
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে সামাজিক মাধ্যমে ৯টি পরামর্শ বা খোলা চিঠি দিয়েছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকাল সোয়া ১০টার দিকে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এসব কথা বলেন।
শিশির মনিরের পোস্টটি হুবহু যুগান্তর পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-
১। আজ আমি আপনাকে কয়েকটি অপ্রিয় সত্য কথা বলব। আপনি এখন ক্ষমতায়। তাই আপনাকে অনেকেই এসব কথা বলতে চাইবে না। অনেকেই সংকোচবোধ করবে। কেউ কেউ ভয় পাবে।
২। মানা কিংবা না মানা আপনার একান্ত বিষয়। অতীতে অতিরিক্ত তোষামোদির কারণে অনেকেই হেয়প্রতিপন্ন হয়েছেন। ডিগ্রির পর ডিগ্রি, উপাধির পর উপাধি, কত কী? শেষ পর্যন্ত কোনো কিছুই তাদের রক্ষা করতে পারেনি। ইদানীং দেখছি, আপনি এবং আপনার পরিবারকে নিয়ে একই কাজ করা হচ্ছে। কে করছে, কেন করছে? আপনিই ভালো বলতে পারবেন।
৩। মহান জাতীয় সংসদে আপনাকে শিশু মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ঘোষণা করার দাবি উত্থাপন, টাইম ম্যাগাজিনে আপনি ১০০ প্রভাবশালীদের একজন; তাই সংসদে অভিনন্দন প্রস্তাব আনা (খবরে এসেছে, সবাই জেনেছে, আপনাকে সামনে রেখে অভিনন্দন প্রস্তাব কেন আবার), কোন সরকারি দায়িত্ব না থাকা সত্ত্বেও আপনার মেয়ে জাইমা রহমানকে প্রোটোকল দেওয়া/হাইলাইট করা (শিক্ষামন্ত্রী), সংসদে আপনাকে সম্রাট বাবরের সঙ্গে তুলনা করা, আপনার হাতে আপনার শাসনকালে (অন্যের মাধ্যমে দেওয়া যেত) আপনার মেয়ের মাধ্যমে আপনার মা দেশনেত্রী মরহুমা খালেদা জিয়াকে মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়া, ক্রিকেট বোর্ডে কেন্দ্রীয় নেতাদের সন্তানদের মিলনমেলা বানানো, আপনাকে পায়ে ধরে সালাম করা (যদিও একজনকে আপনি নিষেধ করেছেন) ইত্যাদি।
৪। নিঃসন্দেহে আপনি বেশ কিছু সহজ-সরল ব্যাতিক্রম উদাহরণ দেখিয়েছেন। যেমন- সাধারণ জামা কাপড় পরিধান করা, প্রোটোকল কম ব্যবহার করা, হেঁটে যাওয়া, বিদ্যুৎ কম ব্যবহার করা, সময়মতো অফিসে যাওয়া, ছুটির দিন কাজ করা ইত্যাদি।
৫। গণঅভ্যুত্থানের পর সাধারণ মানুষ আর তোষামোদি দেখতে চায় না। আমরা চাই- কাজ। যে যত বেশি কর্মক্ষম, সৎ তিনি তত বেশি গ্রহণযোগ্য হবেন। জটিল সমস্যার সমাধান করতে পারলে এমনিতেই আপনি জনপ্রিয় হবেন। সমাধান করতে না পারলে এমনিতেই মানুষ মুখ ফিরিয়ে নেবে।
৬। অধিকন্তু পরিবারকেন্দ্রিক একনায়কতন্ত্রও নতুন প্রজন্ম পছন্দ করে না। নতুন প্রজন্মের কাছে যোগ্যতাই মূল বিবেচ্য বিষয়। আপনার বাবা-মা দুজনই নিজ নিজ যোগ্যতায় মহীয়ান। কষ্ট করে সংগ্রাম করে জীবন দিয়ে চেষ্টা করে গেছেন। সেই বিচারের ভার জনগণ এবং ইতিহাসের ওপর। আপনিও পরিবারের সদস্যদের সংগ্রাম করার জন্য উদ্বুদ্ধ করবেন। কৃত্রিম নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা না করাই ভালো। এতে জনমনে ক্ষোভ তৈরি হতে পারে।
৭। দেখুন, আপনাকে এত কথা বলার আমার কোনো ব্যক্তিগত প্রয়োজন নেই। যেহেতু আপনি আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী এবং পাবলিক ফিগার, সেহেতু আপনাকে সমালোচনা/আলোচনা করার অধিকার সবারই আছে। বিশেষ করে গণঅভ্যুত্থানের পর সবাই নতুন কিছু আশা করে।
৮। কথায় এবং কাজে মিল থাকা একটি বড় যোগ্যতা। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আপনার সরকার প্রতিশ্রুত পদ্ধতি থেকে বিচ্যুত হয়েছে। আপনাদের প্রস্তাবিত গণভোট আপনারাই অমান্য করছেন। এতে আপনার ব্যক্তিত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিষয়টি ভেবে দেখার অনুরোধ করছি।
৯। আমরা সবসময় ভালো কাজের পক্ষে। জনবিরোধী কাজের বিপক্ষে। আপনি ভালো থাকুন; সুস্থ থাকুন। এই প্রত্যাশায়।













































