরবর্তীকালে একটি অভিন্ন কাঠামোর আওতায় চুক্তির খসড়া পাঠানো হলে আলোচনায় অংশ নেওয়া দেশগুলোর জন্য সংশোধিত শুল্কহার নির্ধারণ করা হয়। এতে বাংলাদেশের জন্য হার নির্ধারিত হয় ২০ শতাংশ, যা পরবর্তীকালে কমে ১৯ শতাংশে আসে।

টকশোতে আলোচনার এক পর্যায়ে বড় রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে এ চুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না— এ প্রশ্নে শফিকুল আলম সরাসরি কিছু জানেন না বলে উল্লেখ করেন। তবে তিনি বলেন, যেহেতু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এ বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছেন, সেক্ষেত্রে তাদের অবস্থানই গ্রহণযোগ্য হিসেবে ধরা যেতে পারে।

তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, কোনো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক চুক্তি হলেও সব বিষয় সবসময় ক্যাবিনেটে বিস্তারিত আলোচনা নাও হতে পারে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা প্রয়োজন অনুযায়ী রাজনৈতিক পক্ষগুলোর সঙ্গে আলাপ করতে পারেন।

এদিকে, চুক্তিটি স্বাক্ষরের সময়কাল এবং এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে ইতোমধ্যে সমালোচনাও দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে জাতীয় নির্বাচনের আগে এমন একটি চুক্তি দেশের অর্থনীতি ও সার্বভৌমত্বের জন্য কতটা উপযোগী—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিভিন্ন মহল।

সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ বাণিজ্য চুক্তিটি এখন শুধু অর্থনৈতিক নয়, রাজনৈতিক আলোচনারও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে।