প্রচ্ছদ হেড লাইন ক্ষমা চাইলেন রাশেদ প্রধান

ক্ষমা চাইলেন রাশেদ প্রধান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ‘কুলাঙ্গার’ বলে কটাক্ষ করার ঘটনায় ক্ষমা চাইলেন জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান। শনিবার (১৮ মার্চ) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে ক্ষমা চান এবং নিজের ব্যাখ্যা দেন।

আমার ব্যক্তিগত ধারণা, বিএনপির কিছু সংখ্যক কর্মী ‘কুলাঙ্গার’ শব্দের অর্থ ঠিকমত উপলব্ধি করতে পারেন নাই। কুলাঙ্গার শব্দের অর্থ: কুল (বংশ) + অঙ্গার (কলঙ্ক) = বংশের কলঙ্ক। কুলাঙ্গার (বিশেষ্য) হলো এমন ব্যক্তি যার কুকর্মের ফলে তার বংশ কলঙ্কিত বা অপমানিত হয়।

লিখিত বক্তব্যে রাশেদ প্রধান বলেন, আমি ২০২৬ এর জাতীয় নির্বাচনের আগে থেকেই আমার বক্তব্যে বারবার বলেছি- শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিএনপি আর নাই। তারেক রহমান তার পিতা-মাতার আদর্শে বর্তমান বিএনপি পরিচালনা করেন না। তিনি পিতা-মাতার সম্মান নষ্ট ও অপমান করেছেন। গত ১৫ এপ্রিল (বুধবার) এক আলোচনা সভায় আমার দেওয়া বক্তব্যে আমি একই কথা বলেছি। আমার এ বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আলোচনা এবং সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
তিনি বলেন, অতীতে অসংখ্যবার দেওয়া বক্তব্যে তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা না গেলেও ১৫ এপ্রিলের বক্তব্যে বড় রকমের প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অতীতের সঙ্গে ১৫ এপ্রিলের বক্তব্যের পার্থক্য অথবা নতুনত্ব একটি মাত্র শব্দ, সেটি হচ্ছে ‘কুলাঙ্গার’।

এই নেতা বলেন, আমার ব্যক্তিগত ধারণা, বিএনপির কিছু সংখ্যক কর্মী ‘কুলাঙ্গার’ শব্দের অর্থ ঠিকমত উপলব্ধি করতে পারেন নাই। কুলাঙ্গার শব্দের অর্থ: কুল (বংশ) + অঙ্গার (কলঙ্ক) = বংশের কলঙ্ক। কুলাঙ্গার (বিশেষ্য) হলো এমন ব্যক্তি যার কুকর্মের ফলে তার বংশ কলঙ্কিত বা অপমানিত হয়।

সম্ভবত ‘কুলাঙ্গার’ শব্দের অর্থ না বুঝার কারণে বিএনপি কিছু কর্মীদের মধ্যে এতো উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

তিনি বলেন, তারপরেও যেহেতু বিএনপি কর্মীরা ‘কুলাঙ্গার’ শব্দ ব্যবহার করার জন্য রাগ করেছেন, কষ্ট পেয়েছেন তাই আমি বিএনপি সমর্থকগোষ্ঠীর কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। ভবিষ্যতে আর ‘কুলাঙ্গার’ শব্দটি ব্যবহার করব না বলে কথা দিচ্ছি কিন্তু অতীত থেকে ব্যবহার করে আসা আমার বক্তব্য একই।

জাগপার মুখপাত্র বলেন, আমাকে বিব্রত করার জন্য সামাজিক মাধ্যমে আমার স্ত্রীর ব্যক্তিগত তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আমার পিএস জনি মোহাম্মদপুর থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। এখন পর্যন্ত তাকে কোনো মামলা দেওয়া হয়নি। তাকে কোনো মামলা দিলে আমি আইনিভাবে মোকাবিলা করব।

বক্তব্যটি ১১ দলীয় জোটের নয় বলে মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, আমার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে মরহুম দাদা পাকিস্তান আমলের স্পিকার মুসলিম লীগ নেতা গমীর উদ্দিন প্রধানকে রাজাকার বলা হচ্ছে। অথচ আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ কোনো সরকারের আমলে তার নামে এ ধরনের কোনো অপবাদ কেউ দেয় নাই। তাছাড়া আমার মরহুম পিতা জাগপা প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শফিউল আলম প্রধানকে রাজাকার বলা হচ্ছে। অথচ ইতিহাস বলে শফিউল আলম প্রধান ৭১ সালের ২৩ মার্চ পরাধীন বাংলার দিনাজপুরে পাকিস্তানের পতাকা নামিয়ে স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করেছিলেন। তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে রাজাকার বানানোর এ মিথ্যা চক্রান্ত নিন্দনীয়।

এক প্রশ্নের জবাবে রাশেদ প্রধান বলেন, সংসদে দাঁড়িয়ে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ বলেছিলেন মব কালচার বন্ধ। তারেক রহমানও লন্ডনে থাকা অবস্থায় নিজের ব্যাঙ্গাত্মক কার্টুন শেয়ার করে বলেছিলেন মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে।

এ ঘটনার বিষয়ে বর্তমান সরকার কী করে- সে পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন বলে জানান তিনি।