প্রচ্ছদ জাতীয় ওরা ৫ বোন মিলেই মেরে ফেলছে, কী ঘটেছিলো?

ওরা ৫ বোন মিলেই মেরে ফেলছে, কী ঘটেছিলো?

‘১৩-১৪ বছর আগে মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি। একটা ছেলে আর একটা মেয়ে হয়েছে। ছেলেটা মাদ্রাসায় পড়ে। পরে পড়বে না দেখে ৮ দিন আগে বাড়িতে চলে আসে। বিয়ে দেওয়ার পর থেকে ননদরা আমার মেয়ের সঙ্গে অশান্তি করে। এক বাচ্চা হওয়ার পরে মেয়ে যখন বেড়াতে যায় তখন মেয়েকে তালাক পাঠায়।’

‘তখন বলি আমার মেয়েকে সংসার করাব না এখানে। এরা বোনরা মিলে গন্ডগোল করে কিন্তু আমার জামাইয়ের একই কথা আমি নেব, সংসার করব। আমার জামাইয়ের ওপর ভরসা করে মেয়েকে আবারও পাঠাই। আমার মেয়েকে তারা বহুদিন থেকে নির্যাতন করতেছে। ওরা ৫ বোন মিলেই আমার মেয়ে-জামাই, নাতি-নাতনিকে মেরে ফেলছে।’

এভাবে কান্নাজড়িত কণ্ঠে আহাজারি করে কথাগুলো বলেন নিহত পপি সুলতানার মা সাবিনা বেগম।

সোমবার (২০ এপ্রিল) মধ্যরাতে নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামে পপি সুলতানাসহ তার পরিবারের চারজনকে গলাকেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

সাবিনা বেগম আরও বলেন, বিয়ের পর থেকেই ওরা আমার মেয়েকে নির্যাতন করে। কয়েক দিন আগে আমার মেয়ের ননদ শিরিনা তার স্বামী ভুটি এবং তার ছেলের বউ মিলে আমার মেয়েকে ধরে মারধর করে। তখন তারা থানায় যায়।

তিনি বলেন, থানা থেকে ঘুরে এসে গ্রামের মানুষের কাছে বিচার দেয়। গ্রামের মানুষ তখন আপস মীমাংসা করে দেয়। তারপর কোর্টে মামালা করে। জমি যখন আমার জামাইকে দেয় তখন তার ৫ বোনকেও আড়াই বিঘা করে জমি লিখে দেয়। আর আমার জামাইকে বাড়িভিটা মিলে ১০ বিঘা জমি দেয়।

সাবিনা বেগম বলেন, আমার জামাই তার বাবার একমাত্র ছেলে। আমার জামাইকে ১০ বিঘা জমি দেওয়াতেই তাদের মূল সমস্যা। এইটা নিয়েই তাদের হিংসা শুরু হয়। আমার মেয়েকে তারা বহুদিন থেকে নির্যাতন করে। ওরা ৫ বোন মিলেই আমার মেয়ে-জামাইকে মেরে ফেলছে।

এ ঘটনায় নিহতরা হলেন— বাহাদুরপুর গ্রামের নমির উদ্দিনের ছেলে হাবিবুর রহমান (৩২), হাবিবুরের স্ত্রী পপি সুলতানা (২৫), ছেলে পারভেজ (৯) এবং ৩ বছরের মেয়ে সাদিয়া আক্তার।

সূত্র : কালবেলা