প্রচ্ছদ জাতীয় এনসিপিতে যোগ দিয়ে যে বার্তা দিলেন ইসহাক সরকার

এনসিপিতে যোগ দিয়ে যে বার্তা দিলেন ইসহাক সরকার

গণতান্ত্রিক ও কথা বলার অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার আহ্বান জানিয়ে সদ্য এনসিপিতে যোগ দেয়া বহিষ্কৃত যুবদল নেতা ইসহাক সরকার বলেছেন, এ দেশের জনগণ পরিবর্তন চায় এবং জনগণের অধিকার খর্ব করা হলে আবারও রাজপথে নেমে আসা হবে। প্রয়োজনে জীবন দিতে হলে জীবনও দিয়ে দেবো।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) এনসিপিতে যোগদানের পর এক বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এদিন বিকেলে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপিতে যোগ দেন। দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী, সারজিস আলমসহ শীর্ষ নেতারা ফুল দিয়ে নতুন সদস্যকে বরণ করে নেন।

ইসহাক সরকার তার বক্তব্যে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির সমালোচনা করে বলেন, মানুষের গণতান্ত্রিক ও কথা বলার অধিকার আজ কেড়ে নেয়া হয়েছে। আমাদের এই অধিকার ফিরিয়ে আনতে হবে।

তিনি দাবি করেন, এনসিপির মাধ্যমেই দেশের মানুষ গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পাবে।

নেতাকর্মীদের রাজপথে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য আমাদের আবারও রাজপথে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। যদি জীবন দিতে হয়, তবে জীবন দিতেও আমরা প্রস্তুত।

হাদি হত্যার প্রসঙ্গ তুলে ধরে ইসহাক সরকার বলেন, হাদিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

তিনি আরও বলেন, এ দেশের সাধারণ মানুষ এখন পরিবর্তন চায়। তারা তাদের অধিকার ফিরে পেতে চায়। যদি জনগণের এই আকাঙ্ক্ষাকে খর্ব করা হয়, তবে সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে নেমে আসব।

ইসহাক সরকার দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ছাত্রদল ও যুবদলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকার কারণে তিনি একাধিক মামলার আসামি হন, যার সংখ্যা তিন শতাধিক বলে জানা যায়।

পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন মামলায় আদালত থেকে তিনি খালাস পান। সবশেষ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৭ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন তিনি। মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেয়ার পর দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়।