
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক এবং কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের এমপি হাসনাত আবদুল্লাহ সংসদে বড় বড় কথা বললেও ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসন করছেন বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
পহেলা বৈশাখের দিন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এম মনজুর আলমের বাসভবনে উপস্থিত হন হাসনাত। এ বিষয়ে প্রশ্ন তুলেন চট্টগ্রামের বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। হাসনাতকে মনজুর আলমের উত্তর কাট্টলীর বাসভবনের সামনে ১ ঘণ্টার মতো অবরুদ্ধ করে রাখেন তারা। তাকে ‘জুলাই গাদ্দার’ বলেও অভিহিত করেন উপস্থিত কেউ কেউ।
হাসনাতের উপস্থিতি প্রসঙ্গে শাহাদাত হোসেন বলেন, হাসনাত আবদুল্লাহরা সংসদে ফ্যাসিস্ট বা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে লম্বা-লম্বা কথা বললেও বাস্তবে তারা নিজেদের স্বার্থে সেই ফ্যাসিস্টদেরই পুনর্বাসন করছেন। ঢাকা থেকে উড়ে এসে মনজুর আলমের বাসভবনে হাসনাত আবদুল্লাহর দেখা করার বিষয়টি তারই প্রমাণ বলে মন্তব্য করেন চসিক মেয়র।
সাবেক মেয়র এম মনজুর আলম বুধবার যুগান্তরকে বলেন, নববর্ষের প্রথম দিন মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে হাসনাত আবদুল্লাহ আমাকে ফোনে কল করেন। তিনি দুপুরে চট্টগ্রাম আসবেন এবং আমার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন বলে জানান। আমি তাকে আমার বাসায় লাঞ্চ করার জন্য বলি। যথারীতি তিনি আড়াইটার দিকে আমার বাসায় আসেন। কুশল বিনিময়ের পর লাঞ্চ করেন। রাজনৈতিক তেমন কোনো বিষয় নিয়ে আলাপ হয়নি। এনসিপি থেকে আমাকে মেয়র নির্বাচন করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়নি। আমিও এনসিপির বিষয়ে আগ্রহী না। তবে হাসনাত আমাকে বলেছেন, ‘আপনাকে চট্টগ্রামের মানুষ ভালো জানেন। আপনি মুরুব্বি মানুষ। আমাদের কর্মকাণ্ডে আপনার সহযোগিতা চাই। এটুকুই।’
তিনি বলেন, একজন রাজনৈতিক নেতা বা এমপি যদি সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে চান, তাকে না করার সুযোগ কোথায়। কিন্তু তার আগমন ঘিরে আমার বাসার সামনে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে, সেটা ঠিক হয়নি। নিশ্চয় এর পেছনে কারও কোনো খারাপ উদ্দেশ্য আছে বলে আমি মনে করি।
জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক জোবাইরুল আরিফ যুগান্তরকে বলেন, হাসনাত আবদুল্লাহ ব্যক্তিগত সফরে চট্টগ্রাম এসেছিলেন। শুধু মনজুর আলমের সঙ্গে নয়; আরও অনেকের সঙ্গে তিনি দেখা করেছেন। মনজুর আলমের বাসভবনের সামনে তাকে অবরুদ্ধ করে হেনস্তা করার পেছনে ডা. শাহাদাতের হাত আছে বলে সন্দেহ করছি। জোবাইরুল আরও বলেন, ৫ মাস আগেও যেখানে মনজুর আলমকে নিয়ে একসঙ্গে বিএনপির কর্মসূচি পালন করেছেন ডা. শাহাদাত; সেখানে ৫ মাস পর এসে তিনি (মনজুর আলম) আওয়ামী লীগ বা ফ্যাসিস্ট হয়ে গেলেন কীভাবে।












































