প্রচ্ছদ জাতীয় বাঘ বুড়ো হলেও শি’কার ভুলে যায় না, প্রমাণ হয়ে

বাঘ বুড়ো হলেও শি’কার ভুলে যায় না, প্রমাণ হয়ে

ক্ষমতার কোনো সরকারি পদে না থেকেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের দীর্ঘদিনের কাজ ও ‘সামাজিক ব্যবসা’র ধারণা নিয়ে বিশ্বমঞ্চে উপস্থিত হয়েছেন নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত হয় ‘Social Business, Youth and Technology’ শীর্ষক একটি উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্ট। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, এটি ছিল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সময় আয়োজিত এই ধারার ১১তম আয়োজন। অনুষ্ঠানে সামাজিক ব্যবসা, তরুণ নেতৃত্ব, প্রযুক্তি ও বৈশ্বিক উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়।

এই অনুষ্ঠানে ড. ইউনূসের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। জাতিসংঘের অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, ড. খলিলুর রহমান ২ জুন ২০২৬ ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হন এবং ৮ সেপ্টেম্বর থেকে দায়িত্ব পালন করছেন।

অনুষ্ঠানে ড. খলিলুর রহমান তার বক্তব্যে সামাজিক ব্যবসাকে দারিদ্র্য ও বৈষম্য মোকাবিলায় সম্ভাব্য একটি পথ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি ড. ইউনূসের ‘থ্রি জিরো’ ধারণার কথাও তুলে ধরেন—শূন্য নিট কার্বন নিঃসরণ, দারিদ্র্য দূরীকরণ এবং উদ্যোক্তাভিত্তিক কর্মসংস্থানের মাধ্যমে শূন্য বেকারত্বের লক্ষ্য।

একই সঙ্গে তরুণদের শুধু কর্মসূচির অংশগ্রহণকারী হিসেবে নয়, বরং নেতৃত্ব ও উদ্যোগ গ্রহণের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার ওপর জোর দেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে মানবকল্যাণে কাজে লাগানোর পাশাপাশি এর ন্যায়সংগত ও মানবকেন্দ্রিক ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি।

জাতিসংঘের অফিসিয়াল বিবরণে বলা হয়েছে, এবারের আয়োজনের মূল লক্ষ্য ছিল সামাজিক ব্যবসা, তরুণ নেতৃত্ব ও মানবকেন্দ্রিক প্রযুক্তির মাধ্যমে বৈশ্বিক উন্নয়নের বাস্তবসম্মত সমাধান নিয়ে আলোচনা করা। ২০২৬ সালের আয়োজনটি একই সঙ্গে ক্ষুদ্রঋণের ৫০ বছর এবং গ্রামীণ ব্যাংকের ৫০ বছর পূর্তির বিষয়টিও সামনে এনেছে।

ড. ইউনূসের দীর্ঘদিনের দর্শনের কেন্দ্রে রয়েছে ‘থ্রি জিরো’—দারিদ্র্যহীনতা, বেকারত্বহীনতা এবং শূন্য নিট কার্বন নিঃসরণের একটি পৃথিবীর ধারণা। জাতিসংঘের এই অনুষ্ঠানে সেই দর্শনই নতুন প্রজন্ম, সামাজিক ব্যবসা ও প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত করে আলোচনায় এসেছে।

ক্ষমতার চেয়ার বদলায়, দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হয়—কিন্তু দীর্ঘদিনের কাজ, ধারণা ও আন্তর্জাতিক পরিচিতি একজন ব্যক্তিকে আলোচনার কেন্দ্রে রাখতেই পারে।

জাতিসংঘের এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে ড. ইউনূস আবারও দেখালেন—আন্তর্জাতিক মঞ্চে তার সামাজিক ব্যবসার ধারণা এখনো আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।