
গাজীপুরের শ্রীপুরে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানে দাওয়াত না পাওয়ায় দলবল নিয়ে হামলা চালিয়ে অনুষ্ঠান পণ্ড করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। এ সময় প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছিত করা, মাইকের রিসিভার ভেঙে ফেলা এবং স্কুলের অফিস কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। হামলার মুখে আতঙ্কিত হয়ে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করে শিক্ষার্থীরা।
গতকাল রোববার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের বাঁশবাড়ি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির পক্ষ থেকে গাজীপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সারোয়ার হোসেন আওয়াল, তার সহযোগী আরমান ও মান্নান মাস্টারকে অভিযুক্ত করা হয়।
স্কুল কর্তৃপক্ষ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় উপলক্ষে সকালে কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী তেলাওয়াত শেষ করার পরপরই সারোয়ার হোসেন আওয়ালের নেতৃত্বে একদল লোক অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করে উচ্চস্বরে গালাগাল শুরু করেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সানোয়ার উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, অনুষ্ঠানে কেনো দাওয়াত দেওয়া হয়নি- এই অজুহাতে সারোয়ার হোসেন আওয়াল আমার হাত থেকে মাইকের রিসিভার কেড়ে নিয়ে ভেঙে ফেলেন। তিনি আমাকে ধাক্কাধাক্কি করেন এবং বাধা দিতে গেলে অন্য শিক্ষকদেরও গালিগালাজ করেন। স্কুলের অফিস সহায়ক আব্দুস সামাদকে মারধর করা হয়েছে। তাদের তাণ্ডবে ৭৪ জন পরীক্ষার্থী ভয়ে দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করে স্কুল ছেড়ে চলে যায়। যাওয়ার সময় তারা স্কুলের অফিস কক্ষে তালা লাগিয়ে দিয়ে যায়।
গাজীপুর ইউনিয়ন বিএনপির ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সারোয়ার হোসেন আউয়াল বলেন, এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফরম ফিলাপ ও এডমিটের জন্য অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হয়েছে। এ কারণেই অভিভাবকরা প্রতিবাদ করেছেন, এখানে দাওয়াতের কোনো বিষয় নেই এবং এর সঙ্গে আমি জড়িত নই।
সারোয়ার আউয়াল আরও বলেন, অনুষ্ঠান পণ্ড হওয়ার ১০–১৫ মিনিট পর আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছি। আর এই পুরো ঘটনাটি অভিভাবকরাই ঘটিয়েছেন। বিদ্যালয়ের টাকার হিসাবের দাবিতে সভাপতির উপস্থিতিতে মান্নান মাস্টার তালা লাগান। পরে আমার হস্তক্ষেপে তালা খোলা হয়। এখানে কাউকে মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমরা চাই স্কুলের সঠিক হিসাব-নিকাশ হোক।
বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. শামসুল হক জানান, রাজনৈতিক নেতাদের দাওয়াত না দেওয়ার জেরে শিক্ষার্থীদের দোয়া অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। এই ঘটনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
শ্রীপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম জানান, প্রধান শিক্ষক তাকে বিষয়টি অবহিত করেছেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সজীব আহমেদ বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে আমরা অবগত হয়েছি। সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সূত্র : এনটিভি













































