প্রচ্ছদ আবহাওয়া কালবৈশাখী-বন্যা নিয়ে বড় দুঃসংবাদ, জেনে নিন কোন অঞ্চলে কবে আঘাত হানবে

কালবৈশাখী-বন্যা নিয়ে বড় দুঃসংবাদ, জেনে নিন কোন অঞ্চলে কবে আঘাত হানবে

সারাদেশে চলমান তাপপ্রবাহের মধ্যেই অকাল বন্যার হাতছানি আর কালবৈশাখীর পূর্বাভাস মিলেছে। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দেশের ৫টি বিভাগে তাপপ্রবাহ বয়ে গেলেও আগামী সোমবার থেকে এর তীব্রতা কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে স্বস্তির খবরের পাশাপাশি উদ্বেগ বাড়াচ্ছে সিলেট অঞ্চলের আবহাওয়া; আগামী ২৬ এপ্রিল থেকে ভারতের মেঘালয় ও সংলগ্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি ঢল ও হাওর অঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ফসলহানি এড়াতে আগামী ২৮ এপ্রিলের মধ্যে হাওরের সব পাকা ধান কেটে ফেলার জরুরি পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পূর্বাভাসে মোস্তফা কামাল পলাশ এসব তথ্য জানান।

তিনি জানান, শুক্রবার বিকেল ৫টার পর থেকে আগামীকাল শনিবার সকাল ৬টার মধ্যে বাংলাদেশের কোনো জেলায় বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা নেই। তবে সকাল ৬টার পর থেকে সকাল ১০টার মধ্যে রংপুর বিভাগের উত্তর ও পূর্ব দিকের ৩/৪টি জেলা (পঞ্চগড়, নীলফামারী, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা), ময়মনসিংহ বিভাগের শেরপুর জেলা এবং সিলেট বিভাগের সুনামগঞ্জ ও সিলেট জেলার ওপর হালকা বজ্রপাতসহ হালকা থেকে মাঝারি মানের বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে একই দিন দুপুর ৩টার সময় দেশের ৫টি বিভাগে তাপপ্রবাহের তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। দুপুর ৩টার সময় পুরো দেশের মধ্যে রাজশাহী জেলায় সর্বোচ্চ ৩৭ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।

ঢাকা শহরে ৩৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। আগামীকাল শনিবারও দেশের ৫টি বিভাগের (সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগ ছাড়া অন্য সব বিভাগ) ওপর দিয়ে তাপপ্রবাহ অতিক্রম করার আশঙ্কা করা যাচ্ছে। চলমান এই তাপপ্রবাহ আগামীকাল শনিবার থেকে কমা শুরুর সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বেশিরভাগ জেলায় আগামী রোববার পর্যন্ত স্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা করা যাচ্ছে। আগামী সোমবার থেকে তাপপ্রবাহের তীব্রতা দ্রুত কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

এ ছাড়া, আগামী ২৬ এপ্রিল থেকে আবারও কালবৈশাখী ঝড় শুরুর আশঙ্কা করা যাচ্ছে। ২৬ এপ্রিল রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগে; ২৭ এপ্রিল সিলেট, ময়মনসিংহ, রংপুর, ঢাকা ও রাজশাহী বিভাগে এবং ২৮ এপ্রিল থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত পুরো দেশের ওপর দিয়ে কালবৈশাখী ঝড় অতিক্রমের আশঙ্কা করা যাচ্ছে।

অপরদিকে আগামী ২৬ এপ্রিল থেকে শুরু করে ৫ মে পর্যন্ত ভারতের মেঘালয় রাজ্যের পূর্ব খাসি পর্বত এলাকায়—বিশেষ করে চেরাপুঞ্জি অঞ্চল এবং বাংলাদেশের সুনামগঞ্জ ও সিলেট জেলার ওপর প্রায় প্রতিদিন মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে সিলেট বিভাগের নদ-নদীগুলোতে পাহাড়ি ঢল নামতে পারে এবং হাওর অঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।

তাই হাওর এলাকার কৃষকদের প্রতি পরামর্শ, জমিতে থাকা পাকা ধান আগামী ২৮ এপ্রিলের মধ্যে কেটে ফেলার চেষ্টা করুন। কারণ ২৮ এপ্রিলের পর হাওর এলাকার বিলগুলো বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সূত্র: চ্যানেল২৪