
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনায় জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি মোহাম্মদ ফরহাদ হোসেন গুরুতর আহত হয়েছেন। তাকে হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এ সময় ককটেল বিস্ফোরণ, ভাঙচুরসহ অন্তত পাঁচজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
আজ মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার মৌচাক ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড যোগিরচালা এলাকার হুকলোন গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে এ ঘটনা ঘটে। এতে পুরো এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে সমঝোতার ভিত্তিতে কারখানার ঝুট ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন মোহাম্মদ ফরহাদ হোসেন এবং কালিয়াকৈর উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হারুন।
তবে সম্প্রতি হারুন এককভাবে ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন। এরই অংশ হিসেবে মঙ্গলবার দুপুরে শতাধিক লোকবল নিয়ে ফ্যাক্টরি থেকে ঝুট মালামাল সরাতে যান তিনি।
খবর পেয়ে ফরহাদ হোসেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চান এবং সমঝোতার ভিত্তিতে সমাধানের চেষ্টা করেন। এ সময় কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে হারুনের নেতৃত্বে থাকা লোকজন দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
সংঘর্ষ চলাকালে কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয় এবং একটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।
এ ঘটনায় মোহাম্মদ ফরহাদ হোসেন গুরুতর আহত হন। এছাড়াও উভয় পক্ষের অন্তত আরও চারজন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। আহতদের উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ফরহাদের শরীরে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
মৌচাক ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি, সেলিম হোসেন বলেন, সমঝোতার ভিত্তিতে পরিচালিত ব্যবসা জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা থেকেই এ সহিংসতার সূত্রপাত। তিনি হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম জানান, ঝুট ব্যবসা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে জড়িতরা পালিয়ে যায়। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মৌচাক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. শামীম আক্তার জানান, ঘটনাস্থল থেকে একটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে। আহতরা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ দিকে স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহল উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, প্রকাশ্যে ককটেল বিস্ফোরণ ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এ ধরনের সংঘর্ষ আইনশৃঙ্খলার জন্য হুমকিস্বরূপ। তারা দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর ভূমিকা কামনা করেছেন।












































